দ্বিতীয় ধাপে আ’লীগের আরও ১২২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

দ্বিতীয় ধাপে আ’লীগের আরও ১২২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত আরও ১২২ জনের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম ঘোষণা করেন।

শনিবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

ওবায়দুল কাদে বলেন, এটি তালিকা প্রকাশের দ্বিতীয় ধাপ। ১৯ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১২৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১৮ মার্চ। তার আগে ১০ মার্চ ৮৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের উপজেলা নির্বাচন।

দ্বিতীয় ধাপে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হল–

রংপুর বিভাগ-
ঠাকুরগাঁও জেলা সদরে অরুণাংশু দত্ত টিটো, পীরগঞ্জে আখতারুল ইসলাম, রানীশংকৈলে সাইদুল হক, হরিপুরে জিয়াউল হাসান ও বালিয়াডাঙ্গীতে আহসান হাবীব বুলবুল।

রংপুরের পীরগাছায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন, তারাগঞ্জে আনিছুর রহমান, বদরগঞ্জে ফজলে রাব্বি, কাউনিয়া আনোয়ারুল ইসলাম, পীরগঞ্জে নূর মোহাম্মদ মণ্ডল ও গঙ্গাচড়ায় রুহুল আমিন।

গাইবান্ধা জেলা সদরে শাহ সরোয়ার কবীর, সাদুল্লাপুরে সাহারিয়া খাঁন, গোবিন্দগঞ্জে আবদুল লতিফ প্রধান, ফুলছড়িতে জিএম সেলিম পারভেজ, সাঘাটায় এমএম সামশীল আরেফিন, পলাশবাড়ীতে একে মোকছেদ চৌধুরী।

দিনাজপুর সদরে ইমদাদ সরকার, কাহারোল একেএম ফারুক, বিরল একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, বোচাগঞ্জ মোহাম্মদ আফসার আলী, চিরিরবন্দরে আহসানুল হক, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান মিল্টন, বিরামপুরে পারভেজ কবির, হাকিমপুরে হারুন-অর-রশিদ, বীরগঞ্জে মো. আমিনুল ইসলাম, নবাবগঞ্জে আতাউর রহমান, পার্বতীপুরে হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, খানসামায় শফিউল আযম চৌধুরী ও ঘোড়াঘাটে আবদুর রাফে খন্দকার।

রাজশাহী বিভাগ-
বগুড়া সদরে আবু সুফিয়ান, নন্দীগ্রামে রেজাউল আশরাফ, সারিয়াকান্দিতে মোহাম্মদ মনজিল আলী সরকার, আদমদীঘিতে সিরাজুল আলম রাজু, দুপচাঁচিয়ায় মিজানুর রহমান খান, ধুনটে আবদুল হাই খোকন, শাজাহানপুরে সোহরাব হোসেন, শেরপুরে মজিবুর রহমার মজনু, শিবগঞ্জে আজিজুল হক, কাহালুতে আবদুল মান্নান, গাবতলীতে এএইচ আজম খান ও সোনাতলায় মিনহাদুজ্জামান লিটন।

নওগাঁর সদরে রফিকুল ইসলাম (রফিক), আত্রাইয়ে এবাদুর রহমান প্রামাণিক, নিয়ামতপুরে ফরিদ আহমদ, সান্তাহারে শামসুল আলম চৌধুরী, পোরশায় আনোয়ারুল ইসলাম, ধামইরহাটে আজহার আলী, বদলগাছিতে আবু খালেদ বুলু, রানীনগরে আনোয়ার হোসেন, মহাদেবপুরে আহসান হাবীব, পত্নীতলায় আবদুল গাফফার, মান্দায় জসীম উদ্দীন।

পাবনা সদরে মোশাররেফ হোসেন, আটঘরিয়ায় মোশাররফ হোসেন, বেড়ায় আবদুল কাদের, ভাঙ্গুড়ায় বাকি বিল্লাহ, চাটমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সাকো, ঈশ্বরদীতে নুরুজ্জামান বিশ্বাস, সাঁথিয়ায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সুজানগরে শাহীনুজ্জামান ও ফরিদপুরে খলিলুর রহমান সরকার।

