নতুন সেনাপ্রধানের বর্ণিল ক্যারিয়ার

নতুন সেনাপ্রধানের বর্ণিল ক্যারিয়ার

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হতে যাচ্ছেন বর্তমান কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউ এম জি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি।

গত সোমবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্ম সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী ২৫ জুন তিনি নতুন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

আজিজ আহমেদ বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ বর্ণিত সকল গুণ ও দক্ষতার নিরিখে উত্তীর্ণ একজন চৌকষ সামরিক অফিসার। তিনি ১৯৬১ সালে চাঁদপুর জেলার মতলবের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা-মরহুম আব্দুল ওয়াদুদ আহমেদ। মাতা-রেনুজা বেগম। তার পিতা বাংলাদেশ বিমানের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ তার সামরিক বাহিনীর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মেধাবী অফিসার হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত ছিলেন।

তিনি ৮ম বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের (৮ম বি এম এ লং কোর্স) ক্যাডেট হিসেবে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন তারিখে সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তার বেসিক কোর্সের অফিসারগণের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী ও পরিশ্রমী। ফলে সামরিক জীবনের শুরুতেই তিনি তার বেসিক কোর্সে প্রথম স্থান অধিকার করে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম সারির একজন অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

বেসিক কোর্সে ভালো ফলাফল অর্জনের কারণে তাকে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সার্জেন্সী অপারেশনে নিয়োজিত আর্টিলারি ব্রিগেডের জিএসও-৩ (অপারেশন) দায়িত্বে নিয়োগ প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র বেসিক কোর্সেই নয়, পরবর্তীতে তার কর্তৃক সম্পন্ন করা সকল কোর্সেই তিনি উচ্চমানের ফলাফল অর্জন করেন। এই কোর্স সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্কুল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (এস এম আই) তে অনুষ্ঠিত বেসিক ইন্টেলিজেন্স কোর্স এবং মিলিটারি সাইন্স কোর্স। বেসিক ইন্টেলিজেন্স কোর্সে এবং মিলিটারি সাইন্স কোর্সে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ ১৯৮৯-১৯৯০ সালে আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুল, হালিশহর, চট্টগ্রাম হতে অফিসার্স গানারী স্টাফ কোর্স করার পর তাকে ১৯৯২-১৯৯৩ সালে ভারতের স্কুল অফ আর্টিলারি, দেওলালীতে প্রেরণ করা হয় ‘লং গানারী স্টাফ কোর্স (ফিল্ড)’ করার জন্যে। উক্ত কোর্সে তিনি অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি বিদেশে উজ্জ্বল করেন। অতঃপর তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে সাফল্যের সঙ্গে আর্মি ষ্টাফ কোর্স-১৯ সম্পন্ন করেন।

অসাধারণ স্টাফ অভিজ্ঞতার অধিকারী ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ। একটি অপারেশনাল ডিভিশনের অধীনে আর্টিলারি ব্রিগেডের গ্রেড-৩ স্টাফ অফিসারই নয় শুধু, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের গ্রেড-২ স্টাফ, বেতন ও ভাতা পরিদপ্তরের গ্রেড-১ স্টাফ এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউ এম জি) হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউ এম জি) হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

জেনারেল আজিজের কমান্ড অভিজ্ঞতাও অসামান্য। ২০১২ সালের ৭ মে তারিখে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। একই বছর ৫ ডিসেম্বর তারিখে পুনর্গঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময়কালে তিনি এই বাহিনীর পুনর্গঠন নিষ্ঠার সাথে সুচারুরূপে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন।

বিজিবি’র মহাপরিচালক হিসেবে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে তাকে বিজিবিএম, পিবিজিএম এবং বিজিবিএমএস এই তিনটি পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর তৎকালীন মহাপরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিশেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (ARTDOC) এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে নিয়োজিত হন। এই ডিভিশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সকল জরিপ ও রিসার্চ সম্পন্ন করে থাকে এবং এই প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ মোতাবেক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষন দর্শন ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ তার সুদীর্ঘ কর্ম জীবনে একটি আর্টিলারি ইউনিটের অধিনায়ক, একটি বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, একটি বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডসহ মোট দুটি আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে এবং একটি পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে কমান্ড সম্পন্ন করেছেন।

তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে ইরাক-কুয়েত এ সামরিক পর্যবেক্ষক এবং ২০০৫-২০০৬ সালে সুদানে জাতিসংঘ মিশনে ফোর্স কমান্ডার এর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশিক্ষক হিসেবেও লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আর্টিলারি সেন্টার এন্ড স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়া স্কুল অফ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স তথা এসএমআইয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (BMA) হতে বিএ (পাস) সম্পন্ন করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স অব ডিফেন্স স্টাডিজ (এম ডি এস) সম্পন্ন করেন। পরিশেষে তিনি ২০০৮ সালে এমএসসি (টেকনিক্যাল) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন বাংলাদেশ (AIUB) থেকে মাস্টার্স ইন বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) সম্পন্ন করেন।

বিদ্যার প্রতি প্রবলভাবে অনুরাগী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ তার বর্তমান ব্যস্ত সময়েও পড়াশুনায় নিজেকে ব্যপৃত রেখেছেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (BUP) এ তার পিএইচডি রিসার্চ শুরু করেন যা এখনো চলমান রয়েছে।

তার স্ত্রী বেগম দিলশাদ নাহার আজিজ একজন গৃহিনী। তার তিন পুত্র সন্তান আছে। খেলাধুলা প্রিয় এই জেনারেল গলফ খেলায় বিশেষ উৎসাহী ও পারদর্শী। অবসরে তিনি বই পড়েন।

জেনারেল আজিজ তার নেতৃত্বগুণ, কর্মদক্ষতা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং অসাধারণ মানবিকতা দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন বলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যগণ মত পোষণ করেন। তারা আশা করেন বিজিবি’কে তিনি যেমন উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন, একইভাবে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরণের জন্যে কাজ করবেন।

প্রাণের কর্ণফুলী : “শুকলাল দাশ”

প্রাণচঞ্চল জল কল কল কর্ণফুলী নদী
তোমার সাথে দূর সাগরে বইছি নিরবধি।

তোমার বুকে ডুব সাঁতারে মন হারিয়ে ফেলা
কী না সুখে সেই কাটানো আমার ছেলেবেলা।

শান্ত নিঝুম তোমার তীরে কাটিয়ে দেওয়া দিন
মনে পড়ে স্বপ্ন জাগানো সেই সোনালি রঙিন।

গাঙ কবুতর করছে খেলা তোমার গহিন বুকে
এসব ছবি নিত্যি আমি রাখছি মনে টুকে।

রাত নিশীথে সবাই যখন স্বপ্ন সুখে থাকে
কর্ণফুলী তোমার জলের পরশ আমায় ডাকে।

শান্তি সুখের অপার ছোঁয়া তোমার বুকে জুড়ে
কী অনাবিল গান গেয়ে যাও ঢেউয়ের সুরে সুরে।

সকল নদীর সেরা তুমি সকল রূপে গুণে
তোমার চলার ছন্দে সবাই স্বপ্নকথা বোনে।

বাংলাদেশের অনেক পাওয়ার স্বর্ণালী দ্বার তুমি
তোমার ছোঁয়ায় চাঁটগা আমার স্বর্ণভরা ভূমি।

চট্টগ্রাম নিউজের পক্ষ থেকে জানাই অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা

চট্টগ্রাম নিউজের পক্ষ থেকে জানাই অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা
চট্টগ্রাম নিউজের পক্ষ থেকে জানাই অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম নিউজের সকল পাঠক-পাঠিকাদের জানাই ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আন্দন। ঈদের দিনে সকালে প্রথমে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া হল ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। ঈদের নামাজ শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। নামাজের পর সবাই একসাথে হওয়া, দেখা করা। এসময় বাংলাদেশে ছোটরা বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে এবং সালামি গ্রহন করে। ঈদের দিনে সালামি গ্রহন করা প্রায় সব দেশেই রীতি আছে। তবে এর ধর্মিয় কোন বাধ্যবাধকতা বা রীতি নেই।

ঈদের দিন ধনী-গরীব সকলের ঘরে তৈরী করা হয় সেমাই। এছাড়া আরো অনেক ধরনের খাবারের মধ্যে থাকে পোলাও, বিফ বিরিয়ানী, বিফ খিচুড়ী, চিকেন বিরিয়ান ইত্যাদি।

