শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে ১৬ নভেম্বর

নিউজ ডেস্ক  ::    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ সিনেমারটির ট্রেইলার প্রকাশ পায় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। ট্রেইলার প্রকাশ হওয়ার পর পরই সিনেমাটি নিয়ে অন্যরকম আগ্রহ তৈরি হয় দর্শকের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ‘অ্যা ডটারস টেল’ সিনেমার ট্রেইলার।

দুই মিনিট ৪৮ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ট্রেলারটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনীতিকরাও তাদের টুইটার, ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ সিনেমাটি। আগামী ১৬ নভেম্বর চলচ্চিত্রটি দেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।এর মাধ্যমে সবার অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ডকু-ড্রামা ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির তথ্যমতে, ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ প্রযোজনা করেছে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। সিআরআই এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রেজাউর রহমান খান পিপলু নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্রটি ।

জানা গেছে, ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে পরিচালকের দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় লেগেছে। অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। চলচ্চিত্রটির পরিচালক পিপলু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাটকীয় কিন্তু আন্তরিক ভঙ্গিতে চিত্রায়ণ করেছেন বিভিন্ন ভূমিকায়। কখনও বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, কখনও একজন নেতা বা পুরো দেশের ‘আপা’ হিসেবে এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে তার ব্যক্তিসত্তাকে।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

প্রতিষ্ঠিত একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সঙ্গীত প্রিয় মানুষ আবদুল জব্বার খান

প্রতিষ্ঠিত একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সঙ্গীত প্রিয় মানুষ আবদুল জব্বার খান

–আবদুল জব্বার খান। বসুধা বিল্ডার্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। দেশের প্রতিষ্ঠিত একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সঙ্গীত প্রিয় মানুষ। ব্যবসায়িক কৌশল ও সততার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন তিনি এই রিয়েল এটেস্ট প্রকল্পটি।

গতকাল ছিল তার বিয়ের দুই যুগ, ২৪ বছর। বিবাহ বার্ষিকী নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে চমৎকার একটি লেখা পোস্ট করেছেন সজ্জন মিডিয়া বান্ধব মানুষ আবদুল জব্বার খান। পাঠকের জন্য তার সেই লেখাটি তুলে ধরা হলো!

সাজানো গোছানো একটা ড্রইংরুমে বসে আছি।
একটু টেনশন হচ্ছে। হবু শ্বশুর আমার ইন্টারভিউ নেবেন। ভদ্রলোক দুবাই থাকেন পঁচিশ বছর ধরে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইনস এ‍্যামিরেটস এর বড়কর্তা।

সুমি হঠাৎ করেই গতকাল ফোনে বললো,
: কাল দুপুরে বাসায় আসতে পারবে? বাবা আসতেছে। ভোরের ফ্লাইটে। দশটার মধ‍্যেই বাসায় চলে আসবে।
আমি বললাম,
: জী… ম্যাডাম। কখন আসবো?
: বারোটায়। মনে থাকে যেন। বলেই লাইন কেটে দিল।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। হঠাৎ করে আবার কি হলো! নতুন কোন ঝামেলা নাতো!

মাত্র গতকালই ওদের বাসায় অনেক নাটক করে এসেছি। একদিন গ্যাপেই আবার!
সুমি`র ফ্যামিলি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলোনা দেখে ও চাচ্ছিলো বিয়ের কাজটা কোর্টেই সেরে ফেলতে।
আমি রাজি না। বললাম,
: আমাকে একবার চেষ্টা করতে দাও। আমি তোমার ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে চাই। কোর্টে বিয়ে করলে, তোমার ফ্যামিলি সামাজিক ভাবে অপমানিত হবে। আমার ফ্যামিলি থেকেও সারাজীবন খোঁটা শুনতে হবে। কথায় কথায় বলবে, এই মেয়েতো ভেগে এসেছে! তোমারও সন্মান নষ্ট হবে।

সুমি ভীত গলায় বললো,
: ওরা তোমাকে অপমান করবে! তোমার আর্থিক ব্যাপার নিয়ে যাচ্ছেতাই কথা বলবে!
এগুলো আমি সহ্য করতে পারবো না!
আমি বললাম,
: করুক! যত খুশি অপমান করুক! আমি ফেস করতে চাই। অন্ততঃ নিজেদেরকে বোঝাতে পারবো যে আমাদের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল না।

