১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

হুমায়ূন আহমদের ৬৯তম জন্মদিন আজ

Monday, 13/11/2017 @ 4:54 pm

হুমায়ূন আহমদের ৬৯তম জন্মদিন আজ

আজ ১৩ নভেম্বর, খ্যাতিমান কথাশিল্পী ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র-নাটক নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ফয়েজুর রহমান ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। একাত্তরে হানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় লেখক নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

স্কুল জীবনে হুমায়ূন আহমেদকে পিতার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়। তিনি ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্র জীবনেই তার লেখালেখি শুরু। তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পায় ১৯৭২ সালে । তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস‘ শঙ্খনীল কারাগার। এই দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়ে ওঠেন। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন হয়েছে। রসাত্মক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপনই ছিল তার গল্পের বৈশিষ্ট। গল্প বলায় ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দেন। বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম। বাংলা সাহিত্যের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তাকে পথিকৃৎ বলেছেন অনেকেই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কয়েকটি নাটক, কয়েকটি চলচ্চিত্র কালজয়ী কর্ম হিসেবে বিবেচিত । তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, আগুনের পরশমণি, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, আমার আছে জল, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, ঘেটুপুত্র কমলা, শ্যামল ছায়া।

শিক্ষকতায় ছিলেন দীর্ঘদিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরববর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজিপুরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নুহাশ পল্লী’।

জীবদ্দশায় তিনি দুবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার পাতেন। প্রথমবার ১৯৭৩ সালে, গুলতেকিন খানের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালে মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে।