সুরমা নদীতে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান রেস্তোরাঁ “সুরমা রিভার ক্রুজ”

 সুরমা নদীতে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান রেস্তোরাঁ "সুরমা রিভার ক্রুজ"
সুরমা নদীতে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান রেস্তোরাঁ “সুরমা রিভার ক্রুজ”

চট্টগ্রাম অফিস:
হযরত শাহ জালাল (রহ:)পূণ্যভূমি সিলেটের সুরমা নদীর দুই কুলকে একত্রিত করেছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ। নদীর উওর পাড়ে প্রাচীন শারদা হল। আছে ব্রিটিশ আমলের দাঁড়িয়ে থাকা আলী আমজদের ঘড়ি। এই নিয়ে ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাট। সুরমা নদীর ঘাটে দাঁড় করা একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ নাম’সুরমা রিভার ক্রুজ’।

সিলেটের এক ঝাঁক প্রবাসীরা মিলে সুরমা নদীতে দাঁড় করেছেন ভাসমান রেস্তোরাঁ। বিশ্বের অনেক দেশে নদীর উপর এমন ভাসমান রেস্তোরাঁ আছে তা দেখে সিলেটের প্রবাসীরা এই ব্যতিক্রম ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। চাঁদনীঘাটে রিভার ক্রুজ স্থাপনে পর্যটকদের আকর্ষণ আর অনেক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। এই টাইটানিক জাহাজ এখন সবার কাছে জনপ্রিয়। সিলেটের পর্যটকরা নয় শুধু, সিলেটের বাহিরের বিভিন্ন স্থানের পর্যটকরা সিলেটের ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ জালাল(রহ:) মাজারদে এমনি ও হযরত শাহ পরান (রহ:) মাজার জিয়ারত করতে আসা পর্যটকেরা রাতের খাবার টা খেয়ে নেন সুরমা রিভার ক্রজে।পর্যটকরা সবাই এটাকে শখ হিসাবে দেখছেন।

গত ২০১৫ সালের শীতের শুরুতে সুরমা নদীর তীরে এই আকর্ষণীয় ভাসমান রেস্তোরাঁ উদ্বোধন করা হয়। এর কিছু দিন পর থেকে এটি দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সন্ধ্যা হলে চাঁদনীঘাটে নামে হাজার মানুষের ঢল।ডিনার নিয়ে ব্যাস্ত দর্শনার্থীরা।ব্যাস্ত হয়ে পড়েন রেস্তোরাঁর সকল সদস্যরা।রেস্তোরাঁর ভিতরে গিয়ে বসা মাএ চলে মেনু কার্ড। আছে বিভিন্ন প্যোকেজ সুবিধা।ডিনার শেষে দর্শনার্থীরা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ফেইসবুকের জন্য সেলফি তুলতে যেন কারো ভুল পড়েনা।

সিলেটের প্রবাসীরা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিলেটবাসীরা সবার থেকে একটু আলাদা, চিন্তা ভাবনা আলাদা,সেই চিন্তা থেকে এই ব্যতিক্রম ধরনের উদ্যোগের নাম’সুরমা রিভার ক্রুজ’ ঘুরতে আসা পর্যটকরা নাম দিয়েছে টাইটানিক এটা আমাদের সিলেটবাসীদের জন্য অনেক কিছু।

সিলেটের চাঁদনীঘাটে পড়ন্ত বিকালে সুরমার জলে দিনের শেষে সূর্য ডোবা দেখতে হাজার পর্যটক প্রতিদিন আসেন।ব্যাস্তময় কর্মজীবন কাঁঠিয়ে ওঠা শহরের মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে পড়ন্ত বিকালে ঘুরতে আসেন ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদীর তীরে।কেউবা সিলেট সার্কিট হাউজের সামনে মনোমুগ্ধকর ফুল বাগান ও মিনি পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরে চলেন মনের আনন্দে। কেউ কেউ জমিয়ে আড্ডা মারেন বন্ধু-বান্ধবের সাথে চায়ের কাপে। কেউবা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন শীতল হাওয়া। উপলব্ধি করেন খেয়া পারাপারের মনোরম দৃশ্য।

শীতের মৌসুমে ‘ভেসে উঠল’ রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

শীতের মৌসুমে ‘ভেসে উঠল’ রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
শীতের মৌসুমে ‘ভেসে উঠল’ রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

এ,এইচ,এম সুমন চৌধুরী :
শীতের মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠেছে ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুটির থেকে পানি সরে যাওয়ায় এটি মেরামত করে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
পার্বত্য জনপদ রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের অনেকখানিই আবর্তিত হয় রাঙামাটির এই আইকনিক ঝুলন্ত সেতুটিকে কেন্দ্র করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এ সেতুটি দেখার জন্য রাঙামাটিতে আসেন।

রাঙ্গামাটির পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, ‘সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৮৬ সালে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে পানির নিচে ডুবে থাকার পর শীতের আগমনে কাপ্তাই হ্রদে পানি কমতে শুরু করায় ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকদের স্বাগত জানাতেই যেন ভেসে উঠছে। এবার পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রহর গুণছে এই ঝুলন্ত সেতুটি।তবে আমাদের এবার প্রচেষ্টা চলছে বর্ষা মৌসুমে সেতুটি যেন না ডুবে সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি সেতুটি অবিলম্বে ৬-৭ ফুট ওপরে তোলার জন্য অথবা একটি আধুনিক মানের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করার জন্য।’
টিকেটের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর পর বর্তমান বাজার এবং বাস্তব প্রেক্ষাপট চিন্তা করে এবারে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করে ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে।তবে দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে থাকার ফলে পর্যটন কর্পোরেশন ১৫-২০ লক্ষ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