ঢাকা বিভাগ-
ফরিদপুর সদরে আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, বোয়ালমারীতে এসএম মোশাররফ হোসেন, চরভদ্রাসনে মো. কাউসার, সদরপুরে এএইচএম শায়েদীন গামাল লিপু, সালথায় দেলোয়ার হোসেন, আলফাডাঙ্গায় এসএম আকরাম হোসেন, মধুখালীতে মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু, নগরকান্দায় মনিরুজ্জামান সরদার ও ভাঙ্গায় জাকির হোসেন মিয়া।

সিলেট বিভাগ-
সিলেট সদরে আশফাক আহমেদ, বিশ্বনাথে নুনু মিয়া, দক্ষিণ সুরমায় আবু জাহিদ, বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম, গোয়াইনঘাটে গোলাম কিবরিয়া হেলাল, জৈন্তাপুরে লিয়াকত আলী, কানাইঘাটে মোমিন চৌধুরী, জকিগঞ্জে লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, গোলাপগঞ্জে ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও বিয়ানীবাজারে আতাউর রহমান খান মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার সদরে কামাল হোসেন, বড়লেখায় রফিকুল ইসলাম, জুড়ীতে গুলশান আরা মিলি, কুলাউড়ায় কামরুল ইসলাম, রাজনগরে আকছির খান, কমলগঞ্জে রফিকুর রহমান ও শ্রীমঙ্গলে রণবীর কুমার দেব।

চট্টগ্রাম বিভাগ-
নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাহবুব মোর্শেদ, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে শাহাজাহান, সীতাকুণ্ডে এমএম আল মামুন, রাঙ্গুনিয়ায় খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফটিকছড়িতে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, মিরসরাইয়ে জসিম উদ্দীন, রাউজানে একেএম এহেসানুল হায়দার চৌধুরী ও হাটহাজারীতে এসএম রাশেদুল আলম।

রাঙ্গামাটি সদরে শহীদুজ্জামান মহসীন, কাউখালীতে শামসুদ্দোহা চৌধুরী, রাজস্থলীতে উবাজ মার্মা, লংগদুতে আবদুল বারেক সরকার, বিলাইছড়িতে জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা, কাপ্তাইয়ে মফিজুল হক, বরকলে সাবির কুমার চাকমা ও জুরাছড়িতে রূপ কুমার চাকমা ও বাঘাইছড়িতে ফয়েজ আহমেদ।

খাগড়াছড়ি সদরে শানে আলম, মানিকছড়িতে জয়লাল আবেদীন, লক্ষ্মীছড়িতে বাবুল চৌধুরী, দীঘিনালায় মো. কাশেম, মহালছড়িতে ক্যজাই মার্মা, পানছড়িতে বিজয় কুমার দেব, মাটিরাঙ্গায় রফিকুল ইসলাম, রামগড়ে বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারী।

বান্দরবান সদরে এ কে এম জাহাঙ্গীর, রোয়াংছড়িতে চবাইমং মারমা, আলীকদমে জামাল উদ্দীন, থানছিতে খোয়াই হলা মং মারমা, লামায় মো. ইসমাইল, রুমায় উহলাচিং মার্মা, লাইক্ষ্যংছড়িতে মোহাম্মদ শফিউল্লাহ। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।

৮৭ উপজেলায় আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

৮৭ উপজেলায় আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

চট্টগ্রাম অফিস: প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় এসব প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।

শনিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা:

রংপুর
জেলা: পঞ্চগড়- পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহামুদুর রহমান, দেবীগঞ্জে হাসনাৎ জামান চৌধুরী (জর্জ), বোদায় ফারুক আলম, আটোয়ারি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম।

নীলফামারী
নীলফামারী সদর উপজেলায় শাহিদ মাহমুদ, ডোমারে তোফায়েল আহমেদ, ডিমলায় তবিবুল ইসলাম (মুক্তিযোদ্ধা), সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, কিশোরগঞ্জ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাবুল, জলঢাকা চেয়ারম্যান আনছার আলী (মিন্টু)।

