ভারত থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

ভারত থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

নিউজ ডেস্ক: দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে ১ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি টন চালের দাম ৪৫৫ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুপস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট ১৫টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মেস্তাফিজুর রহমান।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী ঋণপত্র খোলার ৬০ দিনের মধ্যে পুরো চাল সরবরাহ করবে ভারত। ১৫ হাজার টন চালের প্রথম চালান বাংলাদেশে পাঠাবে ঋণপত্র পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে। ২০১৭ সালে উৎপাদিত চাল সরবরাহ করতে হবে ভারতকে। এই চালে ৫ শতাংশ ভাঙা দানাসহ অন্যান্য প্যারামিটারে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। তবে চালের আর্দ্রতার সর্বোচ্চ মাত্রা ১৩ শতাংশের বদলে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্থির করেছে উভয় পক্ষ।

বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে ১ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানি সংক্রান্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠকে অনুমোদনের আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আলাদা দুটি ক্রয় প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে কাতার থেকে ২৫ হাজার টন এবং সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ১১ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

বৈঠকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬৫ হাজার ২৮২ কিলোমিটার কন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩৫২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি সাবস্টেশন নির্মাণের অপর একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাতটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই সাতটি ক্রয় প্রস্তাবে ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

কাস্টম সার্ভার ক্রটি, বন্দরে জটলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বকাস্টম সার্ভার ক্রটি, বন্দরে জটলান্দরে কাস্টম সার্ভারে ক্রটির কারণে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রায় সাতঘন্টা পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। ফলে পণ্য নিতে আসা বিপুল সংখ্যক ট্রাক কাভার্ডভ্যানের জট সৃষ্টি হয়েছে। এতে খালাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে অভিযোগ বন্দর কর্তৃপক্ষের।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দ্রুত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অ্যাসেসমেন্টর উপর নির্ভর করে। সার্ভার সঠিকভাবে কাজ না করলে পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট দ্রুত হয় না। প্রায় সময় পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাস্টম সার্ভার কোন কাজ করেনি। ফলে পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বন্দরের ভেতরে-বাইরে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের জট সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সময় এই সমস্যা দেখা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

চট্টগ্রাম-কাতার রুটে রিজেন্টের ফ্লাইট উড়বে

কাতার রুটে রিজেন্টের ফ্লাইট উড়বেনিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম থেকে কাতারে যাতায়াত সহজ করতে চট্টগ্রাম-দোহা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। চট্টগ্রাম-দোহা-চট্টগ্রাম রুটে ২ জুলাই থেকে সপ্তাহে দুদিন রিজেন্ট চলাচল করবে।

বিমানসংস্থাটির তথ্য মতে, ১৬৭ আসনের নতুন প্রজন্মের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি উড়বে প্রতি সপ্তাহে রবি ও বুধবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে দোহা পৌঁছাবে। দোহা থেকে মধ্যরাত ২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে সকাল ১১টায় পৌঁছাবে। সব সুবিধাসহ সর্বনিু ভাড়া ওয়ানওয়ে ২৩,৭৮৭ টাকা এবং রিটার্ন ৪০,৪৬২ টাকা। চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময় ২০ কেজি এবং দোহা থেকে আসার সময় ৪০ কেজি ব্যাগেজ সুবিধা রয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লে. জেনারেল (অঃ) এম ফজলে আকবর জানান, শুরু থেকে ঢাকা চট্টগ্রামের সাথে বর্হিবিশ্বে আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক, কলকাতা, মাসকাট সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। এবার যুক্ত হচ্ছে কাতারের রাজধানী দোহা।

