১৭ ডিসেম্বর২০১৭, ৩ পৌষ১৪২৪
1024x90-ad-apnar

৮ দিন পর সচল হচ্ছে রাঙামাটি

Thursday, 22/06/2017 @ 11:28 am

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : আট দিন পর রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সচল হতে শুরু করেছে। রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সড়কের প্রায় দেড় শ মিটার অংশ সংস্কারের পর গতকাল বুধবার দুপুর থেকে হালকা যানবাহন চলতে শুরু করেছে।

৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের অন্তত ৫০টি স্থানে ১৩ জুন পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এর মধ্যে সাপছড়ি শালবাগান এলাকায় সড়কের প্রায় দেড় শ মিটার অংশসহ দুটি স্থান প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নিরন্তর প্রচেষ্টায় সড়কটি সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান সওজ কর্মকর্তারা।

গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান নিজ নিজ গাড়িতে করে সড়কের ওই অংশ পার হন। এরপরই হালকা যানবাহন চলতে শুরু করে।

পরে সচিব এম এ এন ছিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, তিন দফায় এই সড়কটি সংস্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথমে হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য রাঙামাটি-চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক উন্মুক্ত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সাপছড়ির ভাঙা অংশে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে বড় যানবাহনের জন্য সড়ক খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুশি। রাঙামাটি বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, রাঙামাটিতে পণ্যের যে ঘাটতি ছিল তা কেটে যাবে।

সড়কে গাড়ি চলার পাশাপাশি সংস্কার কাজও সমানে চলবে বলে সওজ সূত্রে জানায়। এ জন্য কখনো কখনো কিছু সময়ের জন্য সড়কটির ওই অংশ বন্ধও রাখা হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে ১৩ জুনের পাহাড়ধসের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাঙামাটিতে মৃতের সংখ্যা ১১৮ থেকে বেড়ে ১২০ জন হয়েছে। শহরের পশ্চিম মুসলিম পাড়ার নিখোঁজ রুবি আক্তার (৩৭) ও মো. শাহজাহানকে (৯) নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান।

সব মিলিয়ে পাহাড়ধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই পাঁচ জেলায় ১৫৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।