২০ অক্টোবর২০১৮, ৫ কার্তিক১৪২৫
1024x90-ad-apnar

প্রবৃদ্ধি মোকাবেলার জন্য নতুন বন্দর প্রয়োজন

Tuesday, 07/08/2018 @ 11:43 am

নিউজ ডেস্ক  ::     বর্তমানে দেশের দুই দিনের চাহিদার সমপরিমাণ কনটেইনার এ বন্দরে নিয়ে আসবে একটি জাহাজ। এর ফলে পণ্য পরিবহন ব্যয় যেমন কমবে তেমনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। এ বন্দরটি হবে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। মাতারবাড়ী প্রকল্প, চট্টগ্রাম বন্দর ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের অন্তবর্তীকালীন প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন নতুন বন্দর প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দরের ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি ১০ বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি মোকাবেলার জন্য নতুন বন্দর দরকার।

দেশের মধ্যাঞ্চলে পায়রা বন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে মাতারবাড়ী বন্দরের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। দুই বন্দরের ফলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত বেগবান হবে। কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমবে। মাতারবাড়ীতে ইকোনমিক জোন হবে। কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। আমরা আশাবাদী ২০২৩ সালে এটি অপারেশনে যাবে।

সূত্র জানায়, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নে ১২শ’ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠবে বন্দরটি। ৪৬০ মিটার হবে কনটেইনার জেটি এবং ৩০০ মিটার মাল্টিপারপাস জেটি। ১৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) জাহাজ ভিড়তে পারবে এ বন্দরে।

একই চ্যানেলে প্রাথমিক পর্যায়ে দুইটি জেটির কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে তা সম্প্রসারিত করার সুযোগ রাখা হবে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি জেটির কনস্ট্রাকশন লোন চুক্তি হবে জাপানের সঙ্গে। মাতারবাড়ীতে ৮ হাজার টিইইউ’স (২০ ফুট লম্বা) কনটেইনার নিয়ে জাহাজ আসতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখন ২২-২৫শ’ কনটেইনার নিয়ে আসতে পারে।

বাংলাদেশের ‌আমদানি কনটেইনারের চাহিদা ৪ হাজার টিইইউ’স। সোনাদিয়ায় একটি জাহাজেই দেশের দুই দিনের চাহিদার সমপরিমাণ নিয়ে আসবে। ফলে চীন-সিঙ্গাপুর থেকে বড় কনটেইনার জাহাজ সোনাদিয়ায় এলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, পায়রা বন্দর, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে ফিডার সার্ভিস চালু করা যাবে। দেওয়া যাবে ট্রানজিট সুবিধাও।

২৯ কিলোমিটার সড়ক হবে সোনাদিয়া বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য চার লেনের সড়ক হবে চকরিয়া থেকে পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে। সড়ক বিভাগ কাজটি করবে। প্রাথমিকভাবে দুই লেন হবে। সড়কটি অনেক চ্যালেঞ্জিং।

ওই সড়কের ২৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার সেতু হবে। জলাভূমি হওয়ায় অনেক মাটি লাগবে। বন্দর অপারেশন শুরুর ৫-১০ মাস পর এটি পুরোদমে চালু হবে। পুনর্বাসন করা হবে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে।

নয়তো জাপান ঋণ দেবে না। জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। সূত্র জানায়, জাপান তথ্য নিয়ে দেখেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় জিডিপি জেনারেটিং এরিয়া। ৪১ শতাংশ জিডিপি এখানে জেনারেট হয়।

সাউথ চিটাগাং বেল্ট স্টাডি নামের একটি প্রি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা আমদানির জন্য টার্মিনালের কাজ শুরু হয়। এর জন্য ১৬ মিটার ড্রাফটের প্রয়োজন ছিল।

১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি চ্যানেল তৈরি করা হয়। ওই চ্যানেলে কয়লা জেটি হবে। কয়লাবাহী জাহাজ আসবে। এ সময় জাপানি টিম চিন্তা করলো এখানে একই চ্যানেলে একটি বাণিজ্যিক বন্দর হতে পারে। এরপর তারা বন্দরের জন্য ডাটা কালেকশন সার্ভে করে। যা প্রাক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বলা চলে।

এ সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। শিগগির ফিজিবিলিটি রিপোর্ট চূড়ান্ত হবে। মো. জাফর আলম বলেন, জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস লোন চুক্তি হয়েছে। ২৫৫৬ বিলিয়ন ইয়েন।

ডিটেইল ডিজাইনিংয়ের জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করবো। টেন্ডার আহ্বান করেছি। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিকে প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস, চীন, ভারত ও জাপানের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার কোয়ালিটি এনালাইসিস ভালো হবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

বাংলা ক্যালেন্ডার