স্ক্র্যাপ জাহাজের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারে দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্ট১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারে দাবিগ্রাম : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিপ ব্রেকিং এণ্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ভ্যাসেলের ওপর স্পেসিফিক ডিউটির পরিবর্তে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারে দাবি। সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং এণ্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু তাহের জানান, দেশের ৫ শতাধিক রি-রোলিং কারখানার কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপের বার্ষিক চাহিদা ৪০ লাখ মেট্রিকটন। ৮০ ভাগ জাহাজ পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণে এ খাত থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে। ফলে লোহার স্ক্র্যাপ আমদানি খাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। এ শিল্পকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহার হচ্ছে রি-রোলিং কারখানার রড, এঙ্গেল, বার প্রর্ভতি লৌহসামগ্রী। এসব লৌহসামগ্রীর মূল্য সহনীয় রাখার ক্ষেত্রে শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্মেলনে জানানো হয়, স্ক্র্যাপের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের কারণে স্ক্র্যাপের মূল্য বাড়বে। ফলে লোহার রড, এঙ্গেল, বারসহ বিভিন্ন লৌহসামগ্রীল দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বাড়বে। যা দেশের অবকাঠমোগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। স্ক্র্যাপ জাহাজের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাং আরডি প্রত্যাহার করে গেল অর্থবছরের মত শুল্কহার নির্ধারণের সুযোগ দিতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এইউএম জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সদস্য মাস্টার আবুল কাসেম, কামাল উদ্দীন আহমদ, এম সোলায়মান, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীলকে.এম জাহেদ, চট্টগ্রাম : রমজান শুরুর পর ছয় দিন পার হতে চললেও চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। কেজিতে কোনো পণ্যের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুক্র ও শনিবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের অন্যতম প্রধান ভোগ্যপণ্য ছোলা, চিনি, ডাল, আদার দাম বাড়ছে। কমার কোনো লক্ষণ নেই। সেইসঙ্গে বেড়ে চলেছে চালের দামও। তবে পেঁয়াজের দাম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।

রমজানের এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে ছোলার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। বৃহস্পতিবার পাইকারি বাজারে সে ছোলা বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। আবার উন্নতমানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। একইসঙ্গে সব ধরনের ডালের দামও বেড়ে চলেছে। দুই সপ্তাহ আগে খেসারি ডাল প্রতি কেজির দাম ছিল ৬৫ টাকা। এখন দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মটর ডাল ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়ে চলেছে চিনির দামও। দুই সপ্তাহ আগে চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

দেড় মাস আগে থেকে রমজানের প্রধান ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। মুড়ি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, খেজুরের দামও বাড়ছে। মজুতদাররা কৌশলে রোজার আগে থেকে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের বরাবরের মতো দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দরবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও দাম বেড়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বাজারে মনিটরিং টিম পরিচালিত হচ্ছে। রমজানে জেলা প্রশাসনের দুইটি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজার ও কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওঠানামার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজের বাজার। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, সয়াবিন (বোতলজাত) ৯০ থেকে ৯৫, মুড়ি ৭০, খেজুর মান ভেদে ১০০ থেকে ২৫০, খেসারি ডাল ৬৫ থেকে ৭০, রসুন ২০০ থেকে ২১০, কিসমিস ৪০০ থেকে ৫০০, মটর ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। চকবাজারের মুদি দোকান ব্যবসায়ী মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, রমজানের আগে পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও রমজানের এক সপ্তাহ আগে হু হু করে বেড়ে গেছে। কি কারণে দাম বেড়েছে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্য মজুদ ও সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়ে যায়।

বাজার অস্থিতিশীল

কাঁচাবাজারে দাম বেড়েছে মরিচের। সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা বিক্রি হলেও রমজানে বেড়ে ১৮০, বেগুন ৬০ থেকে বেড়ে ৭০, টমেটো ৩০ থেকে বেড়ে ৪০, ধনিয়া ১০০ থেকে ২০০, শসা ১৫ থেকে বেড়ে ৩০, গাজর ৬০ থেকে কমে ৪০, গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৬০০, রুই ১৮০ থেকে বেড়ে ২০০, রুই বড় ২৮০ থেকে বেড়ে ৩০০, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে বেড়ে ১৬০, লটিয়া ৮০ থেকে বেড়ে ১২০, চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। কাজির দেউড়ি কাঁচাবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, বৃষ্টি হলে মাছের দাম কমে যাবে। তবে রমজানের আগে মাছ-মাংসের দাম স্বাভাবিক থাকলেও রমজানে কিছুটা বেড়েছে।