চট্টগ্রাম নিউজ ডেস্ক:
বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণের অপূর্ব সমাহার পর্যটকদের কাছে টানে। বিশাল বিশাল ভবন আর নির্মাণশৈলী জমিদার আমলে জমিদারদের বিত্তবৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঝড়-বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।
প্রায় দুশ’ বছরের ইতহাস-ঐতিহ্য বুকে লালন করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটির জমিদার বাড়ি। সে সময়কার মানুষের জীবন-জীবিকা, চাল-চলন, আনন্দ-বিনোদন আর শৌখিনতার পরিচয় পাওয়া যায় এ জমিদার বাড়িটিকে দেখলে। মানুষের মেধা আর পরিশ্রমকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নতির শীর্ষে আরোহণ করা যেমন কঠিন নয়, এই জমিদার বাড়ির মানুষগুলোই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কেননা একটি নিুবিত্ত পরিবার থেকে এ জমিদার বাড়ির কর্তারা তাদের মেধা মননশীলতা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে জমিদারি হাল-হকিকতে নিজেদের নাম লেখাতে পেরেছেন। উন্নতির শীর্ষে নিজেদের অবস্থানকে ধরে রেখেছেন যুগ থেকে যুগান্তরে।

বালিযাটি প্রাসাদ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত মানিকগঞ্জ জেলার সদর থেকে আনুমানিক আট কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে পয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত।
এটি বাংলাদেশের ১৯ শতকে নির্মিত অন্যতম প্রাসাদ। একে বালিযাটি জমিদার বাড়ী বলে ডাকা হয। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বা প্রাসাদটির সবগুলো ভবন একসাথে স্থাপিত হয়নি। এই প্রাসাদের অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হযেছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি যাদুঘর। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত।

জমিদার বাড়ির প্রবেশ দরজার দু’পাশে উপরের দিকে রয়েছে দুটি তেজী সিংহের পাথরের মূর্তি। দেখলে মনে হবে এই বুঝি তেড়ে আসছে। সুতরাং প্রবেশদ্বারকে সিংহদ্বার বলতেই হয়। এ সিংহদ্বার পেরুলেই নজরে আসবে প্রশস্ত আঙিনাটি। যেখানে বর্তমানে রয়েছে ফুলের বাগান। বাড়ির পেছনের অন্দর মহল পেরুলেই চোখে পড়বে বিশালাকার পুকুর। পুকুরের একপাশে রয়েছে শৌচাগার। পুকুরের চারপাশে রয়েছে চারটি শান বাঁধানো ঘাট। সম্ভবত চার জমিদার আনন্দ রাম, দধিরাম, পণ্ডিত রাম ও গোপাল রামের জন্যই চারটি আলাদা আলাদা ঘাট বাঁধানো হয়েছে। বর্তমানে পুকুরটি পানিশূন্য রয়েছে। ১৭৯০ সালে ওই চার ভাইয়ের মাধ্যমেই বালিয়াটি জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন হয়।

রাঙ্গামাটি ভ্রমন পিপাসু পর্যটণ কেন্দ্র

রাঙ্গামাটি ভ্রমন পিপাসু পর্যটণ কেন্দ্র
রাঙ্গামাটি ভ্রমন পিপাসু পর্যটণ কেন্দ্র

চট্টগ্রাম অফিস:
প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন রাঙ্গামাটিতে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকগণ। এবারও ঈদুল আজহার ছূটিতে আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধদের নিয়ে জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমন কিছুটা কম।

রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষন ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে ডুবে থাকায় অনেক পর্যটক কিছুটা হতাশ হলেও, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের প্রকৃতিক সৌর্ন্দয্যসহ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমন ও শুভলং-এর ঝর্নার দৃশ্য অবলোকনে উপভোগ করছেন এক বড় আনন্দ।

পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার ঈদের ছুটি বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় ও রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি প্রবল বর্ষণের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি নিচে ডুবে থাকায় পর্যটকদের আগমন কম লক্ষ্য করা গেছে।

দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সেতুটি এখন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে। তাই ছূটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সেতুর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে না পেরে কিছুটা হতাশ।

বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, তারা ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে ডুবে থাকায় এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেননি।

বর্ষায় রাঙামাটির পর্যটনের অপর আকর্ষণ শুভলং পাহাড়ী ঝর্ণা এর পরিপূর্ণ রুপ ফিরে পেয়েছে। সেখানেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অন্যান্য পর্যটন স্পট রাজবাড়ী, রাজ বনবিহার, ডিসি বাংলোসহ অনেক স্পটে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

পর্যটন নৌ ঘাটের ইজারাদার রমজান আলী জানান, বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে রয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা কম। তবে যেসব পর্যটক এসেছেন তারা বোট ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণসহ শুভলং ঝর্ণা, রাজবাড়ী, রাজ বন বিহার ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বান্দরবানে নীলগিরি-নীলাচলে অতিথি পরায়ণ মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যায় পর্যটকদের শরীর

বান্দরবানে নীলগিরি-নীলাচলে অতিথি পরায়ণ মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যায় পর্যটকদের শরীর
বান্দরবানে নীলগিরি-নীলাচলে অতিথি পরায়ণ মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যায় পর্যটকদের শরীর