ঈদ উৎসবের আরো একটি রীতি হল আশেপাশের সব বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া। এবং প্রত্যেক বাড়িতেই হালকা কিছু খাওয়া। এ রীতি বাংলাদেশে সবাই মানে।

ঈদের দিন ঘরে ঘরে সাধ্যমত বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। ঈদের দিনে সেমাই বা অন্যান্য মিষ্টি নাস্তা তৈরি করার চল রয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলো হতে ঈদের ছুটিতে নিজেদের আদি নিবাসে যারা বেড়াতে গিয়েছে তারা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ঈদ আনন্দ উপভোগ করে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসুক, এই দোয়া করি।

রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত

রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত
রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত

চট্টগ্রাম অফিস : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রামের দুটি উপজেলা ও নগরীতে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ৭ জন, সীতাকুণ্ডে ২ জন ও নগরীতে ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া একজনের মৃতদেহ এখনও নিখোঁজ আছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ৮০ থেকে ৮৮ কিমি বাতাসের গতিবেগ নিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের উপকূল। শনিবার (২১ মে) পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। তবে এরই মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় ঘটে গেছে দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শনিবার রাত সাড়ে সাতটায় নগরীর সার্কিট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক বলেন, রোয়ানু’র প্রভাবে বাঁশখালীতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ৭ জন পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। এছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলায় দু জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নগরীর হালিশহর এলাকায় চিংড়ির ঘেরে কাজ করতে গিয়ে পানিতে ভেসে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। অন্যদিকে নগরীর শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরে ঝড়ে গাছের চাপায় ঘরের চাল ভেঙে মা-ছেলে ও ষোলশহরে এক পথশিশু নিহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাতের মধ্যে শনিবার সকালে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়ের নাম কাজল বেগম (৪৮)। ছেলের নাম মো. বেলাল হোসেন (১০)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কেউ যায়নি।

চট্টগ্রামের ষোলশহরে এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবা0র সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচলাইশে চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের কাছে একটি বাসার ছাদ থেকে আসা ইঁটের আঘাতে রাকিব (১১) নামে ওই শিশু গুরুতর আহত হয়।

তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তৃত ঘোষণা করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক জাহাঙ্গীর আলম।

বাঁশখালী উপজেলায় সাতজনের মৃত্যু :

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে খানখানাবাদ ইউনিয়নে ৬ জন এবং ছনুয়া ইউনিয়নে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন।

নিহতরা হলেন, তাহেরা বেগম (৩৫), বুলু আক্তার (৩৫), জালাল (৩), আবু সীদ্দিক (৬০), মোঃ হোসেন (৭), সাহেদা আক্তার (৩) , নব জাতাক ৪৫ দিন।

তিনি জানিয়েছেন, রোয়ানু আঘাত হানার পর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সাগরের পানি ঢুকে গেছে খানখানাবাদ ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরে ঘরে পানি ঢুকে গেছে। জোয়ারের পানিতে গবাদি পশু, আসবাবপত্র ভেসে গেছে।

ওসি জানান, জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়নে দুটি বাচ্চা, এক নারী ও এক বৃদ্ধসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা একই পরিবারের নন বলে ওসি জানান।

এছাড়া ছনুয়া ইউনিয়নে জোয়ারের পানিতে ভেসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

এদিকে আনোয়ারা উপজেলায় ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মনিরুল হক। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকজনকে গুরুতর আহতবস্থায় চমেকে এনে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সোনা ধর (২০), এনামুল হক (৪০), আজাদ (২৫), আব্দর রহিম (৪৫), ঝুমু রুদ্র (২৩)।
0 (26)এদিকে জেলা প্রশাসক বলেন, মারা যাওয়া সবার পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা শাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।তাদের পরিবারের সাহায্য যদি আরও লাগে তাও দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘রোয়ানু’র প্রভাবে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষ পানি বন্ধী হয়ে আছে।চারটি উপজেলায় মোট আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও ১০০ কোটি টাকার গবাদি পশু ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৫ হাজার গবাদি পশু ভেসে গেছে।