গেলাম তাদের বাসায়। নিজেদের বিরাট বাড়ি! দোতলায় থাকে। বাকি সব ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া।
আমার সঙ্গী হয়েছে ছোট বোন মিতা, তার বর জামিল এবং আমার বন্ধু শাম্মু।
ওদের বাসায় ঢোকার সময় জামিল ভাই আমার হাতে চাপ দিয়ে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলেন। বললেন,
: একদম নার্ভাস হবেন না! সব ঠিক হয়ে যাবে!
আমরা কথা বলবো। আপনি পাত্র। নিজে থেকে কিছু বলতে যাবেন না!
বলার সময় তার চেহারা দেখে বুঝলাম, নিজেই নার্ভাস হয়ে গেছেন।
বোন মিতা এমনিতে মাতব্বরি করে অনেক।
কিন্তু আজকে কেন যেন খুবই চুপচাপ। বরের কথায় সায় দিয়ে বললো,
: হুম। সেটাই ভালো। তোমার ওই জিহ্বাটা আজকে ব্লক করে রেখো! যা বলার আমরাই বলবো।
কি বলেন, শাম্মু ভাই? বলে আমার বন্ধুর দিকে তাকালো। বন্ধু শাম্মু আরো বেশি নার্ভাস ভঙ্গিতে বললো,
: তাইতো করতে হবে। বলার সময় দেখলাম, বরাবরের মতই শাম্মু বেচারার চেহারায় খুবই দুর্বল ভাব।
আমি জানি, পাত্র হিসেবে আমার দুর্বল অবস্থাই ওদেরকে নার্ভাস করে দিয়েছে। তার উপর আবার অপমানিত হবার হুমকি ছিল।
সবাই মিলে ওদের ড্রইং রুমে বসে গেলাম।

সুমির বাবার দুজন বন্ধু এবং এক কাকা ওই পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বড় মানুষের বড় বন্ধু। সবার আগে টাকা পয়সা নিয়ে কথা বলেন। ভাবখানা এই যে অঢেল টাকা থাকলে, বাকি সব মাফ। যাই হোক, এক পর্যায়ে ঝগড়াটা বেধেই গেল।
এক বন্ধু আভিজাত্যের আগুনে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,
: আগে মেয়ের নামে দশ লাখ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করতে হবে। তারপর আমরা বিয়ের আলোচনায় বসতে পারি। আমার পকেটের মানিব্যাগে তখন বড়জোর ছয় সাতশো টাকার মত হবে। আর ওইটাই ছিল আমার ব্যাংক, বাজেট, সঞ্চয় সব। ন্যাচারালি মাথাটা গরম হয়ে গেল।
সবার সাবধান বাণী ভুলে গেলাম। বললাম,
: ফাজলামো করেন? এটা কি বিজনেস ডিল হচ্ছে?
মেয়ে পক্ষের সবাই ক্ষেপে গেলেন। বললেন,
: ছেলেতো মহাবেয়াদব! আমরা এই বিয়ে দেবো না!
আমার পক্ষের সবাই তখন আমার হাত টেনে ধরেছে। কথা না বলার জন্য অনুনয় করছে।
তবুও আমি বললাম,
: নেগেটিভ কিছু বলার আগে মেয়ের মতামত জেনে আসুন!
: ওকে! তাহলে তাই করি! বলে ওনারা সবাই দল বেঁধে ভেতরে চলে গেল।
মিতা প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে আমার হাত চেপে ধরে বললো,
: ভাইয়া। সুমি ঠিক আছেতো? উল্টাপাল্টা হলে আর মানসম্মান বলে কিছু থাকবে না।
আমি বললাম,
: ঠিক থাকারইতো কথা। দেখা যাক! ওয়েট করি!
কাকারা সেই যে গেল ভেতরে, আর আসেনা।
সুমি আর তার বোন হঠাৎ করেই পর্দা সরিয়ে ড্রইংরুমে ঢুকলো। সুমির চোখ ভেজা। এসেই আমার পাশে বসে হাত ধরে বললো,
: স্যরি! কাকারা কাজটা ঠিক করেনি।
আমাকে হুমকি দিয়েছে বারবার। এই বিয়ে হবে না! হতে দেবে না! আমিও বলে দিয়েছি, তোমরা বাধা দিলে আমি কোর্টে বিয়ে করবো এবং একেই করবো! শুনে রাগ করে সবাই অন্য দরোজা দিয়ে চলে গেছে। তুমি প্লিজ, কষ্ট নিওনা!
সবার চোখে মুখে স্বস্তির ছাপ দেখলাম।
আমি সুমিকে বললাম,
: আমিতো তোমার জন‍্যেই এসেছি। অন্যেরা কি বললো, তাতে কিছুই আসে যায় না।

পর্দা সরিয়ে মেয়েকে নিয়ে হবু শ্বশুর মশাই ঘরে ঢুকে একটা সোফায় বসলেন। আমি সালাম দিলাম। সুমি বললো,
: তুমি বাবার সাথে কথা বলো। আমি চা নিয়ে আসছি। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলাম।
ভদ্রলোক হেসে বললেন,
: একটু প্যাচ লেগে গেছে। অন্যদের দায়িত্ব দিলে যা হয় আর কি! ফোনে আমি সব শুনেছি। আই এম স্যরি ফর এভরিথিং! বাবার কাজ বাবাকেই করতে হয়। অন্যরা নিজেদের ইগো নিয়ে ভাবে। অথচ, এখানে আমার মেয়ের জীবন জড়িত। আমি সব শুনে দুবাইয়ে আমার অফিসে খুব মন খারাপ করে বসেছিলাম। আমার বস, শেখ, সব জেনে বললেন, নিজেই দেশে চলে যাও! ছেলে পছন্দ হলে একেবারে বিয়ে দিয়ে চলে আসো! এখন কথা হচ্ছে, পছন্দের ব্যাপারটাতো আমাদের হাতে আর নাই।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আবার বললেন,
: তুমি কি করো? আই মিন, হোয়াট`স ইয়োর প্রফেশন?
আমি জবাব দিলাম,
: একটা ব্যবসার চেষ্টা করছি। জানি না, এটা দাঁড়াবে কিনা!
: ওহ্..! বলে তিনি আবার বললেন,
: তুমি কোথায় থাকো? বললাম,
: পুরোনো ঢাকার বনগ্ৰামে ছোট্ট একটা বাসায় থাকি।
আবারও প্রশ্ন।
: কয় বেডের ফ্ল্যাট?
আমি মৃদু হেসে বললাম,
: বেড ফেডের হিসাব করার মতো কিছু নাই।
দুইশ বছরের পুরোনো বাড়ি। লিজিং প্রোপার্টি। ঘর আছে মোট তিনটা। ছোট ছোট। যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। দিনে ভাঙলে রিস্ক নাই।
রাতে ভাঙলে রিস্ক আছে। কারন, সারাদিন আমি বাসায় থাকি না। রাতে এই বাসাটাতেই ঘুমাই।

