কালো চুল ধরে রাখুন

ঢাকা: অকারণেই সাদা হায়ে যাচ্ছে মাথার চুল। বয়সের থেকেও বেশি বুড়ো লাগছে নিজেকে। কিছুটা ম্লান হতে বসেছে ব্যক্তিত্বও। আমাদের দেশে এমন হাজারো নারী-পুরুষ আছেন যারা অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যায় ভুগছেন।

ঘুম কম হওয়া, নিম্নমানের চুলের প্রশাধন ব্যবহার, অত্যাধিক পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, নিয়মিত যত্ন না নেয়া, ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, দুশ্চিন্তা করা, চুল শুকাতে মেশিন ব্যবহার সর্বপরি হরমোনের সমস্যায় এটি হতে পারে। আপনার চুল পাকার জন্য হয়তো এর মধ্যে কোনো একটি দায়ী। তাই আসুন চুল পাকার আগেই হই সচেতন। কারণ প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

১. হরিতকি, মেহেদি পাতার গুড়া, তেল, লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন লাগালে চুল পাকা কমে যাবে।

২. নারিকেল তেল গরম করে মাথার তালুতে ঘষে লাগিয়ে দিন। তাহলে চুল সঠিক মাত্রায় পুষ্টি পাবে।

৩. চুল পাকা রোধে মেহেদি পাতার গুড়া, ডিমের কুসুম, টক দইয়ের প্যাক লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।

৪. নিয়মিত সব দেশি ফল খেলে পাবেন যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান। যা চুলকে কালো রাখতে সাহায্য করে।

৫. চুলের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। চুলের ক্রিম, জেল বা কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন মাথার ত্বকে না লাগে। ত্বকে লাগলে চুল পড়া বা সাদা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৬. চুলের খুশকি রোধ করুন যতদ্রুত সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনি তুলসি পাতার গুড়া, নিম পাতার গুড়া, উষ্ণ গরম নারিকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার তালুতে ঘষে লাগিয়ে দিন। এক সপ্তাহে ইতিবাচক ফল পাবেন।

এ সমস্যা যদি তবু আপনার পিছু না ছাড়ে তবে ঘাবড়াবেন না। চলে যেতে পারেন সোজা হোমিওপ্যাথের কাছে। কারণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কুড়ির পর নারীর যৌনাবেদন কমে!

ঢাকা: নারীর যৌবন আর যৌনাবেদন নিয়ে কম গবেষণা হয়নি। এখনও চলছে চুলচেরা হিসাব নিকাশ। কোনো কোনো গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্য বয়সে নারী অধিক যৌন আবেদনময়ী হয়ে ওঠে। আবার কোনো গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে নারী পূর্ণ আবেদনময়ী থাকে ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে।

তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, কুড়ি বছর পার হলেই নাকি নারীর যৌন আবেদন কমতে থাকে। আর এমন কথা নাকি বিশ্বাস করেন অধিকাংশ পুরুষই।

কিউপিড নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা চালানো হয়। তবে গবেষণা প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, এ গবেষণা কেবল ওয়েবসাইট তেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই এর অমিল হতে পারে।

কোন বয়সী পুরুষ পছন্দ নারীর?

ঢাকা: সব পুরুষের মনে একটা প্রশ্ন সেই আদিকাল থেকেই বোধহয় ঘুরপাক খায়, আর তা হলো কোন বয়সী পুরুষকে নারীরা পছন্দ করে?

আসলে এ প্রশ্নের উত্তর বোধহয় নারীরাও জানে না। কারণ কম বয়সী নারীকে যেমন বাবার বয়সী লোকের প্রেমে পড়তে দেখা যায়, তেমনি ছেলের বয়সীর সঙ্গেও ঘর বাঁধতে দেখা যায় নারীদের।

তবে গড় পড়তা একটি হিসাব তো আছেই। তা হলো- নারী যখন তরুণী থাকে, তখন নিজের চেয়ে একটু বড় ছেলেকেই পছন্দ করে। কিন্তু মাঝ বয়সে এই পছন্দের বিষয়টি পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন নারী কম বয়সী ছেলেদেরই পছন্দ করে।

এক জরিপের ফলাফলে জানা গেছে, তরুণীরা নিজের চেয়ে তিন-চার বছর বেশি বয়সী পুরুষ পছন্দ করে। আর ৪৬ থেকে ৪৮ বছর বয়সী নারীরা নিজেদের চেয়ে প্রায় আট বছর কম বয়সী পুরুষকে পছন্দ করেন।