বিনোদন প্রতিবেদক: ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের আগমনে মুখোরিত হয়ে ওঠেছে।
অপার সৌন্দর্য মন্ডিত পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন পাহাড়, ঝিরি-ঝর্ণা আর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির টানে। বান্দরবানের নয়নাবিরাম বিস্তৃত পাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি খ্যাত বান্দরবানের পাহাড়ের চূঁড়ায় গড়ে তোলা নীলাচল এবং নীলগিরি পর্যটন স্পটে অতিথি পরায়ণ মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের শরীর।

হোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে অতিথিরা যেন নিরাপদে ও ভালোভাবে আনন্দ-ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা করেছেন। পর্যটক হয়রানির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।

Bandarban-Tourism-news-pic-4-31-7-14প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির মাঝে একটু হারিয়ে যেতে বান্দরবানে আগমন ঘটে ভ্রমণ পিপাসু দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের। পাহাড়ের চূঁড়ায় গড়ে তোলা নীলাচল এবং নীলগিরি পর্যটন স্পটে অতিথি পরায়ণ মেঘ ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের শরীর।

নীলাচল ও নীলগিরি পর্যটন স্পটে গেলে দেখা যায় মেঘ দল বেঁধে উড়ে চলে যাচ্ছে অজানার উদ্দেশে। আর শৈলপ্রপাত, রিঝুক ঝর্ণা এবং কিংবদন্তি বগালেকের স্বচ্ছ শীতল পানিতে গা ভাসাচ্ছেন হাজারো পর্যটক। এছাড়াও পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের মিতালি এবং লুকোচুরি খেলার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট।

এ জেলায় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বিজয়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেউক্রাডংসহ অসংখ্য পাহাড়। রয়েছে বাংলার দির্জিলিংখ্যাত চিম্বুক, নীলগিরি, যেখানে অনায়াসে মেঘের ছোঁয়া পাওয়া যায়।

এছাড়াও রিঝুক ঝর্ণা নিজস্ব গতিতে সব মৌসমেই থাকে সচল। এছাড়া জেলা সদরেই রয়েছে মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিকলেক, স্বর্ণ জাদি। নীলাচলে দাঁড়ালে পাহাড় আর আকাশের মিতালি, দূরে সবুজ বন কিংবা চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য আবছা আবছা উপভোগ করা যায়। পাহাড় থেকে শহরের সৌন্দর্য বিমোহিত করে পর্যটকদের।

বৌদ্ধ ধাতু জাদি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান হলেও পাহাড়ের উপর সুন্দর কারুকার্য ও স্বর্ণাভরণে তৈরি হওয়ায় এটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে।

dsc04104বান্দরবানের রুমা উপজেলায় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বিজয়, এটি তাজিংডং নামেই পরিচিত। একই সড়কে ১৭ কি.মি. গেলে দেখা যায় কিংবদন্তী বগালেক। এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্পট।

এছাড়াও এই জেলায় মারমা, ত্রিপুরা, মুরুং, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, চাকমা, চাক, লুসাই, বাঙালিসহ ১২টি আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে। দেশের অন্য কোনো জেলায় এত আদিবাসীর বসতি নেই। আদিবাসীদের বৈচিত্রময় জীবনচিত্র মানুষের মনকে উৎফুল্ল করে তোলে। বান্দরবানে যেদিকে চোখ যায় দেখা মিলবে এ পাহাড়ি সমুদ্রের। এই যে অপার বিস্ময়। যে দিকে দুচোখ যাকে-অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে।

একলা ভ্রমণে নারীদের সবচাইতে নিরাপদ ৭ টি শহর

একলা ভ্রমণে নারীদের সবচাইতে নিরাপদ ৭ টি শহর
একলা ভ্রমণে নারীদের সবচাইতে নিরাপদ ৭ টি শহর

নিউজ ডেস্ক:
নতুন দেশ না হোক, অন্তত নতুন কোন জায়গা তো হতেই পারে। অনেকেই আছেন যারা দলবেঁধে ঘুরতে পছন্দ করেন। অনেকে একলা। ভ্রমণে নানারকম সমস্যা তো হবেই।কিন্তু অনেকদিন ধরে এক জায়গায় থাকতে থাকতে মন আর মস্তিষ্ক দুটোই অকেজো হয়ে পড়ে। আর তাই সবারই উচিত কিছুদিন পরপর নতুন কোথাও থেকে বেরিয়ে আসা। তবে নারীদের ক্ষেত্রে হয়তো সেটা আরো কিছুটা বেশি দেখা যায়। আর তাই প্রতি নারীই খোঁজেন এমন একটি স্থান যেখানে গেলে নিরাপত্তা আর আনন্দ দুটোই পাওয়া যাবে সহজে।
১. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
দুই মিলিয়ন মানুষের শহর কোপেনহেগেনে এলে দেবী জেফজানের ঝর্ণাটি দেখতে পাবেন।ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে গেলে আপনি দেখতে পাবেন এখানকার অসাধারণ সব স্থাপত্যগুলো। আর কেনাকাটা যদি করতে পছন্দ করেন সেই সাথে, তাহলে তো আর কথাই নেই!
২. অটোয়া, কানাডা

অন্টোরিয়োতে অবস্থিত কানাডার রাজধানী অটোয়াও হতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য! এখানে এলে আপনি পাবেন একই সাথে অনেক সংস্কৃতির ছোঁয়া। রাস্তায় হাঁটবার সময় ফ্রেঞ্চ আর ইংরেজির দারুণ ছোটাছুটির পাশাপাশি এখানে আপনি পাবেন হাতে বানানো অনেক কাপড় আর গয়নার সারি।