হবু শ্বশুর এতোটা চমক আশা করেননি।
তবুও হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতেই বললেন,
: তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে।
এবার আমিও চমকে গেলাম। ওনার কথা বিশ্বাস হচ্ছিল না।
উনি সেটা বুঝেই বোধহয় বললেন,
: আমি সারাজীবন অনেস্ট লাইফ লিড করেছি।
তাই অনেস্ট মানুষ পছন্দ করি। তুমি ইচ্ছে করলে একটা ভিজিটিং কার্ড আমার হাতে ধরিয়ে দিতে পারতে। যাতে হয়তো লেখা থাকতে পারতো ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা চেয়ারম্যান।
তাছাড়া, তোমার বাসার ব্যাপারেও যা বললে, আমার চৌদ্দ গুষ্টির কেউ এরকম শুনেছে কিনা সন্দেহ আছে। আশা করি, সারাজীবন তুমি এরকমই থাকবে!
গলা চড়িয়ে সুমির মা`কে সহ সবাইকে ডাকলেন।
বললেন,
ছেলে আমার পছন্দ হয়েছে!
তার অকপট কন্ঠে ছিল গভীর আনন্দের ছোঁয়া।
মেয়েকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বললেন,
চিন্তা করিস না! কুসুম একদিন অনেক বড় হবে!
এই ছেলে বড় না হয়ে যায় না!
জিরো ক্যারিয়ারের একটা ছেলের প্রতি সুমি এবং তার ফ্যামিলির আস্থা দেখে আমার চোখ ভিজে গেল। কয়েক দিন পরেই বিয়ের কাজ শেষ।

ক্যারিয়ারের চড়াই উতরাই থাকবেই। আমারো ছিল, আছে। সুমিকে কখনোই দেখিনি হতোদ্যম হতে। একটা অন্ধ বিশ্বাসের সাথে বলে,
: তোমার কিছুই হবে না। তুমি হারার মতো মানুষ নও। আমার ওপর আস্থা রেখে গভীর নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যায় সে। আমি বসে বসে ভাবি, ওর এই বিশ্বাস আমি সারাজীবন ধরে রাখতে পারবো তো?

আজ আমাদের বিয়ের চব্বিশ বছর পুরো হলো।
দুই মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে ভালো আছি। ওহ্, বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। জামাইকে না দেখে থাকতে পারিনা এখন। আলহামদুলিল্লাহ!
সবার কাছেই প্রার্থনা,
: আমাদের জন্য দোয়া করবেন! যতদিন বাঁচি, এভাবে একসাথেই যেন থাকতে পারি!

বিঃদ্রঃ আমার ছোট বোন মিতা আর বেঁচে নেই।
আমেরিকার মাটিতে শুয়ে আছে সে। ওর দুই ছেলে এবং হাজবেন্ড ওখানেই এস্টাবলিস্ট।
”আল্লাহ্ আমার বোন মিতাকে জান্নাতবাসী করুন!”

শিলবান্ধা গ্রাম পেরিয়ে দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের গল্প

শিলবান্ধা গ্রাম পেরিয়ে দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের গল্প

কমল দাশ: কল্পনা করুন আপনি একটি জঙ্গলে বাঁশের ভেলায় ভাসছেন। দুই দিকে দালানের মত উঠে একশ মিটারের মত যাওয়া খাড়া পাহাড়। যে পাহাড়ের নাম সিপ্পি পাহাড়।

ঘন বন জঙ্গল আর এই খাড়া পাহাড়ের জন্য দিনের বেলায় ও কুমের ভিতরের দিকটায় আলো ঠিকমত পৌঁছায় না। ভেলা ভাসিয়ে যত ভিতরে যেতে থাকবেন পরিবেশ ততই ঠাণ্ডা আর নিস্তব্ধ হতে থাকবে। নিস্তব্ধতা এমনি থাকবে যে আপনি দূরে পাতার গা থেকে পানি পরার শব্দ এমনকি নিজের নিশ্বাসের শব্দ ও খুব ভালোভাবে শুনতে পারবেন। এখানকার আদিবাসীদের মুখে প্রচলিত আছে এই কুমে বিরাট বড় একটি কচ্ছপ বা অন্য কোন নাম না জানা প্রাণী রয়েছে। যার ওজন অন্তত ২ মণের বেশি হবে। অনেকেই এই প্রাণীটাকে দেখেছে বলেছে।