জেলার ৪৭৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘তাদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে রাতে থাকতে হলে রাতের খাবারও তাদের দেওয়া হবে।’

মুক্তির কাণ্ডারী সেই বঙ্গবন্ধু

 মুক্তির কাণ্ডারী সেই বঙ্গবন্ধু
মুক্তির কাণ্ডারী সেই বঙ্গবন্ধু

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি খ্যাত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন শেখ মুজিব।

ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথমসারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন শেখ মুজিব।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তিনি বারবার কারাবন্দি হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনসহ জনগণের দাবি আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিব।

বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বারবার কারাগারে যেতে হতে হয়েছে তাকে। আর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে নিয়ে যায় বাঙালির জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে ’৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি, যার পরে ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাবরণ করতে হয় তাকে।

’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি।

এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ দেন। ’৭১-এর মার্চে শুরু করেন অসহযোগ আন্দোলন। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে তার ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাঙালিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে ধাবিত করে।

’৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করার পর সেই রাতেই বন্দি হন শেখ মুজিব। তবে তার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকলেও তার নামেই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে বাঙালি। অন্যদিকে স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের অভিযোগ এনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে গোপন বিচারের নামে প্রহসন শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হয়। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন ভূমিতে পা রাখেন শেখ মুজিব।কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ।

নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন

নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন
নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন

দেশের মোট ৩১৫টি পৌরসভার মধ্যে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়নি। ফলে আপাতত ২৩৬টিতেই নির্বাচন হচ্ছে। গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে।দেশজুড়ে পৌরসভা নির্বাচনের হাওয়াও বইছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন। যিনি স্থানীয় সরকারকে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলে এলাকার সমাজ ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন।

বর্তমান বাংলাদেশে জনসমর্থনের দিক দিয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। অন্যদিকে বর্তমান জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। এ বড় তিনটি রাজনৈতিক দল পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো এবার পৌরসভা নির্বাচনেও দলগুলো কেন্দ্র থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তিনিই সেই দলীয় প্রার্থী বলে বিবেচিত হবেন এবং নির্বাচন করতে পারবেন।

প্রার্থী নির্বাচনে জেলা পর্যায়ের নেতারা সংশ্লিষ্ট পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ করবেন। জেলা পর্যায়ের নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে। তাই প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয়টিতে কেন্দ্রের চেয়ে তৃণমূল পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বেশি প্রাধান্য পাবে। এ কারণে প্রার্থী সুপারিশের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের নেতাদের বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। তাদের যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ করতে হবে। কালোটাকা, পেশিশক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে যেন তৃণমূল নেতারা মাথানত না করেন।

১৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পৌরসভা নির্বাচন সংশোধন আইন পাস হয়। আইনে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচন করার সুযোগ রাখা হয়। অর্থাৎ মেয়র পদে নির্বাচন করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে হবে। আর দল যদি মনোনয়ন না দেয় তাহলে তার পক্ষে দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আবার যদি কোনো রাজনৈতিক দল একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় তাহলে ওই পৌরসভার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে।
আইন সংশোধন করার ফলে এবার পৌরসভা নির্বাচন হবে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের আদলে। এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় প্রার্থীর চেয়ে দলীয় প্রতীক বেশি প্রাধান্য পাবে। কারণ, যিনি যে দলের রাজনীতি করেন তিনি সেই দলের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দেবেন না। এ কারণে দলগুলোকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।

গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্ম

            

     গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্ম

পটিয়া অফিস:= গৌতম বুদ্ধ ছিলেন প্রাচীন ভারতের এক ধর্মগুরু এবং তাঁর দ্বারা প্রচারিত ধর্ম বিশ্বাস ও জীবন দর্শনকে বৌদ্ধ ধর্ম বলা হয়। খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দিতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর অনুগামীরা তাঁর জীবনকথা ও শিক্ষা লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর শিক্ষাগুলি প্রথম দিকে মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় চারশো বছর পর এগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়।