লালমনিরহাট
লালমনিরহাট সদরে নজরুল হক পটোয়ারী ভোলা, পাটগ্রামে রুহুল আমিন বাবুল, হাতীবান্ধায় লিয়াকত হোসেন, আদিতমারীতে রফিকুল আলম, কালীগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।

কুড়িগ্রাম
নাগেশ্বরীতে মোস্তফা জামান, উলিপুরে গোলাম হোসেন মন্টু, চিলমারীতে শওকত আলী সরকার, রৌমারীতে মজিবুর রহমান, ভুরুঙ্গামারীতে নুরুন্নবী চৌধুরী, রাজারহাটে আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান, রাজিবপুরে শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম সদরে আমান উদ্দিন আহমেদ।

জয়পুরহাট
জয়পুরহাট সদরে এস এম সোলায়মান আলী, পাঁচবিবিতে মনিরুল শহিদ মণ্ডল, আক্কেলপুরে আব্দুস সালাম আকন্দ, কালাইয়ে মিনফুজুর রহমান, ক্ষেতলালে মোস্তাকিম মণ্ডল।

রাজশাহী
পবায় মুনসুর রহমান, তানোরে লুৎফর হায়দার রশীদ, পুঠিয়া জি এম হিরা বাচ্চু, দূর্গাপুরে নজরুল ইসলাম, বাঘায় লায়েব উদ্দীন, গোদাগাড়ীতে জাহাঙ্গীর আলম, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, মোহনপুরে আব্দুস সালাম, বাগমারায় অনিল কুমার সরকার।

নাটোর
নাটোর সদরে শরিফুল ইসলাম রমজান, গুরুদাসপুরে জাহিদুল ইসলাম, বাগাতিপাড়ায় সেকেন্দার রহমান, সিংড়ায় শফিকুল ইসলাম, বড়াইগ্রামে সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, লালপুরে ইসাহাক আলী।

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ সদরে মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, চৌহালীতে ফারুক হোসেন, কাজীপুরে খলিলুর রহমান সিরাজী, রায়গঞ্জে ইমরুল হোসেন তাং, উল্লাপাড়ায় শফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুরে আজাদ রহমান, বেলকুচিতে আলী আকন্দ, তাড়াশে সঞ্জিত কুমার কর্মকার।

ময়মনসিংহ
জামালপুর সদরে মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বকশীগঞ্জে এ কে এম সাইফুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জে আবুল কালাম আজাদ, মেলান্দহে কামরুজ্জামান, মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান বেলাল, সরিষাবাড়ীতে গিয়াস উদ্দিন পাঠান, ইসলামপুরে এস এম জামাল আব্দুন নাছের।

নেত্রকোণা
নেত্রকোণা সদরে তফসির উদ্দিন খান, খালিয়াজুরীতে গোলাম কিবরিয়ার জব্বার, দূর্গাপুরে মোহাম্মদ এমদাদুল হক খান, মোহনগঞ্জে শহীদ ইকবাল, বারহাট্টায় গোলাম রসুল তালুকদার, কলমাকান্দায় আব্দুল খালেক, মদনে হাবিবুর রহমান, পূর্বধলায় জাহিদুল ইসলাম সুজন, কেন্দুয়ায় নুরুল ইসলাম।

হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ সদরে মশিউর রহমান শামীম, নবীগঞ্জে আলমগীর চৌধুরী, লাখাইয়ে মুশফিউল আলম আজাদ, বাহুবলে আব্দুল হাই, মাধবপুরে আতিকুর রহমান, চুনারুঘাটে আব্দুল কাদির লস্কর, আজমিরীগঞ্জে মর্ত্তুজা হাসান, বানিয়াচংয়ে আবুল কাশেম চৌধুরী

সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ সদরে খায়রুল হুদা, জামালগঞ্জে ইউসুফ আল আজাদ, শাল্লায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বিশ্বম্ভরপুরে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ধর্মপাশায় শামীম আহমেদ মুরাদ, ছাতকে ফজলুর রহমান, দোয়ারাবাজারে আব্দুর রহিম, দিরাইয়ে প্রদীপ রায়, তাহিরপুরে করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবলু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আবুল কালাম।

দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন ১৮ মার্চ

দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন ১৮ মার্চ

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ মার্চ। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২৯টি উপজেলায় এ নির্বান অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব (ইসি) হেলালুদ্দীন আহমদ।

ইসি সচিব বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি। মনোয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি। ভোট গ্রহণ ১৮ মার্চ সোমবার।

সচিব বলেন, এই পর্যায়ে ৫টি বিভাগের ১৭টি জেলার মোট ১২৯টি উপজেলায় ভোট হবে।

সচিব বলেন, এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসাররা হলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসার।

তিনি আরও বলেন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার হলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচনী অফিসার এর মধ্যে হতে একজন। তবে প্রত্যেক উপজেলায় দুইজন করে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইভিএমের জন্য নিতিমালা করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ভেটিং হয়ে আসলে কমিশন সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।

দ্বিতীয় ধাপে ভোটের সম্ভাব্য উপজেলা

ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ, হরিপুর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর সদর, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, সদর, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, কাহালু, গাবতলী, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, রানীনগর, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা, বদলগাছী, নওগাঁ সদর, আত্রাই, পোরশা, ধামইরহাট, মান্দা, সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর, সিংড়া, কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, মিরপুর, খোকসা, দৌলতপুর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, যশোর সদর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, দীঘলিয়া, কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, রুপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর, গাংনী, রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, ভাঙ্গা, হাতিয়া, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই তিনজন শিক্ষকের এমপিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন-ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডিকে প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌস, বেইলি রোড ক্যাম্পাসের প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শিক্ষক হাসনা হেনাকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তিন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণের কথা বলেন তিনি।

এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন অরিত্রীর বাবা।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুরে শান্তিনগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল অরিত্রীর সামনে তার বাবাকে অপমান করেন। এ ঘটনায় সে আত্মহত্যা করেছে। পরে সোমবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা নাজনীন ফেরদৌস ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অরিত্রীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান। এ সময় অরিত্রীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে তার ওপর চড়াও হন। এ সময় তিনি টিসি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বীর প্রতীক তারামন বিবি আর নেই

বীর প্রতীক তারামন বিবি আর নেই

নিউজ ডেস্ক: একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বীরকন্যা ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাতে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়ায় নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মরহুমার ছেলে আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১ সপ্তাহ আগে তাকে রাজিবপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বাড়িতেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পরে রাত দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাষ ত্যাগ করেন।

তারামন বিবির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর প্রতীক তারামন বিবিকে দাফন করা হবে বলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানিয়েছেন। এর আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

বীর প্রতীক তারামন বিবির বাড়ি কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে। বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মা কুলসুম বিবি। তার স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন তিনি। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরী তারামন বিবিকে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিলেন রান্নার কাজে সহযোগিতার জন্য। পরে সেখানে তিনি অস্ত্র চালনা শেখেন।

একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে সেখানে হানা দেয়। তারামন বিবিও সেদিন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে লড়াই করেন এই বীর নারী। দুর্ধর্ষ সেই কিশোরীর অসীম সাহসিকতার জন্য বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তা তুলে দিতে ২২ বছর লেগে যায়।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন। নারী সংগঠনগুলো তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই বছর ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

১২১ এএসপিকে বদলি

১২১ এএসপিকে বদলি

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ১২১ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ২৮ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মতিক্রমে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে তাদের নামের পাশে উল্লিখিত পদে/স্থানে নিয়োগ/বদলি করা হলো।

সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিস্টে’র উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার

নিউজ ডেস্ক  ::           বিগত কিছুদিন ধরে একের পর এক মিথ্যা সংবাদ দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিদেশি গণমাধ্যমগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তার-ই অংশ হিসেবে ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে নমনীয় হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল’ শিরোনামে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এশিয়া সংস্করণে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গত ৮ নভেম্বর।

এই প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়েছে— ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেই চড়াও হননি, বরং আরও অনেক শত্রু তৈরি করেছেন। শেখ হাসিনা তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন।’ প্রতিবেদনের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশক পর আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার বাবার বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের বিচার করছে।’