৫ বছরেই মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্নে মুহিত

শনিবার চাঁদপুরের কচুয়ায় ড. মনসুরউদ্দীন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আশার কথা জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ  বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পুনরায় পাওয়ার আশাবাদও প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে সরকারের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তা অর্জনে জনগণের সহযোগিতা আশা করেন মুহিত।

“বর্তমান সরকারের টার্গেট বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। মহৎ উদ্দেশ্য থাকলে পাঁচ বছরে এই দেশের জনগণই এর জন্য সহযোগিতা করবে।”

“আমাদের সৌভাগ্য, কৃষক-শ্রমিকদের দক্ষতা-পরিশ্রমে দেশ আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে।”

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি করে যুক্ত করার ওপর জোর দেন অর্থমন্ত্রী।

“আমাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ, এটাকে ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। আর সেজন্য এগিয়ে আসতে হবে নারীদের।”

“এদেশের ৫০ শতাংশ নারী। তাই নারীরা পেছনে পড়ে থাকলে বাকি ৫০ শতাংশ পুরুষ কিছুই করতে পারবে না।”

‘মেনোপজ’ মানেই শেষ নয়!

এ সময় শারীরিক নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন নারীরা। রাতে ঠিক মতো ঘুম না হওয়া, কাজে আগের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ‌না থাকা আর অবসাদ তো আছেই। শরীরের এমন পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে হিমশিম খান বেশিরভাগ নারী। মনে করেন ‘এইতো বুড়ি হয়ে গেলাম, জীবন এখানেই শেষ’। ‘মেনোপজ’ মানে কি আসলেও জীবনের অন্তিম মোড়! এক সময় এই অবস্থাকে অনেকটা সে দৃষ্টিতেই দেখা হতো। তবে আধুনিক নারীদের তো আর মেনোপজের কারণে প্রতিদিনের কাজ ফেলে বিলাপ করার সময় নেই। তাই এ সময়ের শারীরিক পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের।

বিবাহবিচ্ছেদের পরামর্শে যা বলবেন না

শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন মুশফিকবাহিনী, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন মুশফিক

 

mushfiqur_brithday_17484ঢাকা অফিস : ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যর্থ একটি সফর শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। শনিবার সকালে মুশফিকবাহিনী দেশে ফিরেন।
বিমানবন্দরে নেমে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম দলের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কিছু সময় ভাল খেলেছি। আবার কিছু সময় খারাপ খেলেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের থেকে ভাল খেলেছে। আর এটা বেশ কঠিন যে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা।
মুশফিক আরো বলেন, একটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে
জিততে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পুরো সময় ভাল খেলতে হবে। টেস্টে বা ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে আমাদের আরো ভাল করতে হবে। বোলিংয়ে যখন ব্রেক থ্রু দরকার তখন আমরা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছি।
নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে কি ভাবছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মুশফিক বলেন, বোর্ড চাইলে দুই ফরম্যাটে পৃথক অধিনায়ক করতে পারে। আর এ সিদ্ধান্তটা বোর্ডকেই নিতে হবে। তিনি আরো জানান, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে তিনি বোর্ডের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন ।
ক্যারিবীয় সফরে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। এছাড়া ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় লাল-সবুজরা।
ভ্রমণ ক্লান্তিতে আর শূন্য হাতে দেশে ফেরা ক্রিকেটারদের বিমান বন্দরে এ সময় বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

রোববার সকাল থেকে জামায়াতের হরতাল

Hartal_pic_new_216527030চট্টগ্রাম অফিস : মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশে ডাকা জামায়াতের ৪৮ ঘণ্টার হরতালের শেষ দফা শুরু হবে রোববার সকাল ছয়টা থেকে। চলবে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত।
বুধবার এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণার পর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।
প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালন করে জামায়াত।
বুধবার সকালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা সাঈদীর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায়ে সাজা কমিয়ে তাকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের পূর্নাঙ্গ কমিটির জন্য প্রার্থী ৪৮৬ জন. ফরম বাণিজ্যে আদায় করেছে আড়াই লাখ টাকা