গৌতম বুদ্ধের পিতা ছিলেন রাজা শুদ্ধোদন আর মাতা ছিলেন মায়াদেবী। মায়াদেবী কপিলাবস্তু থেকে পিতার রাজ্যে যাবার পথে অধুনা নেপালের অন্তর্গত লুম্বিনি গ্রামে বুদ্ধের জন্ম দেন। তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে মায়াদেবীর জীবনাবসান হয়। পরে তিনি বিমাতা গৌতমী কর্তৃক লালিত হন। জন্মের পঞ্চম দিনে রাজা ৮ জন জ্ঞানী ব্যক্তিকে সদ্যোজাত শিশুর নামকরণ ও ভবিষ্যৎ বলার জন্য ডাকেন। তাঁর নাম দেওয়া হয় সিদ্ধার্থ – যে সিদ্ধিলাভ করেছে বা যার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, রাজকুমার একদিন সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে যাবেন এবং বোধিপ্রাপ্ত হবেন।

বুদ্ধের বিবাহ সম্বন্ধে দুই ধরণের মত আছে। প্রথম মত অনুসারে ১৬ বছর বয়সে তিনি একটি প্রতিযোগিতায় তাঁর স্ত্রীকে লাভ করেন। আর একটি মত অনুসারে ২৮ বছর বয়সে তাঁকে সংসারের প্রতি মনোযোগী করার জন্য তাঁর পিতা-মাতা তাঁকে রাজকন্যা যশোধরার সাথে বিবাহ দেন।

কথিত আছে, একদিন রাজকুমার সিদ্ধার্থ বেড়াতে বের হলে ৪ জন ব্যক্তির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। প্রথমে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, অতঃপর একজন অসুস্থ মানুষ, এবং শেষে একজন মৃত মানুষকে দেখতে পান। তিনি তাঁর সহিস চন্নকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে চন্ন তাঁকে বুঝিয়ে বলেন যে, এটিই সকল মানুষের নিয়তি। একই দিন কিংবা অন্য একদিন তিনি দেখা পেলেন একজন সাধুর, যিনি মুণ্ডিতমস্তক এবং পীতবর্ণের জীর্ণ বাস পরিহিত। চন্নকে এঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন উনি একজন সন্ন্যাসী যিনি নিজ জীবন ত্যাগ করেছেন মানুষের দুঃখের জন্য। রাজকুমার সিদ্ধার্থ সেই রাত্রেই ঘুমন্ত স্ত্রী, পুত্র, ও পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে প্রাসাদ ত্যাগ করেন। সিদ্ধার্থের এই যাত্রাকেই বলা হয় মহানিষ্ক্রমণ।

তার মানে মানুষের বৃদ্ধ হওয়া, অসুস্থ হওয়া, মৃত্যু হওয়া, ও সন্ন্যাসীদের সম্বন্ধে বুদ্ধের কোনো ধারণা ছিল না। তিনি এগুলো জানতে পেরেছেন চন্ন নামের এক ব্যক্তি থেকে। এই অবস্থায় তিনি ঘুমন্ত স্ত্রী, পুত্র, ও পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে প্রাসাদ ত্যাগ করেন।
দুঃখ ও দুঃখের কারণ সম্বন্ধে জানতে সিদ্ধার্থ যাত্রা অব্যাহত রাখেন। প্রথমে তিনি আলারা নামক একজন সন্ন্যাসীর কাছে যান। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তিনি যান উদ্দক নামক আর একজনের কাছে। কিন্তু এখানেও কোনো ফল না পেয়ে কিছু দিন যাবার পর তিনি মগধের উরুবিল্ব নামক স্থানে গমন করেন। সেখানে প্রথমে একটি উত্তর-পূর্বমুখি শিলাখণ্ডের উপর বোধিসত্ত্ব জানু পেতে বসে আপন মনেই বলেছিলেন যে, “যদি আমাকে বুদ্ধত্বলাভ করতে হয় তা হলে বুদ্ধের একটি প্রতিচ্ছায়া আমার সম্মুখে দৃশ্যমান হোক।” এই কথা উচ্চারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে শিলাখণ্ডের গায়ে তিন ফিট উঁচু একটি বুদ্ধের প্রতিচ্ছায়া প্রতিফলিত হয়। বোধিসত্ত্ব তপস্যায় বসার পূর্বে দৈববাণী হয় যে, “বুদ্ধত্ব লাভ করতে গেলে এখানে বসলে চলবে না; এখান থেকে অর্ধযোজন দূরে পত্রবৃক্ষতলে তপস্যায় বসতে হবে।” এরপর দেবগণ বোধিসত্ত্বকে সঙ্গে করে এগিয়ে নিয়ে যান। মধ্যপথে একজন দেবতা ভূমি থেকে একগাছা কুশ ছিঁড়ে নিয়ে বোধিসত্ত্বকে দিয়ে বলেন যে, এই কুশই সফলতার নিদর্শন স্বরূপ। বোধিসত্ত্ব কুশগ্রহণের পর প্রায় পাঁচ শত হাত অগ্রসর হন এবং পত্রবৃক্ষতলে ভূমিতে কুশগাছটি রেখে পূর্বমুখি হয়ে তপস্যায় বসলেন। কঠোর সাধনার ফলে তাঁর শরীর ক্ষয়ে যায়। কিন্তু এ তপস্যায় তিনি ভয়, লোভ, ও লালসাকে অতিক্রম করে নিজের মনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে সক্ষম হলেন। সহসা তিনি বুঝতে পারেন এভাবে বোধিলাভ হবে না। তিনি তাই আবার খাদ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। অবশেষে কঠোর তপস্যার পর তিনি বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত হলেন। তিনি দুঃখ, দুঃখের কারণ, প্রতিকার প্রভৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করলেন। এ ঘটনাটিই বোধিলাভ নামে পরিচিত। আক্ষরিক অর্থে “বুদ্ধ” বলতে একজন জ্ঞানপ্রাপ্ত মানুষকে বুঝায়। উপাসনার মাধ্যমে উদ্ভাসিত আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং পরম জ্ঞানকে “বোধি” বলা হয়।

বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা সর্ব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। এটাকে নির্বাণ বলা হয়। নির্বাণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিভে যাওয়া, বিলুপ্তি, বিলয়, অবসান, ইত্যাদি।

বলা হচ্ছে দুঃখ একটি বাস্তবতা – যা বুদ্ধের আগেও সকলেরই জানার কথা। এই দুঃখের কারণ হচ্ছে কামনা-বাসনা-বন্ধন। সকল প্রকার কামনা-বাসনা-বন্ধন থেকে মুক্তি লাভই হচ্ছে নির্বাণ। এগুলোকেই বুদ্ধের চারটি উপদেশ তথা “ঋড়ঁৎ ঘড়নষব ঞৎঁঃযং” বলা হয়।

বুদ্ধ পরকাল সম্বন্ধেও অনেক কিছুই বলে গেছেন। পরকাল নির্ভর করে মানুষের ইহজন্মের কর্মের উপর। মৃত্যুর পর মানুষ ৩১ লোকভূমিতে গমন করে। এই ৩১ লোকভূমি হছে ৪ প্রকার অপায়: তীর্যক, প্রেতলোক, অসুর, ও নরক। ৭ প্রকার স্বর্গ: মনুষ্যলোক, চতুর্মহারাজিক স্বর্গ, তাবতিংশ স্বর্গ, যাম স্বর্গ, তুষিত স্বর্গ, নির্মানরতি স্বর্গ, ও পরনির্মিত বসবতি স্বর্গ। ১৬ প্রকার রুপব্রহ্মভূমি। ৪ প্রকার অরুপব্রম্মভূমি। মোট ৩১ প্রকার। এই ৩১ প্রকার লোকভূমির উপরে সর্বশেষ স্তর হচ্ছে নির্বাণ (পরম মুক্তি)। যেমন: ইহজন্মে মানুষ যদি মাতৃহত্যা, পিতৃহত্যা, গুরুজনের রক্তপাত ঘটায় তাহলে মৃত্যুর পর সেই মানুষ চতুর উপায়ে (তীর্যক, প্রেতলোক, অসুর, ও নরক) জন্মগ্রহণ করে, আর ইহজন্মে মানুষ যদি ভালো কাজ করে তাহলে মৃত্যুর পর সেই মানুষ বাকি ২৮ লোকভূমিতে গমন করে।

0520140513103106

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন
আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