সব মিলিয়ে এসব লোমহর্ষক গল্প আর এই খুমের ভূতুরে পরিবেশ আপনাকে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিবে।

বলছি বান্দরবনের রোয়াংছড়িতে অবস্থিত পং সু আং কুম, দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের কথা। খুব অল্প সময়ে ও অল্প খরচে এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে আসতে পারবেন ।

যেভাবে যাবেন ও খরচ:

এখানে যেতে হলে প্রথমে বান্দরবন শহর থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলায় আসতে হবে। জনপ্রতি বাস ভাড়া ৬০ টাকা আর সি ন জি রিসার্ভ নিলে ৫০০ টাকা। সেখান থেকে গাইড নিয়ে কচ্ছপতলী আসতে হবে। গাইড ৫০০-১০০০ টাকা নিবে। রোয়াংছড়ি পরে কচ্ছপতলী। সেক্ষেত্রে সি ন জি নিলে সরাসরি কচ্ছপতলী চলে আসাই উত্তম। আর যদি বাসে আসেন তাহলে রোয়াংছড়ি বাজার থেকে কচ্ছপতলী সি ন জি যায়। জনপ্রতি ৬০ টাকা নিবে আর রিসার্ভ নিলে ৩০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে আধ ঘণ্টার মত।

কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে রওনা দেন শিলবান্ধা পাড়ার দিকে। যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মত। দুই ভাবে যেতে পারবেন। পাহাড় দিয়ে বা তারাসা খাল দিয়ে। যাওয়ার পথে ঝিরি পথে গিয়ে আসার সময় পাহাড় দিয়ে আসলে ২টি পথই দেখা যায়।

যাওয়ার পথ কিন্তু একেবারে সহজ না। শিলবান্ধা গিয়ে ১৫ মিনিট হাঁটলেই প্রথমে পং সু আং কুম পার হতে হবে। পং সু আং কুম পার হওয়ার পর দেবতাকুমের শুরু। স্থানীয় আদিবাসীদের মতে দেবতাকুম ৫০ ফুট গভীর এবং লম্বায় ৬০০ ফুটের চেয়ে বেশী। দেবতাকুমে যাওয়ার শেষের দিকে রাস্তা ভয়াবহ ভাবে বিপদজনক। শ্যাওলা ভরা খাড়া পাথর দিয়ে গাছের শেকড় ধরে প্রায় ঝুলে ঝুলে যেতে হয়। হাত ফোঁসকে পড়ে গেলে সাঁতার না জানলে গভীর জলে ডুবে বা পাথরে মাথা ফেটে মৃত্যুর সম্ভাবনা ও আছে। তাই পরামর্শ দিবো নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যেতে পারেন। শিলবান্ধার আশে-পাশে ঘুরলে ছোট বড় ৫-৬টা ঝর্ণা পাবেন। শিলবান্ধা থেকে সাথে গাইড নিয়ে নিন। ভেলা বানাতে আর ঘুরে আসতে তিনজন গগাইডের জন্য ৩০০০ টাকা লাগবে। থাকলে রান্না করার মানুষ গাইড ঠিক করে দিবে। পুরো দেবতাখুম ঘুরে আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগবে। দেবতাখুমের পর স্বর্ণকুম শুরু। স্বর্ণকুমের মুখে থাকতে হলে তাবু নিয়ে যাওয়ায় শ্রেয়। রান্না করার সবকিছু সাথেই নিয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেএে পরেরদিন ভোরে হাঁটা দিলে ঐ দিনে বান্দরবান পৌঁছে যেতে পারবে। এই ভ্রমণে পাথর, পাহাড়, কুম, ঝর্ণা ও বনফুলের সৌরভ আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে এক অসাধারণ অনুভূতির গল্প।
লেখা ও ছবি – কমল দাশ ।

ঈদের আনন্দে মেহেদির হাত রাঙাতে ব্যস্ত নারীরা

ঈদের আনন্দে মেহেদির হাত রাঙাতে ব্যস্ত নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদে পোশাক হলো, পার্লারের কাজও শেষ। খুশির ঈদে সুন্দর হাত দুটি কি খালিই থাকবে? একদমই না।।ঈদের আনন্দের সঙ্গে মেহেদি রাঙা হাত নেই, সেটা ভাবতেই যেন অপূর্ণতা থেকে যায়। আর তাই নারীরা এখন ঘরে বাইরে ব্যস্ত মেহেদিতে হাত রাঙাতে। ঈদের আনন্দ আর মেহেদির রঙ, যেন একে অন্যের পরিপূরক।

 

 

 

 

তাই আনন্দকে আরো রাঙিয়ে তুলতে চাই মেহেদি। আর তাই ঈদ উপলক্ষ্যে বিউটি পার্লারগুলো মেহেদী রঙে রাঙাতে ব্যস্ত, বিশিষ্ট বিউটিশিয়ান রুম্পা চৌধুরীর নিভানা পার্লারে একজন তরুণ।

 

 

 

 

 

 

 