 

images-20চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ৮১ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটির জন্য প্রার্থী ৪৮৬ জন। ১১ সদস্যের মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করতে ৪৮৬ সদস্যের কাছ থেকে ফরম বাণিজ্যের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে প্রায় আড়াইলাখ টাকা।
গঠনতন্ত্র না মেনে সদস্য ফরম বিক্রির মাধ্যমে বাণিজ্য কারায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চরম ভাবে ক্ষুদ্ধ।
মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে ৮১‘ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে প্রতি ফরমে ৫শ’ টাকার বিনিময়ে। গত শনিবার দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন থেকে ছাত্রদলের নেতা হতে ইচ্ছুক তরুণ ও যুবকেরা আবেদনপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন। মামলা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে নেতৃত্বের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম বিক্রি হয়েছে ৪৮৬টি। প্রতিটি ফরম থেকে ৫শ’ টাকা করে আয় হয়েছে ২লাখ ৪৩ হাজার টাকা। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছ থেকে ফরম মূল্য ৫শ’ টাকা আদায় নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে নগর ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ফরম মুল্য কমানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু তারপরও নগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এবং সহ সভাপতি (ফরম বিতরণ কমিটির আহবায়ক) ফরম মূল্য কমাননি।
ছাত্রদলের ফরম বাণিজ্য নিয়ে চরম ভাবে নাখোশ বিএনপি, যুবদল এবং খোদ ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটির মধ্যে ৪/৫ জন সিনিয়র নেতা।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদস্য ফরমের নামে ৫শ’ নেয়ার খবর শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি মঞ্জুর আলম মঞ্জু। তিনি গতকাল রাতে জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ফরমের মূল্য যেখানে ৫শ” টাকা নেয় না সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রকমিটি কেমন করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা ফরম মূল্য নেয়া হচ্ছে সেটা বোধগম্য নয়। কেন্দ্রীয় কমিটি এই বিষয়টি জানত না। জানার পর তাদেরকে এটি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের এটা করার একমাত্র কারণ হলো তারা বারবার কমিটি করবে করবে বলেও করতে পারেনি। সেই দিকে ব্যর্থ হয়ে এখন কমিটি করবে বলে সেই ব্যর্থতাকে অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, একজন ছাত্র ৫শ’ টাকা কিভাবে দিবে।
নগর ছাত্রদল কমিটির নেতারা গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সংগঠনের কর্মীদের কাছে ৫০০ টাকার বিনিময়ে আবেদন ফরম আহবান করছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সম্পাদক এসএম সালাউদ্দিন। তিনি জানান, মহানগর কমিটি করবে বলে আবেদন ফরম আহবান করে প্রতি ফরমের সাথে ৫শ’ টাকা করে নেয়া গঠনন্ত্র বিরোধী। গঠনতন্ত্রের কোথাও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ফরম মূল্য ৫শ’ টাকা দিতে হবে এরকম লেখা নেই। ফরম মূল্য তারা ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত রাখতে পারতো। এটা হলে তারা ২০ হাজারের উপরে সদস্য পেত। এখন তো আমার মনে হয় ২শ’ এর বেশি পায়নি। এই কার্যক্রম মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারেণ সম্পাদক মিলে করেছেন। তারা যদি মূল দলের-বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ নিয়ে করতো তাহলে ভালো হতো।
ফরম বিক্রির টাকা ছাত্ররা স্বউদ্যোগে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু। তিনি জানান, ফরম বিক্রির ৫শ’ টাকা দিয়ে আমার একটি ফান্ড গঠন গঠন করে আমাদের যেসব নেতাকর্মী মামলা-হামলার শিকার হবে তাদের মামলা পরিচালনা করাব। দলীয় কার্যালয়ে আমরা একটি লাইব্রেরী করাব। গরীর মেধাবী ছাত্রদের বই কিনে দিব। হামলায় আহত কর্মীদের চিকিৎসা কারাব।
এই পর্যন্ত ৪৮৬ জন নেতাকর্মী ফরম কিনেছেন বলে জানিয়েছেন বেলায়েত হোসেন বুলু।
তবে এদিকে মহানগর ছাত্রদলের নেতা হতে আগ্রহী চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি এম ফিরোজ খান অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকদিন ধরে থানায় রাজনীতি করছি। এবার মহানগরীর রাজনীতি করবো ভেবে পত্রিকায় নিউজ দেখে নাসিমন ভবনে ফরম নিতে গেলামঅ গিয়ে দেখি প্রতি ফরমে ৫শ’ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। আমি লজ্জায় পড়ে দিয়েছি। তাদেরকে জিজ্ঞস করেছি এতো টাকা কিসের জন্য তারা উত্তন দিতে পারেননি। আমার ফরম নিয়েছি, তবে জমা দিইনি।
নেতা হতে আগ্রহী একাধিক তরুণ জানান, আবেদনের জন্য ৫০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে প্রকাশিত একটি বই দেওয়া হচ্ছে। আবেদন ফরমে সংশি¬ষ্টের জীবনবৃত্তান্ত এবং মামলার সংখ্যা উলে¬খ করতে বলা হয়েছে। গত রোববার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ২১৩টি ফরম বিক্রি করা হয়েছে।
কেন্দ্র থেকে গত বছরের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গাজী মোহাম্মদ সিরাজউল¬াহকে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করে। এই কমিটি ঘোষণার পর চট্টগ্রামে ছাত্রদলের গ্র“পিং বিএনপি পর্যন্ত গড়ায়।
ছাত্রদলের এই অন্তঃকোন্দল তীব্রতর হয়ে প্রায় মাস তিন মাস পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকে আহত হন। এখনো সেই বিরোধ মেটেনি। এ কারণে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২১ এর (খ) ধারায় সংগঠনের তহবিল উৎসের খাত হিসেবে সদস্য-সদস্যাদের বাৎসরিক নিয়মিত চাঁদা, শুভাকাঙক্ষীদের অনুদান বা সাহায্য এবং মূল সংগঠনের সহযোগিতার কথা বলা হলেও একই অনুচ্ছেদের (ক) ধারায় বলা হয়েছে, যথাযোগ্য রশিদ ছাড়া এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত ছাড়া দলের নামে কোনো চাঁদা সংগ্রহ করা যাবে না।
কিন্তু এখানে গঠনতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশ কোনটাই মানা হচ্ছেনা।