৩. অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড

১,৪০০,০০০ মানুষের বাসস্থল, নিউজিল্যান্ডের সবচাইতে বড় এই শহরের আর সবটা অন্য সব শহরের মতন হলেও একটা বড় ধরনের বিশেষত্ব রয়েছে এর। আর সেটি হল এর ভেতরে থাকা হাজার হাজার ইয়ট। এত বেশি ইয়ট রয়েছে এই শহরের উপকূলে যে একে অনেকে নৌকার শহর বলেও ডেকে থাকে। তবে কেবল এতটুকুই নয়, এখানে এলে আরো পাবেন আপনি চমত্কার সব রিসোর্ট, পানির কাছে থাকার সুযোগ এবং অবশ্যই নৌকা ভ্রমণের সুযোগ!
৪. হেলসিনকি, ফিনল্যান্ড

ফিনল্যান্ডের সবচাইতে বড় আর জনবহুল শহর হিসেবে খ্যাত হেলসিনকিকে এমনিতে খুব একটা দেখবার মতন শহর মনে না হলেও একটু ভালো করে খেয়াল করলেই বুঝবেন আপনি যে ঠিক কী কারণে বিখ্যাত এটি। আর কারণটি হচ্ছে এর অসাধারণ স্থাপত্য! শহরের প্রতিটি স্থাপনার সাথেই লেগে আছে এই ছোঁয়া। আর সেজন্যেই ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব সোসাইটিজ অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনের কাছ থেকে ২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড ডিজাইন ক্যাপিটাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে শহরটি।
৫. হিলো, হাওয়াই

আপনি যদি একলা নিরাপদে কোথাও ভ্রমণ করতে চান তবে হিলোর চাইতে ভালো স্থান আর হতেই পারেনা। হাওয়াই এর মানুষের বসবাসস্থল হিসেবে সবচাইতে বড় এই দ্বীপ হিলোতে গেলে আপনি পাবেন অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজ।
৬. পার্থ, অষ্ট্রেলিয়া
প্রায় ৪০০ ফুট উপর থেকে ঝরে পড়া এর ঝর্ণাগুলো দেখলে মন অনেকটাই হালকা হয়ে যাবে আপনার। সেই সাথেমাউনা লোয়া ম্যাকাডেমিয়া নাট কর্পোরেশন তো আছেই এখানে। আর তাই বেড়ানোর সাথে সাথে ধুমসে চকোলেটও খেতে পারেন আপনি হিলোতে এলে।
আর কিছুর জন্যে না হোক এখানকার কিংস পার্কের জন্যে হলেও একবার পার্থে আসা উচিত আপনার। আর সেই সাথে এখানকার অসাধারন বীচ তো রয়েছেই। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের যেকোন বীচকে হারিয়ে দেওয়ার সুনাম আছে পার্থের বীচগুলোর!
৭. অসলো, নরওয়ে

নারীদের সমতার কথা যদি কেবল না শুনে দেখতেও চান তাহলে অসলোর চাইতে ভালো কোন স্থানই হয়না । আর কেবল সেটাই নয়, অসলোতে গেলে আপনি উপভোগ করতে পারবেন ভিজেল্যান্ড স্কাল্পচার পার্কের অসাধারন সব স্থাপত্যও। তবে ওখান থেকে ফিরে আসবার আগে নাইট ক্লাবে অবশ্যই ঘুরে আসবেন!

ঘুরে আসুন স্টিভেন স্পিলবার্গের ইয়াচে

স্টিভেন স্পিলবার্গের ইয়াচে
স্টিভেন স্পিলবার্গের ইয়াচে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আপনি এখন হলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের বিলাসবহুল এবং বিশালাকারের ইয়াচটি টাকা থাকলে ভাড়া নিতে পারেন।

তবে ২৮২ ফুট লম্বা ইয়াচটির জন্য মাসে আপনাকে গুনতে হবে ১২ লাখ ডলার।

সমুদ্রে ভ্রমণের জন্য স্পিলবার্গের চাই আরো বড় ইয়াচ। এজন্য ‘দা সেভেন সিস’ নামের ইয়াচটি বিক্রি করে দিচ্ছেন তিনি। এটা তিনি কিনেছিলেন ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১৪৩৫ কোটি টাকা) দিয়ে।

‘সাগরে তিনি ভ্রমণ কতটা উপভোগ করতে পেরেছেন না বুঝতে পারেননি স্পিলবার্গ। তিনি এখন সাগরে আরো বেশি সময় উপভোগ করতে চান। কিছু বন্ধুকেও নিতে চান তিনি। কাজেই তিনি চাচ্ছেন তুলনামূলক বড় একটি ইয়াচ,’ ডেইলি মেইলকে বলছিলেন তার এক বন্ধু।

স্পিলবার্গের বর্তমান ইয়াচটি ডাচ কোম্পানি ওসানকোর তৈরি। এতে রয়েছে বহু সুবিধা। যেমন ইনফিনিটি পুল, ১৫ ফুট গ্লাসের মুভি স্ক্রিন, হেলিকপ্টার প্যাড, স্পা, ম্যাসাজ রুমসহ বিলাসী বহু সুবিধা।

এতে রয়েছে মাস্টার স্যুট, দুটি ভিআইপি স্যুট, দুটি ডাবল বেড কেবিন এবং একটি দুই বেডের কেবিন। সব মিলিয়ে ইয়াচটিতে ১২ জনের ঘুমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