পোষাকি ফ্যাশনেও স্বাধীনতা দিবস

পোষাকি ফ্যাশনেও স্বাধীনতা দিবস

কমল দাশ: বাঙালি সংস্কৃতির সবগুলো শাখাতেই রয়েছে ফ্যাশনের আকণ্ঠ প্রভাব। যে প্রভাবের স্পর্শ স্বাধীনতা দিবসকেও করেছে উজ্জীবিত। তাইতো পোষাকে লাল সবুজের প্রাধন্যতা পেয়েছে ।

পোশাক একটি চলমান ক্যানভাসের মতো কাজ করে। আর দেশকে ভালোবেসে পতাকা বা প্রিয় রঙকে সম্মান জানানোতে জুড়ি নেই পোশাকি ভাষার। তাই খুব সহজেই মনের ভাষা তুলে ধরা যায় এখানে। সে জন্য লাল-সবুজের পোশাক দেশকে সম্মান জানানোর একটি সহজ উপায় বলা যায়। দেশের মানুষের এই আবেগ মাথায় রেখেই প্রতি বছর দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো বিজয় দিবস সামনে রেখে নিয়ে আসে লাল-সবুজের রকমারি ডিজাইন।

ছোট থেকে শুরু করে দেশের বয়স্কদের পোশাক, অনুষঙ্গের বড় জায়গা দখল করে আছে পতাকা মোটিফ। পতাকার মোটিফ তাই বড় আকারেই রয়ে গেছে বিজয় দিবসের পোশাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্লোগান, কবিতা, শহীদদের স্মৃতি নিয়ে করা হয় ডিজাইন।

 

তাঁত, সিল্ক, হাফসিল্ক বা জামদানির মধ্যে বেশি ফুটে ওঠে এমন রঙ। আরামদায়ক এবং সহজে বহন করা যায় বলে কামিজের জনপ্রিয়তা এ দেশে ব্যাপক। আর কামিজ, ফতুয়া বা টপসে অনেক আগে থেকেই দেখা যায় বিজয়ের রঙের ছাপ। এক কথায় লাল-সবুজের কামিজের তুলনা হয় না। আর চলতি ট্রেন্ড এবং মোটিফের মধ্যেই দেখা যায় এমন রঙের পোশাক। ব্যবহৃত হয় সময়ের প্যাটার্ন ও কাটছাঁট। সবুজের মধ্যে ফুটে ওঠে বিভিন্ন অর্থবোধক প্রিন্ট। সঙ্গে লাল ওড়না।

পাঞ্জাবি বাঙালি ছেলেদের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রিয় পোশাক। আর চলতি ফ্যাশনে পাঞ্জাবিতে দেখা যায় প্রিন্ট, কাটওয়াক ডিজাইন। মুলত: কিছু ছকে বাঁধা মোটিফ আর ডিজাইনেই চলছে দিবসভিত্তিক ফ্যাশনের সবকিছু।

শাড়ির রঙ ও ডিজাইনে রয়েছে বিচিত্রতা

লাল-সবুজ রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে পোশাকে। সবুজ শাড়ি লাল পাড় অথবা লাল শাড়িতে সবুজ ডিজাইন করা হয়েছে। শাড়ির ক্যানভাসে টিয়া রঙের কাজ করা হয়েছে। সুতি কাপড়ে ব্লুক, কাটওয়াক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, বাটিক, হাতের কাজ, কারচুপির কাজ এবং অ্যামব্রয়ডারি করা হয়েছে। আর মোটিফ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে স্মৃতিসৌধের ডিজাইন, স্বাধীনতার কথা এবং কবিতার পঙ্ক্তি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লুাউজটাও হতে পারে লাল-সবুজ। লং হাতা পরতে পারেন। অনেক স্টাইলিশ লাগবে। কিছু শাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে টাইডাই বা এপ্লিলিকের কাজও।

সালোয়ার-কামিজের ওপর সুতার কাজ করা হয়েছে। আর রঙ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে গাঢ় সবুজ, টিয়া রঙ, হালকা সবুজ ও লাল রঙকে। লঙ কামিজের সামনের অংশে জুড়ে দেয়া হয়েছে হালকা কুচি। যা কামিজের কাটিংয়ে ভিন্নতা এনেছে। আর চুড়িদারের সঙ্গে এসব কামিজ দেখতেও লাগে বেশ। ওড়নার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে লাল অথবা সবুজ যে কোনো একটি রঙকে।

একরঙা ওড়না পুরো কামিজকে আরো স্টাইলিশ করে তুলেছে। পাশাপাশি সুতি কাপড়ে ব্লুক ও স্ক্রিণ প্রিন্টের কাজ এখন দিবস ভিত্তিক পোশাকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ছবি: কমল দাশ। ডিজাইনার: খালেদা আক্তার কলি (আরশি)।

মডেল: আকাশ, অগ্নি, জয়া, তানহা ও নুসরাত। মেকওভার: অক। লেখা: কাঞ্চন চক্রবর্তী ।

ভালবাসা দিবসে ফুল ছড়াবে প্রাণের সুবাস

ভালবাসা দিবসে ফুল ছড়াবে প্রাণের সুবাস

কমল দাশ: ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন শেষ। দিনটিতে তরুণ–তরুণীরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি–শাড়ি পরে সামিল হয়েছে বসন্ত উৎসবে। তরুণীরা মাথায় রিং ও খোঁপায় গাঁদা ফুল গুঁজে দিনভর খুনসুটিতে মেতে থাকে। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফুল ছাড়া যেনো ভালোবাসা দিবসকে কল্পনাই করা যায় না। এই দিবস দুটিকে কেন্দ্র করে নগরীর ফুলের দোকানগুলো ফুলে ফুলে ভরে গেছে।

ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের দোকানগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভালোবাসা দিবসে লাল গোলাপের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর বিক্রিও বেশ ভালো হয়। এর বাইরে তরুণ–তরুণীরা চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, লিলি ফুলই বেশি কিনে। বসন্ত উৎসবের জন্য তরুণীরা গাঁদা ফুলের পাশাপাশি মাথার রিংয়ের অর্ডার দিয়েছে বেশি। ভালোবাসা দিবসের দিন ২৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে এমন আশা করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

ফুলের আদান প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটে। এছাড়া নিজেকে সাজাতে ফুলের জুড়ি নেই। প্রেমিক যুগলের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি উপহারই হলো ফুল। ফুল বিক্রেতারা জানান, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভারতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন জাতের ফুল এসেছে। ভালোবাসা দিবসে তরুণীরা ফুলের তৈরি অলঙ্কারই বেশি পছন্দ করেন। তাই দোকানগুলোতে কয়েক প্রকার ফুলের রিং ও মালা তৈরি হচ্ছে। ফুল ব্যবসায়ীরাও সারা বছর এই দিবসগুলোর অপেক্ষায় থাকেন। অপরদিকে ফুলের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঁচা ফুলের ব্যবসাতে দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব বিরাজ করছে। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন উপলক্ষ গুলোতে অন্যদিনগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ–তিনগুণ দামে ফুল বিক্রি করতে হয়।

ভালোবাসা দিবসে গাঁদা এবং গোলাপ ফুলের প্রচুর চাহিদা থাকে। সাধারণ দিনে একটি লাল গোলাপ ৫ টাকায় বিক্রি করলেও ভালোবাসা দিবসে আমরা তা ১৫–২০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। এই সময়ের লাল গোলাপের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে। দেশের বাজারে লাল, গোলাপী, হলুদ ও সাদা রঙের চীনা গোলাপ বেশি পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে চীন থেকে সরাসরি ফুল আমদানি বন্ধ রয়েছে। অধিকাংশ চীনা ফুল সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারত হয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে।

ভালোবাসা দিবসে কেন্দ্র করে ফুলের দোকানে মাথার রিংয়ের অর্ডার দিতে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজরিন হাসপিয়া রুশমি। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসবের জন্য রিংয়ের অর্ডার দিতে এসেছি। ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।

আদিল রাহাত নামে এক তরুণ জানান, প্রিয় মানুষের জন্য ফুল কিনতে এসেছি। তবে এ বছর ফুলের দাম একটু বেশি। উপলক্ষ ছাড়া আসলে প্রিয়জনকে ফুল দেয়া হয় না। তাই এক ডজন ফুল কিনেছি, সঙ্গে অন্য উপহার তো অবশ্যই দেবো।

চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী বাহাদুর নাসারীর মালিক বলেন, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুল ব্যবসায়ীরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন আমাদের দেশে ফুলের মৌসুম, তাই কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার কোথাও হচ্ছে না। দেশিয় ফুলের বাইরে বর্তমানে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে দেশের বাজারে ফুল আসছে। তুলনামূলকভাবে দাম তেমন বাড়েনি।

তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা বিভিন্ন বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করে। তবে আমাদের সমিতির তালিকাভুক্ত কোনো ফুল ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখছে না।

লেখা ও ছবি: কমল দাশ।
মডেল: নুসরাত।
ডিজাইনার: খালেদা আকতার কলি (আরশি)।

শীতের উষ্ণতায় শাল

শীতের উষ্ণতায় শাল

কমল দাশ: মাঘ মাসের আর অল্প ক’দিন বাকি। বিশেষ করে সকালে শীতের আমেজটা একটু বেশিই টের পাওয়া যায়। তাই সকালের দিকে বাড়তি গরম কাপড়ও বেশি প্রয়োজন হয়। আর যারা সকালে অফিস, পড়াশোনা কিংবা অন্য কাজে বাড়ির বাইরে বের হন, তাদের তো গরম কাপড় পরেই বের হতে হয়। শীতের প্রয়োজনে অনেকে জ্যাকেট, সোয়েটার কিংবা অন্য গরম কাপড় ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে শীতের পাশাপাশি ফ্যাশনের কথাও মাথায় রাখছেন। শাল তেমনি একটি শীতের ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গ।