ঢাকা অফিস: আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা।
১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এর পর থেকে ৩৪ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিনটি দেশে বিভিন্ন দল ও সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করছে। কর্মসূচিতে আছে কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, প্রার্থনা সভা প্রভৃতি। ঢাকা থেকেও টেলিফোনে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
দিনটি উপলক্ষে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করবে। বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির ও প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে এতিমখানাসহ দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এক বিবৃতিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন পালন করার জন্য দলের সব শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করছে।
এদিকে চট্টগ্রামের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে তারা। এর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে, অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
এ অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডেল-১৯৯৯, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছরের জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারেও ভূষিত হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, যা জন্মদিনের ঠিক আগের রাতেই তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত  বছরের মতো এবারও জন্মদিনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রয়েছেন তিনি। ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। সেখানেই অনাড়ম্বর পরিবেশে উদযাপন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : তথ্য প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড (আইটিইউ) গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ডেলিগেটস ডাইনিং রুমে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইটিইউ প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
আইটিইউ’র ১৫০ বছর পূর্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বাংলাদেশ এ অ্যাওয়ার্ড লাভ করল। প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ডটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করেছেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এ পুরস্কার সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আমাদের কাছে আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সেবা প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে কাজে হাত দিয়েছি, তার এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এই পুরস্কার।
এসময় তিনি জ্ঞানভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার পথের সব বাধা দূর করতে তিনি সবাইকে হাতে হাত ধরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে মন্ত্রী-এমপিরা

সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে মন্ত্রী-এমপিরা
সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে মন্ত্রী-এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি,  দোকান-পাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি, গির্জা ও বিহারের ম্পত্তি দখলএবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে, নির্যাতন চালিয়ে উচ্ছেদের ঘটনায় সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়, যাতে লিখিত বক্তব্য পড়েন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু সেল গঠনসহ অধিকার রক্ষায় কয়েকটি দাবিও তুলে ধরা হয়।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, “সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি, গির্জা ও বিহারের সম্পত্তি জবরদখলের উন্মত্ততায় মেতে উঠেছে।

“এ জবরদখলের সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যের নামও বেরিয়ে আসছে।”

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা গিনি, ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম, পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের নাম আসে সংবাদ সম্মেলনে।

ইতোপূর্বে সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে আগুন, তাদের স্থাপনা দখল ও অন্যান্য নির্যাতনের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির দিকে অভিযোগ তুললেও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে বৃহস্পতিবার করা সংবাদ সম্মেলন ছিল ব্যতিক্রম।

প্রায় ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যের পুরো অংশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের ফর্দে মূলত অভিযোগ ছিল ধর্ম নিরপেক্ষ দল হিসেবে দাবি করা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

এই অবস্থার অবসানে যে দাবিগুলো তুলে ধরেছে সংগঠনটি, তার মধ্যে রয়েছে- মার্কিন কংগ্রেসের আহ্বানের আলোকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলে অবস্থানকারী সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী, উসকানিদাতা, লুটেরা ও জমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু সেল গঠন করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন পরিষদের নেতা সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ইউনিয়নে জনৈক ব্যবসায়ীর দোকান দখলের অভিযোগ করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মাহবুব আরা গিনির বিরুদ্ধে গাইবান্ধার রামগঞ্জ মিশন ও আশ্রমের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ এসেছে।

ফরিদপুরের ভাজনডাঙার জমিদার সতীশ চন্দ্র গুহ মজুমদারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি দখল করে এর ওপর স্থাপিত স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে।

জমির বর্তমান মালিক অরুণ কুমারের কাছ থেকে বায়নানামায় জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তবে মন্ত্রী মোশাররফের দাবি, তিনি ওই জমি কিনে নিয়েছেন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের দাসপাড়ার ৮০টি ঋষি পরিবার ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মতিয়ার সরদার ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তাদের সহায়তার অভিযোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বৌদ্ধপল্লীর লোকজন চিহ্নিত জাবেদ কায়সার নোবেলের অমানসিক নির্যাতনের স্বীকার আভিযোগ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, “তার বাহিনী বৌদ্ধ বসতির জায়গা জমি দখল করে নিচ্ছে।”

লক্ষ্মীপুরে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সাবেক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ২২ জনের একটি চক্র দালালবাজারের জমিদারবাড়ির ৩৬ একর জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের।

বিভিন্ন সংগঠন ও প্রকল্পের নামে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।