নগরীর পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই চালের দাম বেড়ে চলেছে। দেশি জাতের চালের দাম বস্তাপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। দুই সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে চাল প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও রমজানের এক সপ্তাহ আগে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় ঠেকেছে। তবে নতুন জাতের ধান বাজারে আসতে শুরু করায় দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চকবাজার কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ হেলাল বলেন, বাজারে এখন প্রচুর সবজি রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে নগরীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে। বাজারে সংকট নেই। গত সপ্তাহে সবজির দাম বৃদ্ধি থাকলেও এ সপ্তাহে কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টি হলে দাম বাড়বে। দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, বৃষ্টি হলে বাজারে সবজির সংকট দেখা দেয়। দূরদূরান্ত থেকে নগরীতে পর্যান্ত সবজি আসে না। তাই দাম বাড়ে।

উন্নয়ন সহায়ক বাজেট : চেম্বার সভাপতি

উন্নয়ন সহায়ক বাজেট
নিউজ ডেস্ক : অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিটাগাং চেম্বারসভাপতি মাহবুবুল আলম এটিকে উন্নয়ন সহায়ক বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন। আজ ১জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ২০১৭-১৮ অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং অবচয়ন বিবেচনাপূর্বক এ সীমা বৃদ্ধি করা উচিত। একইভাবে মহিলা এবং ৬৫ উর্ধ্ব করদাতাদের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা উচিত। চেম্বার ও ব্যবসায়ীদের বারংবার দাবীর পরও ১৫% ভ্যাট হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আমরা আবারও এ হার পুনর্বিবেচনা করে ১০-১২% করার দাবী জানাচ্ছি।

মাহবুবুল আলম বলেন, চেম্বারের দাবীর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে লালখান বাজার হতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কি.মি. দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইন উন্নীতকরণ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেললাইন সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম-ঢাকা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে।

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, আইপ্যাড ইত্যাদি উৎপাদন ও সংযোজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। জুয়েলারী শিল্পের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট উন্নয়নমূখী তবে ভ্যাট হার হ্রাস করা না হলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আমরা মনে করি।

গ্যাসের বাড়তি দাম কার্যকর

গ্যাসের নতুন মূল্যেঢাকা অফিস : আজ বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর হচ্ছে গ্যাসের বাড়তি দাম। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল।

দুই ধাপে তারা আট খাতে গড়ে ২২.০৭ শতাংশ দামবাড়িয়েছিল। প্রথম দফার দাম কার্যকর হলেও আদালতের রায়ে আটকে যায় দ্বিতীয় দফার দাম। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আবার সে আদেশ স্থগিতও হয়ে যায়।

বিইআরসি বলছে, এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়াতে আর কোনো বাধা নেই।

গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান জানান, ১ জুন (বৃহস্পতিবার ) থেকেই তারা দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের বাড়তি দাম কার্যকর করবেন। বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এই দাম কার্যকর করবেন।

দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় দুই চুলার গ্যাসের দাম পড়বে ৯৫০ টাকা আর এক চুলা ৯০০ টাকা। বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম হবে ১৭.০৪ টাকা, সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার হবে ৪০ টাকা।

ক্যাপটিভ পাওয়ার প্রতি ঘনমিটার ৯.৬২ টাকা, বিদ্যুৎ খাতের গ্যাসের দাম হবে ৩.১৬ টাকা, চা-বাগানে গ্যাসের দাম হবে ৭.৪২ টাকা, সার কারখানায় ২.৭১ টাকা, শিল্পে ৭.৭৬ টাকা। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটার ব্যবহারকারীদের দাম হবে ১১.২০ টাকা।

জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় মূল্য বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর ৮১ শতাংশ অর্থ যাবে সরকারি কোষাগারে। বাকি ১৯ শতাংশ অর্থ যাবে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানির কোষাগারে। অন্যান্য কোম্পানির আয় দিয়ে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

ফুটপাতে হকার বসবে বিকেলে

ফুটপাতে হকার বসবে বিকেলেনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : ঈদের আগে আপাততে ফুটপাতে বসা হকার উচ্ছেদ হচ্ছে না। তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে উচ্ছেদ না করে আগামী ১ জুলাই থেকে হকারদের শৃঙ্খলায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত হকার সংগঠকদের সভায় মেয়র আ জ ম নাছির এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে চসিকের নির্ধারিত স্থানে পরিচয়পত্রধারী হকাররাই শুধু বিকেল পাঁচটা থেকে পণ্যসামগ্রী নিয়ে বসার সুযোগ পাবেন। রাত ১১টা-১২ পর্যন্ত একটানা ব্যবসা করতে পারবে হকাররা। এর অন্যথা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগ ফুটপাতগুলোকে টাইলস্ দ্বারা দৃষ্টিনন্দন করবে এবং আলাদা আলাদা করে দোকানের পজিশন মার্কিংসহ নাম্বারিং করে দেবে। নির্দিষ্ট আইডি কার্ডধারী হকাররা তার আইডি নম্বর অনুযায়ী নির্দ্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করবে। ফুটপাতে জনসাধারণের চলাচলের সুযোগ থাকবে। হকার ব্যবসায় জড়িতরা এদেশের নাগরিক। তাদের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ ও জীবন-জীবিকার স্বার্থে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদ না করে তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

সভায় চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজিদা শরমিন, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম, হকার সংগঠন ও সমিতির মধ্যে চট্টগ্রাম হকার্স লীগের সভাপতি নুর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি মো. মিরন হোসেন মিলন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম মিয়া, চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সভাপতি নুরুল আলম লেদু, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান, আন্দকিল্লা টেরিবাজার হকার সমিতির সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, ইপিজেড এলাকা হকার লীগের সভাপতি মো. মিলন, সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নে অস্ট্রিয়ান সরকারের সহযোগিতার আহবান

অস্ট্রিয়ান সরকারের সহযোগিতার আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে দিল্লিস্থ অস্ট্রিয়ান ট্রেড কমিশনের কমার্শিয়াল অ্যাটাচে সিগফ্রায়েড ওয়েডলিচ চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলমের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সোমবার চেম্বার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, অস্ট্রিয়া বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। অস্ট্রিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকার পরও অস্ট্রিয়া বিনিয়োগে যথেষ্ট নয়। বর্তমান সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তথা চট্টগ্রামের মিরসরাই ও আনোয়ারায় অস্ট্রিয়ান বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

চেম্বার সভাপতি বাংলাদেশর সম্ভাবনাময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অস্ট্রিয়ান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বার ডিরেক্টর এমএ মোতালেব।

রোজায় গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৪৭৫ টাকা

রোজায় গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা

ঢাকা অফিস : রাজধানীতে রমজান মাসে দেশি গরুর মাংস বিক্রি হবে প্রতি কেজি ৪৭৫ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হবে প্রতি কেজি ৭২৫ টাকায়। ২৬ রমজান পর্যন্ত নির্ধারিত এই দামে বিক্রি হবে মাংস। আজ মঙ্গলবার মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের আলোচনার পর এই দাম নির্ধারণ করা হয়। নগর ভবনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ঠিক হয়েছে ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম রোজা থেকে ২৬ রোজা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় এ দামে মাংস বিক্রি করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত দাম রাখলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়। গতবছর রোজায় গরুর মাংস ৪২০, মহিষ ৪০০, খাসি ৫৭০, ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৪৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

তবে সভায় বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গাবতলী গরুর হাটসহ অন্যান্য হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ঢাকার মানুষকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মাংস খাওয়ানো যাবে। চাঁদাবাজিসহ ইজারাদারদের অত্যাচারের বিষয়ে বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।