স্পিলবার্গ বর্তমানে মাসে ১২ লাখ ডলারে ইয়াচটি ভাড়া দিচ্ছেন। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইয়াচ বলে জানাচ্ছে ডেইলি মেইল।

তার নতুন ইয়াচটি আরো ১৮ ফুট দীর্ঘ হবে। এটি তৈরিতে খরচ পড়বে ২৫ কোটি ডলার (প্রায় ২০০০ কোটি টাকা)।

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের ঢল

1ff1efd9d586418ec0908c8de1f74611-Cox-Eid-1--19-07-15চট্টগ্রাম অফিস : ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (১৮ জুলাই) তেকে কক্সবাজারের সাগরসৈকতে ছুটি উপভোগে হাজার হাজার  পর্যটকের সমাগম ঘটে। ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে প্রচুর পর্যটক আসবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই সৈকত শহরে হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস আছে প্রায় ৪০০টি। এখানে দৈনিক ৭৭ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ভ্রমণে আসা লাখো পর্যটককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার।
হোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে  প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি অতিথি অবস্থান করেন। আজ রোববার অতিথির সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ঈদের তৃতীয় দিন হবে ৭০ হাজারের বেশি অতিথি। অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের কক্ষগুলো আগাম ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটকের নানার বাড়ি হচ্ছে কক্সবাজার। ঈদের দিন থেকে পর্যটকেরা নানার বাড়িতে আসা শুরু করছেন। এরপর টানা সাত দিন সৈকতে সমাগম ঘটবে লাখো পর্যটকের। পর্যটক টানতে হোটেল-মোটেলে আলোকসজ্জাসহ নানা বিনোদনের আয়োজনও রাখা হয়েছে।
সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকেরা দল বেঁধে ছুটছেন টেকনাফ, মাথিন কূপ, সেন্ট মার্টিন, প্যাঁচার দ্বীপ মারমেইড ইকো বিচ রিসোর্ট, হিমছড়ি, বৌদ্ধপল্লি, সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকে বিপদে পড়ছেন। হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকে। জোয়ার ভাটার হিসাব না করে সমুদ্রে গোসলে নেমে বিপদে পড়েন কেউ কেউ। প্রিয়জনের দুরবস্থায় তখন আনন্দের ভ্রমণ তেতো হয়ে যায়। এ জন্য দরকার সতর্কতা।
সৈকত রানির রূপ :
পাহাড়ের পাদদেশে সৈকত রানির নরম বালুচরে সকাল-বিকেল খালি পায়ে হাঁটাচলা, দৌড়ে রাজকাঁকড়া ধরার আপ্রাণ চেষ্টা, গভীর সাগর দিয়ে মাছ ধরে জেলেদের ফিরে আসার দৃশ্য, সাগরের লোনা জলে শরীর ভিজিয়ে নেওয়ার মুহূর্ত মনকে সতেজ ও উৎফুল্ল করে তোলে। মনে হবে, ভ্রমণটা সার্থক হচ্ছে।
সৈকতের বালুচর লাগোয়া বিশাল ঝাউবাগান। ঝাউবীথির মাঝে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ছবি তুলে নিন। মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে এই ছবি। হাতে সময় থাকলে অরণ্য ঘেরা পাহাড়, রাখাইনদের মন্দির, ক্যাং, জাদি, বার্মিজ ও ঝিনুক মার্কেট ঘুরে আসতে পারেন।
পাহাড়ি ঝরনার হিমছড়ি :
এক পাশে উঁচু পাহাড়, অন্য পাশে উত্তাল সাগর। মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে চলে গেছে দীর্ঘ ৮৪ কিলোমিটারের ‘কক্সবাজার-টেকনাফ’ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এই সড়ক ধরে ১৫ কিলোমিটার গেলে পাহাড়ি ঝরনার হিমছড়ি। হিমছড়ির পাহাড় চূড়ায় ওঠার জন্য রয়েছে কয়েক শ ফুট উঁচু পাকা সিঁড়ি। পাহাড় চূড়ায় উঠে নিচের গ্রাম ও সমুদ্র দেখতে দারুণ লাগে। মনে হবে সাগরের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।
মারমেইড ইকো রিসোর্ট, পাথুরে সৈকত :
হিমছড়ি থেকে আরও ১০ কিলোমিটার গেলে প্যাঁচার দ্বীপে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পল্লি ‘মারমেইড ইকো বিচ রিসোর্ট’। যেখানে ৯০ শতাংশ অতিথি বিদেশি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কচ্ছপ ভাস্কর্যটি এখানেই তৈরি। সন্ধ্যার পর এই পল্লির আলোকসজ্জা মানুষের নজর কাড়ে। এখান থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে ইনানী সৈকত। পাথরস্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বলে এটি পাথুরে সৈকত। এখানে থাকা-খাওয়ার জন্য বন বিভাগের একটি বাংলোসহ আধুনিক মানের কটেজ রিসোর্ট আছে।
নাফ নদী-মাথিন কূপ :
টেকনাফ থানার ভেতর মনোরম পরিবেশে সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্য্য ও মগ জমিদার-কন্যা মাথিনের ঐতিহাসিক প্রেমের নিদর্শন ‘মাথিন কূপ’।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, , প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ পর্যটক এই কূপটি পরিদর্শন করেন। এই কূপ নিয়ে অনেক বই, নাটক, ছায়াছবি, গল্প, কবিতা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে টেকনাফ মানে ‘মাথিন কূপ’।
হাতে সময় থাকলে দেখতে পারেন, দেড় কিলোমিটার দূরে টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, নাফ নদীর তীরের নেটং (দেবতার পাহাড়) পাহাড়, ঐতিহাসিক ব্রিটিশ বাঙ্কার, জালিয়ারদিয়া, এলিফ্যান্ট পয়েন্ট, মিয়ানমার সীমান্ত, বৌদ্ধমন্দির, পানের বরজ ইত্যাদি।
প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন :
টেকনাফ থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে ভাসমান প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। দ্বীপের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে প্রবাল, শৈবাল আর শামুক-ঝিনুক। দেখা যায়, সারি সারি নারকেলগাছ আর সাগর উপকূলে মাছ শিকারে ব্যস্ত হাজারো গাঙচিল। সেন্ট মার্টিনে থাকার জন্য ৩৩টি আবাসিক হোটেল ও ২০টির মতো রেস্তোরাঁ আছে। ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকদের পারাপারে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চালু হয়েছে একটি জাহাজ। এখন সমুদ্র উত্তাল। তাই দেশীয় ট্রলারে সেন্ট মার্টিন না যাওয়াই নিরাপদ।
বৌদ্ধমন্দির-রাখাইনপল্লি :
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার আসার পথে সারি সারি রাবার বাগান জানান দেবে—এটি রামু। রামুতে দেখতে পাবেন ১০০ ফুট লম্বা সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, আধুনিক মানের বৌদ্ধবিহার, রাখাইন মন্দির, রামকোট বনাশ্রম তীর্থধাম, জগৎজ্যোতি শিশু সদন, জাদি ও সম্রাট শাজ সুজা সড়ক।
কক্সবাজার শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী দ্বীপ। এখানকার মৈনাক পাহাড় চূড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘আদিনাথ মন্দির’। পাহাড়ের নিচে রাখাইনপল্লি। বিচিত্র তাদের জীবনযাপন। রাখাইন তাঁত ও কুটিরশিল্প, মন্দির, প্যাগোডা ভালো লাগবে। কক্সবাজার শহর থেকে স্পিডবোট ও লঞ্চে মহেশখালী যেতে হয়। সাগর উত্তাল থাকলে ঝুঁকি না নেওয়াই উত্তম।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক :
শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। পার্কে হেঁটে বা গাড়িতে করে গেলে দেখা যায় বাঘ, ভালুক, সিংহ, হাতি, কুমিরসহ নানা পশুপাখি। হাতির পিঠে চড়ে পার্ক পরিদর্শনের সুযোগ তো আছেই। আছে ২৫ মিনিটের বন্য প্রাণী ও গাছপালা দেখার ‘প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র’।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে দলে দলে চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ

trainBg_502099155

 

 

এ,এইচ,এম সুমন চেৌধুরী :
নগরীর রেলস্টেশনে বুধবার সকালে ঘরমুখো মানুষের মোটামুটি ভিড় দেখা গেছে। ঘরে ফেরা নারী-পুরুষ, শিশুদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। দেখা গেছে মোটামুটি স্বস্ত্বির পরিবেশও।প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে দলে দলে চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ। রেলস্টেশন, বাসস্টেশন সবখানেই মানুষের চাপ।হালকা ভিড় এড়িয়ে পরিবার-পরিজন, লাগেজ নিয়ে ‍মানুষ উঠছেন ট্রেনে। আর সঠিক সময়ে ট্রেনের যাত্রা শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে তেমন ভোগান্তিও নেই।

সিএমপি’র মুখপাত্র নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, ‍মূলত মঙ্গলবার থেকে লোকজন গ্রামে কিংবা পরিবারের কাছে যেতে শুরু করেছে। বুধবার আরও বেড়েছে। নগরীতেও আস্তে আস্তে মানুষের চাপ কমছে।
শবে কদরের জন্য ১৫ জুলাই বুধবার সরকারি ছুটি। ঈদুল ফিতরের বন্ধু শুরুর আগে মাঝে শুধু কর্মদিবস আছে একদিন। সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবীদের অনেকেই একদিনের ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। এর ফলে চট্টগ্রাম নগরী আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে শুরু করেছে।

এদিকে যাত্রীদের যাতে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয় সেজন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ট্রেনের প্রত্যেক দরজায় এবং স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা টিকেট চেক করার পর যাত্রীদের ট্রেনে উঠার অনুমতি দিচ্ছেন।

সরকারি কর্মকর্তা মাহবুব হাসান যাচ্ছেন ঢাকায়।

তিনি বলেন, ঈদের সময় গ্রামে গেলে সবার সঙ্গে একটু দেখাসাক্ষাৎ হয়। গ্রামের মানুষের সঙ্গে, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আনন্দফূর্তি করতে পারি।

স্বামী, সন্তান নিয়ে সিলেট যাচ্ছেন গৃহিণী নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করতে যাচ্ছি। অনেক খুশি লাগছে। এবার পরিবেশ অনেক ভাল। ভালভাবেই যাত্রা করতে পারছি।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদ করতে যাচ্ছেন গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে।

মহসিন বলেন, আমার বাবা নেই। বৃদ্ধা মা অপেক্ষা করে বসে থাকেন ছেলে ঈদে বাড়ি আসবে। এজন্য যাচ্ছি। গত দুই ঈদে যেতে পারিনি। অনেকদিন পর মাকে একটু দেখব।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ম্যানেজার মফিজুর রহমান বলেন, ট্রেনে যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত মঙ্গলবার যাত্রীর চাপ অনেক বেড়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার আরও বাড়বে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে একটি ছাড়া বাকি সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ছেড়েছে।

