১৭ নভেম্বর২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

সিজার করে পেট কেটে ডাক্তার জানালেন সন্তান নেই’

Monday, 20/10/2014 @ 1:56 pm

SE20141020120900নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: প্রসব ব্যথায় কাতর রেবেকা বেগম। স্বজনরা তাকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। সেখানে ভর্তির পর হলো অস্ত্রোপচার (সিজার)।পেট কেটে ফেলার পর অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা বললেন, পেটে কোন ‘সন্তান পাওয়া যায়নি’! চিকিৎসকদের এমন কথা শুনে মা রেবেকা হতবাক। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। হতাশ স্বজনরাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না হয়রানির ভয়ে। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ অক্টোবর ঘটেছে এমন ঘটনা। তবে চিকিৎসকদের এমন কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না অনেকেই।
এদিকে হাসপাতালের ১ নম্বর গেটের পাশ থেকে গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে পুলিশ এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো লাশটি উদ্ধারের পর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুর মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
১৩ অক্টোবর রাতে অস্ত্রোপচার, পরদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো একটি নবজাতকের লাশ উদ্ধার- এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, ভুল অস্ত্রোপচারে নবজাতকের মৃত্যু হওয়ায় বিতর্ক এড়াতে তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের আছকর আলীর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা রেবেকা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে ১১ অক্টোবর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও পরে সেখান থেকে তৃতীয় তলার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে (গাইনি বিভাগে) স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা ১৩ অক্টোবর রেবেকা বেগমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। রাত ৮টায় রেবেকাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও অপারেশন শুরু হয় রাত সাড়ে ১১টায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে অস্ত্রোপচার। একপর্যায়ে চিকিৎসকসহ অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বাইরে এসে রেবেকার স্বজনদের জানান ‘সিজার করে সন্তান পাওয়া যায়নি’!
চিকিৎসকদের কথায় উপস্থিত লোকজনসহ রেবেকার স্বজনরা হতবাক হয়ে যান। তারা এ ব্যাপারে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে তখন থেকেই ঘটনা নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের আচরণও ছিল রহস্যজনক। চিকিৎসকদের কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না রেবেকাও। তিনি জানান, সন্তানের নড়াচড়া স্পষ্ট অনুভব করেছেন তিনি। চিকিৎসকরা তাকে মিথ্যা কথা বলছেন, তার সন্তান চুরি করেছেন।রেবেকা বেগমের স্বামী আছকর আলী বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর আমাদের জানানো হয়, কোনো সন্তান পাওয়া যায়নি। যে সন্তানের নড়াচড়া তার মা অনুভব করেছেন, সেখানে সন্তান না পাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসকদের কথা খুবই রহস্যজনক। কিন্তু আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো শক্তি নেই।’এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক তন্ময় ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা তিনি শোনেননি। তবে এ নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।