রেলের জায়গায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে কোটি টাকা আদায় হাতিয়ে নিচ্ছে

 

04চট্টগ্রাম অফিস : রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিপুল পরিমান জায়গায় রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ ভাবে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা আদায় হাতিয়ে নিচ্ছে। নিজেদের থাকার নামে বাসা-বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে এর চারপাশের জায়গায় বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রেল মন্ত্রণালয়ে। রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দখলে প্রায় দেড় হাজারের অধিক বাসা-বাড়ি রয়েছে। রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে যে সব বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শীঘ্রই উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কতিপয় প্রভাবশালী কর্মকর্তা-কর্মচারী চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ডেবার পাড়, ঝাউতলা আমবাগান, সিআরবি, কদমতলী, আইসফ্যাক্টরী রোড, পাহাড়তলী জোড় ডেবা ও বেলুয়ার দিঘির পাড় সহ বিভিন্ন স্থানে রেল বিভাগের বিপুল পরিমান জায়গা দখল করে শতশত বাসা-বাড়ি তৈরী করেছে।
রেলের জায়গায় রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ ভাবে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসলেও বছরের পর বছর তা উচ্ছেদের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে অবৈধভাবে যে সব বাসা-বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন তা শীঘ্রই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন জানান, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেলের জায়গায় যে সব অবৈধ বাসা-বাড়ি তৈরী করে ভাড়া দিয়েছে তা শীঘ্রই উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবো। এতো দিন এই বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি-সম্প্রতি মন্ত্রণালয় এই সব বাসা-বাড়ি উচ্ছেদের জন্য বলার পর আমরা এখন উদ্যোগ নিব।
ঝাউতলা আম বাগান এলাকার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেলের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনী এবং পাহাড়তলী আমবাগান রেলওয়ে কলোনীসহ বিভিন্ন জায়গায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বাসভবন দখল করে তাতে বহিরাগত ভাড়াটিয়া বসিয়ে বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সরকারের খাতায় এ পর্যন্ত এক টাকাও জমা করেনি।
অন্যদিকে এসব বাসায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ লাগিয়ে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও সরকারি কোষাগার থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ দেখিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ লাগিয়ে মিটার বিহীন গ্যাসের বিল দুর্নীতির মাধ্যমে অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছে। এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতটাই প্রভাবশালী যে রেলমন্ত্রীর নির্দেশ পর্যন্ত তারা মানে না। মন্ত্রী নির্দেশ অমান্য করে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের শতশত একর ভূমি অবৈধ দখলের মাধ্যমে লুটপাট করে খাচ্ছে।
অধিকাংশ বাসা ভাড়ায় খাটিয়ে প্রতিবছর কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রেলের এই প্রভাবশালী চক্রটি। এদের যাদের অধিকাংশই রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অনেক কর্মচারী জানান, রেলের সরকার দলীয় এবং বিরোধী দলীয় শ্রমিক সংগঠনের অনুসারীরা সুবিধা ভোগ করেন।