সকালের রোদে পিঠ ঠেকিয়ে ধোঁয়া ওঠা গরম চা অথবা খবরের কাগজে চোখ বুলানো কিঞ্চিৎ ব্যস্ততা আর কিঞ্চিৎ অলসতার মধ্যে কাটে দিনের শুরুটা। তারপর বেরিয়ে পড়তে হয় ব্যস্ততার সমুদ্রে। আর বাইরে বেরুলেই প্রয়োজন হয় গরম কাপড়। সহজে বহনযোগ্য, পাশাপাশি ফ্যাশনেবল হওয়ার কারণে শালের জনপ্রিয়তা অনেক আগে থেকেই। চট্টগ্রাম ফ্যাশন হাউসগুলোও বিভিন্ন রঙ ও নকশার শাল এনেছে। কমবেশি সব বয়সীদের ব্যবহার উপযোগী এসব শাল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুপূর বলেন, ‘শাল এখন শুধু চাদর নামেই সীমাবদ্ধ নেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন মানের শাল এখন শীতের অন্যতম ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গ।’

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিনেট গোমেজ বলেন, ‘অতিরিক্ত শীত না পড়ায় হঠাৎ কড়া রোদে গরমও লাগে আজকাল। আঁটসাঁট গরমের পোশাক নিয়ে তখন পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। না পারা যায় খুলতে, না পরা যায় পরে থাকতে। তাই এখন প্রয়োজন শালের। এটি শীতে যেমন গায়ে জড়ানো যায়, গরমে ব্যাগেও ঢুকিয়ে রাখা যায়।’

সিটি কলেজর শিক্ষার্থী অনিন্দ বলেন ‘মাফলারের বিকল্প হিসেবে শাল অনেক পছন্দের, তাছাড়া এটি সত্যিই ঝামেলাহীন পোশাক।’

বেসরকারি কর্মসংস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেবেকা আজমী বলেন, ‘কর্মব্যস্ততায় এবং শাড়ির সঙ্গে মানানসই হিসেবে শালের জুড়ি নেই।’

ফ্যাশন হাউস আরশি’র কর্ণধার খালেদা আক্তার কলি বলেন, ‘এক সময় শালের প্রচলন ছিল ব্যাপক। তখন বিশেষ করে একটু বয়স্করাই শাল বেশি পরত। কিন্তু হালের ফ্যাশনে সেই শাল আবার ফিরে এসেছে। তবে এখন আর শুধু বয়স্করাই শাল পরে না। তরুণীরাও পরছে। এ ছাড়া আগে যেখানে সাদামাটা রঙের শালই বেশি দেখা যেত, এখন যেখানে শালের রঙে ও নকশায়ও এসেছে অনেক পরিবর্তন। এখন শালের নকশায় ডিজাইনাররা ফুটিয়ে তোলেন ভাষা অন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্যসহ দেশের বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্য। এখনকার শালগুলো বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতের বোনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুমিল্লার খাদি শাল। অন্যান্য অঞ্চলের তাঁতের শালও রয়েছে বাজারজুড়ে। তবে রাজত্ব খাদির। অন্যদিকে এসব শালের দামটাও হাতের নাগালে।’

অন্যদিকে খাদি ও অন্যান্য তাঁতের শালের পাশাপাশি বাজারে রয়েছে আদিবাসী-মণিপুরি, রাখাইন, চাকমাসহ বিভিন্ন আদিবাসীদের তাঁতের শাল। রঙে ও নকশায় এসব শালেও রয়েছে ভিন্নধর্মী লোকজ আমেজ।

মডেল : অগ্নি, নুসরাত। ডিজাইনার: খালেদা আক্তার কলি।
মেকাপ : অর্ক। ফটোগ্রাফি: কমল দাশ ও ফাহিম।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী আজ

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী আজ। অষ্টমী পূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। মাতৃরূপে ঈশ্বরেরই একটি আরাধনা কুমারী পূজা। সেজন্য পূজার্থীরা মাতৃরূপে ঈশ্বরকে আরাধনা করতে কুমারী পূজা করে থাকেন।

দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। এ দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুর এবং পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চার দিক মুখর হবে শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে।

১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ কুমারীকে পূজার মাধ্যমে এই পূজার পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য। জগতের দ্বিধাদ্বন্দ] ও অশুভের ভেদাভেদ ভুলে মায়ের কৃপা তুষ্টি লাভই মানব জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য। সব রকম মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা।

আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহানবমী। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমী। ওইদিন অঞ্জলি প্রদানের পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের।

আজ ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী

আজ ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী

শুভ্র দাশ: শুভ জন্মাষ্টমী। মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি আজ। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব আজ। দাপর যুগের শেষ দিকে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণ।

হিন্দু পুরাণমতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নেন। পাশবিক শক্তি যখন সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তি দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল।

পৃথিবী থেকে দুষ্টের দমন ও সজ্জনদের রক্ষার জন্যই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস। জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এ দিনে উপবাসে সপ্ত জন্মকৃত পাপ বিনষ্ট হয়। আর তাই এ দিনটিতে তারা উপবাস করে লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।

কাল শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

কাল শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

ফিচার ডেস্ক: সনাতন ধর্মবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আগামীকাল ২৫ জুন রবিবার।

প্রতি বৎসর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা। আগামীকাল রথযাত্রা শুরু হবে। শেষ হবে আগামী ৩ জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে। মানুষের মাঝে সম্প্রীতি শান্তি ও মৈত্রীর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই শ্রী জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা মহারানীর বিগ্রহগণ উৎসব লগ্নে মন্দির থেকে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন।