একটি ট্রেন ময়মনসিংহ অভিমুখী বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল ৭টা ২০ মিনিটে। সেটি ২০ মিনিট বিলম্বে ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ম্যানেজার মফিজুর রহমান জানান, তিনটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে ওয়ার্কশপ থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় সেটি ছাড়তে ২০ মিনিট বিলম্ব হয়েছে।

বুধবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সকাল ৭টায় মহানগর প্রভাতী, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পাহাড়িকা ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস।

চবি শিক্ষার্থীদের অন্য রকম এক একটি দিন

cuবাইজিদ ইমন, চবি :বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এলাকার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। যাতে রয়েছে বহু গৌরব উজ্জল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বন্দর নগরী থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে ছায়া সুনিবিড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত, যানজট ও কোলহলমুক্ত এক অনাবিল পরিবেশে এ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। ১৯৬৬ সালে প্রায় ১৭’শ একর জমির উপর আকাশ ছোয়া এক সবুজ চত্বরে গড়ে উঠে এ ক্যাম্পাস। প্রতিদিনই হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের পদচারনায় মুখরিত হয় সবুজের হাতছানি দেয়া পাহাড়েঘেরা এ ক্যাম্পাস। এ হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের জীবন চলায় ঘটেছে বহু রুপের সমাবেশ। তারপরও কাস, আড্ডা, হুডো- হুডি করে শাটল ট্রেনে উঠা সবকিছু যেন ওদের সাথে মিশে গেছে।ভোরের শুরুটা যেন তাদের জন্য এক ব্যস্ত নগরী হয়ে উঠে। তাদের ঘুম ভাঙ্গে চিরচেনা শাটলের প্রকম্পিত সেই হুইসেলে। ঘুম থেকে ওঠে দৌড়ে শাটলে জায়গা ধরা দিয়েই শুরু হয় ওদের সারাদিনের কর্মসূচি। কাসের ফাঁকে ঝুপড়িতে বসে দেশের সমকালীন বিষয় নিয়ে ওঠে চায়ের কাপে ঝড়। এক সাথে বসে আড্ডা, গান, হৈ-হুল্লুড় আর ঘোরাফেরার পর, দিন শেষে নীড়ে ফেরা। এভাবেই অতিবাহিত হয় পাহাড়ে ঘেরা সবুজে মোড়া দেশের অন্যতম উচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এক একটি দিন।প্রায় ১৯ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সবমিলিয়ে ১০টি আবাসিক হল। অথচ সেই ১০টি হলে আবাসন সুবিধা পায় মাত্র ৪ হাজার ২৫৪ জন। ছাত্রদের জন্যে তৈরীকৃত হলগুলোর মধ্যে আলাওল হলে ২৬৩ জন, এ.এফ রহমান হলে ২৫৮ জন, শাহাজালাল হলে ৪৭৫ জন, শাহ আমানত হলে ৬৩২ জন, সোহরাওয়ার্দী হলে ৩৭৫ জন এবং শহীদ আবদুর রব হলে ৫০৯ জন ছাত্র আবাসিক সুবিধাধীন।ছাত্রীদের জন্যে তৈরীকৃত হলগুলোর মধ্যে শামসুন নাহার হলে ৪৮১ জন, প্রীতিলতা হলে ৫৩১ জন এবং বেগম খালেদা জিয়া হলে ৫০৮ জন ছাত্রী আবাসিক সুবিধা পায়। এ ছাড়াও মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ২২২জন ছাত্রী আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীদের অনুপাতে একেবারেই নগন্য বলা চলে। তাই অধিকাংশ শিক্ষার্থীই থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা কটেজগুলোতে।শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে উদ্যোগী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য ২টি হল নির্মাণ করছে। ছাত্রদের জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এখনও নির্মাণাধিন এবং ছাত্রীদের জন্যে শেখ হাসিনা হল যা বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকার জন্যে একটা আসন যোগাড়ে কাসে ফার্স্ট হওয়ার মতই প্রতিযোগীতায় নামতে হয় শিক্ষার্থীদের। যারা প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে আসনের ট্রফি কাঁধে, ব্যাগ হাতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তরে হলে উঠে তাদের অভিজ্ঞতা হয় অন্যরকম। রুমমেটের সাথে মজার অনভূতিগুলো শেয়ার করে হঠাৎ হঠাৎ হেসে ওঠা, একদল বন্ধুদের রুমে এনে সারারাত ধরে তাস খেলা আর আড্ডা, পহেলা বৈশাখ অথবা থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে নির্ঘুম ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে গলা ছেড়ে গান গাওয়া, সবচেয়ে মজা হয় যখন যেকোন রাতকেই বন্ধুরা মিলে পহেলা বৈশাখ অথবা থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাত বানিয়ে দেই। এভাবেই আবেগী কন্ঠে হল জীবনের মজার অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন আলাওল হলের ১০৫ নাম্বার রুমের বাসিন্দা সাংবাদিকতা বিভাগের মিরাজ বাপ্পী। এতো গেল এক মিরাজ বাপ্পীর কথা, এভাবে কথা বললে বেরিয়ে আসবে হল জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা হাজারো মিরাজ বাপ্পীর কথা।
যারা হলের আসন বরাদ্দের প্রতিযোগীতায় হেরে যায় তারা ক্যাম্পাসের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে হাজারো সমস্যাকে নিত্যদিনের সঙ্গী করেই দিন যাপন করছে কটেজে। ব্যঙের ছাতার মত করে গড়ে ওঠা কটেজগুলোতে সমস্যাগুলো মাকড়সার জালের মত বিস্তার করে আছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যা ও চিন্তায় দিনাতিপাত করতে হয় তাদের। সমস্যা সমূহের মধ্যে নিরাপত্তা, পানি, টয়লেটের সংকীর্ন জায়গা, খেলাধুলা এবং বিনোদনের সমস্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারপরও ক্যাম্পাসের রঙিন জীবনের কিছু বর্ণচ্ছটা তাদের মাঝেই প্রতিফলিত হয়।
সবচেয়ে মজার বিষয়গুলোর মাঝে কটেজের নিয়ম-নীতিগুলো অন্যতম। এমন এমন কটেজ আছে যেখানে কোন সদস্যের মন খারাপ হলে সেদিনই তার জন্মদিন পালন করা হয়। তাদের মাঝে মফিজ কটেজ অন্যতম। এই কটেজেরই এক সদস্য মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “ আমার ২০১৫ সালের ইতোমধ্যেই ২ বার জন্মদিন পালন করা হয়ে গেছে। বন্ধুদের দ্বারা আরো কতবার জন্মোৎসব আমার করতে হবে তার কোন ইয়ত্তা নেই।” এই কটেজে এমন ও আছে যাদের গত বছরে কমপক্ষে ৩০ বারের অধিক জন্মদিন হয়েছে।
গোধূলী বেলায় পর্যটকের যখন ঢল নামে তখন প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীই যেন এক একজন পর্যটক হয়ে উঠে। সকলের মাঝে “চলো পর্যটকের চোখে দেখি সুন্দর ক্যাম্পাস” এ ধরণের অনুভূতি কাজ করে। শহীদ মিনার অঞ্চলে বিভিন্ন হল থেকে এসে মিলিত হয় , জটলা পাকিয়ে বসে শুরু হয় শেষ না হওয়ার গল্প। কোন কোন জটলায় দেখা যাবে মেয়ে বন্ধুরা হয়ত রেঁধে নিয়ে এসেছে কোন মুখরোচক খাবার অথবা বানিয়ে নিয়ে এসেছে কোন অচেনা ঢংয়ের পিঠা। আর ছেলে বন্ধুরা যেন সৃষ্টি হয়েছে খাওয়া আর গান গাওয়ার জন্যে।এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী বন্ধুদের ও দেখা যায়। যারা পশ্চীমাকাশে সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথে বেরিয়ে যায় টিউশনের উদ্দেশ্যে। ফিরে আসে সাঁঝের বেলা। কেউ আবার হয়ত এসব থেকে মুক্ত হয়ে মাঠে বল নিয়ে ছুটে চলেছে। সন্ধার আঁধার নামার সাথে সাথে ঘর্মাক্ত কলেবরে রুমে ঢুকেই বৈদ্যুতিক পাখা ছেড়ে দিয়ে দেয় লম্বা এক ঘুম। সে সময়টাতে গান বাজনায় মেতে উঠে পর্যটকের বেশধারণকারী বন্ধুরা। লেডিস হলের ঝুপড়িগুলোকে মনে হবে এক একটি শিরোনামহীন কিংবা লালন ভক্তদের আড্ডা। এরই মাঝে ক্যাম্পাসের অনাবাসিক ছাত্র/ছাত্রীদের বিদায় জানিয়ে আসতে হয় প্রাণের ক্যাম্পাসকে। বিদায় জানিয়ে আসতে হয় আগামী দিনের আগমন পর্যন্ত।
এভাবে ধিরে ধিরে একসময় থেমে যায় সকল কোলাহল। মুহুর্তেই থেমে যায় সব গানের কন্ঠ। পাহাড় নিবাসী পাখিদের গুঞ্জন ও থেমে যায় হঠাৎ। একমাত্র তখনই মনে হয় রাত নেমেছে। ধীরে ধীরে ভাঙতে থাকে সব আড্ডা পাগলদের জটলা । ফিরে যায় তারা ও আপন রুমে। সেই নিরবতাকে খান খান করে ভেঙে দিয়ে শাটল তার ক্যাম্পাস আগমনী বার্তা শুনায়। আর শাটলের পেট থেকে নেমে আসে টিউশন ফেরত বন্ধুরা।
রাতের আঁধারে ঘুমিয়ে পড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। স্বপ্ন দেখে তারা আগামীকালের সূর্যোদয়ের। অথচ অদৃষ্টে বিধাতার কি নিয়ম লিখা আছে সে জানে না। তারপরও স্বপ্ন দেখে আবার একটি ব্যস্ততম দিনের। আবার ছুটে গিয়ে শাটল ধরার
এতো কান্তি আর পরিশ্রমের মাঝেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পায় এক ধরনের সুখের সন্ধান। এ সুখকে পুজি করেই ক্যাম্পাসের আনান্দঘন মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করে ওরা। যার ফলে শিক্ষাজীবন শেষ করেও অনেকে আবার ফিরে আসে পুরোন স্মৃতির টানে। হয়তো তাই ভেবেই কেউ গেয়ে উঠেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিনগুলি যায় হারিয়ে যায়, উজ্জ্বল বর্ণালী দিনগুলি মিলিয়ে যায় হাওয়ায়