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের এই দুটি অংশসহ পুরো বিষয়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেদনটিতে যদিও আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এর কিছু অংশে দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘যেকোনও হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। এটা সংবিধানের মৌলিক বিষয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। সেখানে যদি সাধারণ কাউকেও হত্যা করা হয়, সেটারও বিচার হতে হবে।

আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবে না, এই যে ইনডেমনিটি নামে কালো আইন করা হয়েছিল, সেটা ছিল সংবিধানবিরোধী। এটা সংবিধানকে কলঙ্কিত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সেই সংবিধানকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটা সংস্কৃতি চালু করেছেন।

বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি দমন করেছেন। সংবিধানকে সমুন্নত রেখেই তিনি এটা করেছেন। বিদেশি পত্র-পত্রিকায় কী লিখলো সেটাতো বড় কথা নয়, আমরা এই দেশের নাগরিক হিসেবে কীভাবে দেখছি, সেটা হচ্ছে বিষয়। অন্যায় করলে বিচার হবে।

তারা আবার এটাও বলেছে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতি অভাবনীয় এবং পুরো এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ উন্নয়নের সূচকে এগিয়ে আছে।’ জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারীদের বিচার করা হয়নি। বিচার করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের। এজন্য সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়নি। কোনও ট্রাইবুনালও করা হয়নি। দেশের প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার করা হয়েছে। এসব রিপোর্ট আমাদের দেশের কিছু সংস্থা ও সুশীল নামের ব্যক্তি আছেন যারা তৈরি করে তাদের দেন। যে রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। এসব রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘এই রিপোর্ট যিনি লিখেছেন তিনি হয়তো আসল বিষয়টি জানেন না। এসব তথ্যের কোনও সত্যতা নেই। যারা এই তথ্য দিয়েছে তারা ভুল তথ্য দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা যাবে না বলে যে আইন করা হয়েছিল সেটা ছিল সংবিধানপরিপন্থী।

ইনডেমনিটি আইন করে হত্যাকারীদের বিচার রহিত করেছিল, সেই আইন বাতিল করে বিচারকাজ শুরু করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচার করা যাবে না— বিশ্বের কোনও দেশেই এমন আইন করার নজির নেই। এটা তো চরম একটা অসভ্যতা ও বর্বরতার কাজ করা হয়েছিল।

যে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। আইন করে বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। এই বিচারকাজ করে জাতিকে কলঙ্গমুক্ত করা হয়েছে। জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়েছে।’ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা বলেন, ‘যারা এ ধরনের রিপোর্ট লিখে থাকেন তারা হয়তো না বুঝে করেন, না হয় কারও পক্ষ হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লেখেন।’

এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নীতিতে পড়ে কিনা, সেটাও ভাবার বিষয় বলে মন্তব্য করেন মাহবুবউল আলম হানিফ। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের শেষ অংশে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেই চড়াও হননি, বরং আরও অনেক শত্রু তৈরি করেছেন।

একটি জনবহুল রেস্তোরাঁয় ফিসফিস করে মধ্যবয়সী এক লেখক বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন।’ এতে করে বোঝা যায় সমাজে বিষয়টি নিয়ে কী পরিমাণ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশক পর আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে তার বাবা বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতাকারীদের বিচার করছে। মে মাস থেকে মাদকচক্রের সদস্যদের ওপর সরাসরি গুলি করার অনুমতি দেওয় হয়েছে পুলিশকে। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এখন পর্যন্ত ২৬৪ জন।

আগস্টে যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করছিল, তখন তাদের দমনে দলীয় ‘গুণ্ডাদের পাঠিয়েছিল আওয়ামী লীগ। যখন একজন বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন তখন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। “শেখ হাসিনা সেই আলোকচিত্রীকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওই আলোকচিত্রীর চাচা একজন পাকিস্তানি মন্ত্রী ছিলেন। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কখনও রক্ত কথা বলে, বুঝতেই পারছেন।’ ‘তবে আওয়ামী লীগের শুধু এই দমন-পীড়নের ওপর ভরসা না করলেও হতো।