আর্ন্তজাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৫ সালে তার গুরুদেবের নির্দেশে পাশ্চাত্যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে সানফ্রান্সিসকোতে শ্রীল প্রভুপাদ প্রথম রথযাত্রা মহোৎসব আয়োজন করেন। যে মহোৎসব আজ তার কৃপায় সারা পৃথিবী জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনাদিনকাল থেকে পুরীতে প্রতিবছর রথযাত্রার মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সারা জগতের প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রমের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। শ্রী জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে জগন্নাথকে দর্শন করতে আসে না তাদের সবাইকে কৃপা আর্শিবাদ করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন।

ভগবান জগন্নাথদেব হলেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং, যিনি জগতের নাথ বা জগদীশ্বর রুপে প্রকাশিত। বৃন্দাবন থেকে মহারাজ নন্দসূত শ্রীকৃষ্ণ তার দ্বরকালীলায় রত হলেন। সূর্যগ্রহন উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণ যখন কুরুক্ষেত্রে যান, তখন তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলরাম ও ভগিনী সুভদ্রা এবং দ্বারকা থেকে অনেকেই তার সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেই সময় ব্রজবাসী ও সূর্যগ্রহন উপলক্ষে কুরুক্ষেত্রে গিয়েছিলেন। কুরুক্ষেত্রে বৃন্দাবনে গোপ-গোপীদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎ হলো। ব্রজবাসী ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তার বাল্যলীলাস্থল বৃন্দবনে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তারা তাকে রাজবেশে দেখতে চাইলেন না। তারা শ্রীকৃষ্ণকে বৃন্দাবনে ফিরিয়ে নিয়ে ব্রজের বেশে দেখতে চাইলেন এবং তার সাহচার্য পেতে উন্মুখ হলেন। তখন ব্রজবাসী কৃষ্ণ, বলরাম ও সূভদ্রা দেবীর রথের ঘোরা ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই রথ টানতে টানতে বৃন্দাবন নিয়ে গেলেন। সে ঘটনা স্মরণ করে ভক্তরা আজো পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রথে টেনে বৃন্দাবনে নিয়ে যান।

দ্বারকা রাজ্য যেমন শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্যলীলার স্থান, বৃন্দাবন তেমনি মাধুর্যলীলার স্থল। এই হচ্ছে রথযাত্রার ইতিহাস। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ ভাবতেন ‘কৃষ্ণ কতদিন ধরে আমি তোমাকে দেখতে চেয়েছি’। আর এখন আমি তোমাকে দর্শন করছি। শ্রীল প্রভূপাদ বলেছিলেন, বা পাশে একদল, ডান পাশে একদল, সামনে একদল এবং পেছনের দিকে একদল আর শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ মাঝখানে থাকতেন। তারা সবাই নাচতেন এবং কীর্ত্তন করতেন। রথযাত্রার সময় ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেব স্বয়ং আমাদের সামনে উপস্থিত হন। তাই এটি এমনই সুন্দর সুযোগময় একটি উৎসব যার মাধ্যমে আমরা ভগবানের প্রতি আমাদের হৃদয়ের ভক্তি ও প্রেম নিবেদন করতে পারি। রথযাত্রার দিন রথরূঢ় পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবিকে দর্শন করে আপনার হৃদয়ের ভক্তি নিবেদন করুন। রথের রশি ধরে টানুন। আপনার মানব জন্মকে স্বার্থক করে তুলুন। রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেয়ার মানে হল আত্মোপলব্ধির পথে এক ধাপ অগ্রসর হওয়া। রথযাত্রা শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম লীলা।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন),চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রম সমক্ষে নগরীর ডিসি হিল প্রাঙ্গনে আগামীকাল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্টানমালায় মঙ্গলারতি, গুরুপূজা, জগন্নাথ লীলামহিমা আস্বাদন, জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারাণীর রাজবেশ দর্শন, রাজভোগ নিবেদন, কীর্তনমেলা, আলোচনা সভা, হরেকৃষ্ণ ব্যান্ড, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করবেন ইসকন সন্ন্যাসী, জ্যেষ্ঠ ভক্ত, রাষ্ট্রীয় অতিথি, দেশ বরেণ্য বিশিষ্ট রাজনীতিক, প্রশাসনিক, রাষ্ট্রদূত ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। সমগ্র অনুষ্ঠানে আশিবার্দক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসকনের অন্যতম সন্ন্যাসী শ্রীমৎ ভক্তিনিত্যানন্দ স্বামী মহারাজ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত। মহোৎসবে পৌরহিত্য করবেন শ্রীপাদ ভদ্রচারু দাস, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত।

বিকাল ৩টায় জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীর মহাশোভাযাত্রা নন্দনকানস্থ শ্রীশ্রী রাধামাধাব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে ডিসি হিল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বোস ব্রাদার্স – সিনেমা প্যালেস – লালদিঘীর পাড় -বক্সিরহাট বিট – আন্দরকিল্লা – চেরাগি পাহাড় – জামালখান – আসকারদিঘীর পাড় – কাজির দেউড়ী – লাভ লেইন হয়ে পুনরায় ডিসি হিলে এসে সমাপ্ত হবে। সকলের সার্বিক অংশগ্রহন ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করি।