১৭ ডিসেম্বর২০১৭, ৩ পৌষ১৪২৪
1024x90-ad-apnar

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

Sunday, 20/08/2017 @ 4:38 pm

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা পুঁতে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান, মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আ. রউফ ওরফে মুফতি আ. রউফ ওরফে আ. রাজ্জাক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্র মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুর ওয়াদুদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও সারোয়ার হোসেন মিয়া প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাদের আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক নগর এলাকায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার আরেক মামলায় ৯ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এরা হলেন- মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব ওরফে আবু মুসা হারুন, মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাহমুদ আজাহার ওরফে মামুনুর রশীদ, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. শাহনেওয়াজ ওরফে মো. আজিজুল হক ও শেখ মো. এনামুল হক। এদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এই মামলায় হাসমত আলী কাজী, আবুল হোসেন খোকন, মুন্সী ইব্রাহীম ও লোকমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের খালাস দিয়েছেন।

২০০০ সালে গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে হত্যার চেষ্টা ও ৮০ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধারের বিস্ফোরক আইনের মামলা দুটির এ রায় রবিবার সকালে ঘোষণা করেন ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম।

বিচারক তার আদেশে বলেন, ‘১৯৭৪ এর বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (১) (এ) (বি) (সি)/২৫/(ডি) দোষী সাব্যস্তক্রমে উক্ত ধারামতে তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।’

২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে শেখ হাসিনার সমাবেশ করার কথা ছিল। ওই সমাবেশের প্যান্ডেল তৈরির সময়ে ২০ জুলাই ওই কলেজের পাশ থেকে ৭৬ কেজি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন ২১ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর থেকে ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে।

এ ঘটনা পৃথক মামলা দু’টি দায়ের করা হয়েছিল।

২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ২ জুলাই আদালত মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলার বিচারকাজ চলাকালে ৮৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।