তার সময়কালে অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। গত বছর জিডিপি ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও দ্রুতগামী। মতামত জরিপে সরকারের প্রতি সস্তোষজনক ফলাফলই পাওয়া গেছে। একদশকের এই সময়ে আনুগত্য এসেছে পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের মাঝেও। আর ৭১ বছর বয়স হলেও এখনও নেতৃত্বে সক্ষম শেখ হাসিনা।

পরিবর্তন আনতেও পিছপা হন না তিনি। নিজেদের সেক্যুলার ভাবধারা থেকে বেরিয়ে এসে হেফাজতে ইসলামের সমর্থন পেয়েছে দলটি। ‘প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কি এখন এসব সুবিধাকে পক্ষে নিয়ে গণতন্ত্রকে সাধারণ প্রবাহে চলতে দিবেন, নাকি এই ধারাকে পরিবর্তন করতে চান তিনি।’

চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

আসন্ন বাংলাদেশের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভারত আনন্দিত

নিউজ ডেস্ক  ::     বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত। তিনি বলেন, তাঁরা চান বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা সব সময় অব্যাহত থাকুক এবং নির্ধারিত সময়ে সবার অংশগ্রহণে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হোক।

সচিবালয়ে বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকার সংবিধানসম্মতভাবে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য সর্বদা বদ্ধপরিকর। সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বিরাজ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণও স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদানকে সব সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তাঁদের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তালিকার শীর্ষে রেখেছে ভারত। ভারত মনে করে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এ সময়ে মোহাম্মদ নাসিম জানান, ভারত সরকারের সহযোগিতায় যশোর, পাবনা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও জামালপুরে ছয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। দেশে নতুন ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করার ক্ষেত্রে সে দেশের সরকারের সহযোগিতার কথা এ সময় স্মরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভারতের অবদান দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার সাম্প্রতিক মানোন্নয়নের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর ভারত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে পাস করে দেশে ফিরে গিয়ে মানসম্মত সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে। এ সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক  ::    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি কার্যালয়ে হাজির হন।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদীয় বোর্ডের সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ দলীয় ফরম সংগ্রহকারীদের যথাসময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেননা ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক  ::     একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শীর্ষ নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। ৫ বছর আগে যে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছিল, সেই বিএনপি আজ কার্যত তার ওপর ভর করেই নির্বাচনে যাচ্ছে। অথচ তিনিই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাসায়ই থাকছেন গেল কয়েক দিন ধরে। তবে আগের থেকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামালের বেইলি রোডের বাসায় গিয়েই বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না জানিয়ে ড. কামাল বলেন, আমার নির্বাচনে অংশ নেয়া বড় কথা নয়।

দেশে ভারসাম্যের নীতি প্রতিষ্ঠা পাক। আমরা একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে আসছি। নির্বাচনে কে হারলো, কে জিতলো সেটা বড় কথা নয়, দেশের মালিক জনগণ, তারা যেন নিজেদের পছন্দ মতো ভোট দিতে পারে সেটাই বড় কথা।

কী কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তা উল্লেখ না করলেও, বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয়েই ইঙ্গিত দেন ড. কামাল। যদিও আগেই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে জানিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপকভিত্তিক যে বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠন হয়েছে, তার শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক জোট উল্লেখ না করে বলেছিলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই একজোট হয়েছেন।

যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বেই বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় রাজনীতির চিত্রও বদলে গেছে। ড. কামাল হোসেন ১৯৩৭ সালের ২০ এপ্রিল বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিসপ্রুডেন্সে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৮ সালে ব্যাচেলর অব সিভিল ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। লিংকনস ইনে বার-অ্যাট-ল’ অর্জনের পর আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেন ১৯৬৪ সালে।

এই রাজনীতিক বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সবসময়ই সোচ্চার। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পান। একই বছর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. কামাল হোসেন জাতিসংঘের স্পেশাল রিপোর্টারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।

১৯৯১ সালে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং ড. কামালের মধ্যে। ১৯৯৩ সালে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে তিনি গণফোরাম নামের রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসেন ড. কামাল হোসেন।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