১৮ জানুয়ারি২০১৯, ৫ মাঘ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

শিলবান্ধা গ্রাম পেরিয়ে দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের গল্প

Wednesday, 27/06/2018 @ 6:21 pm

শিলবান্ধা গ্রাম পেরিয়ে দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের গল্প

কমল দাশ: কল্পনা করুন আপনি একটি জঙ্গলে বাঁশের ভেলায় ভাসছেন। দুই দিকে দালানের মত উঠে একশ মিটারের মত যাওয়া খাড়া পাহাড়। যে পাহাড়ের নাম সিপ্পি পাহাড়।

ঘন বন জঙ্গল আর এই খাড়া পাহাড়ের জন্য দিনের বেলায় ও কুমের ভিতরের দিকটায় আলো ঠিকমত পৌঁছায় না। ভেলা ভাসিয়ে যত ভিতরে যেতে থাকবেন পরিবেশ ততই ঠাণ্ডা আর নিস্তব্ধ হতে থাকবে। নিস্তব্ধতা এমনি থাকবে যে আপনি দূরে পাতার গা থেকে পানি পরার শব্দ এমনকি নিজের নিশ্বাসের শব্দ ও খুব ভালোভাবে শুনতে পারবেন। এখানকার আদিবাসীদের মুখে প্রচলিত আছে এই কুমে বিরাট বড় একটি কচ্ছপ বা অন্য কোন নাম না জানা প্রাণী রয়েছে। যার ওজন অন্তত ২ মণের বেশি হবে। অনেকেই এই প্রাণীটাকে দেখেছে বলেছে।

সব মিলিয়ে এসব লোমহর্ষক গল্প আর এই খুমের ভূতুরে পরিবেশ আপনাকে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিবে।

বলছি বান্দরবনের রোয়াংছড়িতে অবস্থিত পং সু আং কুম, দেবতাকুম ও স্বর্ণকুমের কথা। খুব অল্প সময়ে ও অল্প খরচে এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে আসতে পারবেন ।

যেভাবে যাবেন ও খরচ:

এখানে যেতে হলে প্রথমে বান্দরবন শহর থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলায় আসতে হবে। জনপ্রতি বাস ভাড়া ৬০ টাকা আর সি ন জি রিসার্ভ নিলে ৫০০ টাকা। সেখান থেকে গাইড নিয়ে কচ্ছপতলী আসতে হবে। গাইড ৫০০-১০০০ টাকা নিবে। রোয়াংছড়ি পরে কচ্ছপতলী। সেক্ষেত্রে সি ন জি নিলে সরাসরি কচ্ছপতলী চলে আসাই উত্তম। আর যদি বাসে আসেন তাহলে রোয়াংছড়ি বাজার থেকে কচ্ছপতলী সি ন জি যায়। জনপ্রতি ৬০ টাকা নিবে আর রিসার্ভ নিলে ৩০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে আধ ঘণ্টার মত।

কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে রওনা দেন শিলবান্ধা পাড়ার দিকে। যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মত। দুই ভাবে যেতে পারবেন। পাহাড় দিয়ে বা তারাসা খাল দিয়ে। যাওয়ার পথে ঝিরি পথে গিয়ে আসার সময় পাহাড় দিয়ে আসলে ২টি পথই দেখা যায়।

যাওয়ার পথ কিন্তু একেবারে সহজ না। শিলবান্ধা গিয়ে ১৫ মিনিট হাঁটলেই প্রথমে পং সু আং কুম পার হতে হবে। পং সু আং কুম পার হওয়ার পর দেবতাকুমের শুরু। স্থানীয় আদিবাসীদের মতে দেবতাকুম ৫০ ফুট গভীর এবং লম্বায় ৬০০ ফুটের চেয়ে বেশী। দেবতাকুমে যাওয়ার শেষের দিকে রাস্তা ভয়াবহ ভাবে বিপদজনক। শ্যাওলা ভরা খাড়া পাথর দিয়ে গাছের শেকড় ধরে প্রায় ঝুলে ঝুলে যেতে হয়। হাত ফোঁসকে পড়ে গেলে সাঁতার না জানলে গভীর জলে ডুবে বা পাথরে মাথা ফেটে মৃত্যুর সম্ভাবনা ও আছে। তাই পরামর্শ দিবো নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যেতে পারেন। শিলবান্ধার আশে-পাশে ঘুরলে ছোট বড় ৫-৬টা ঝর্ণা পাবেন। শিলবান্ধা থেকে সাথে গাইড নিয়ে নিন। ভেলা বানাতে আর ঘুরে আসতে তিনজন গগাইডের জন্য ৩০০০ টাকা লাগবে। থাকলে রান্না করার মানুষ গাইড ঠিক করে দিবে। পুরো দেবতাখুম ঘুরে আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগবে। দেবতাখুমের পর স্বর্ণকুম শুরু। স্বর্ণকুমের মুখে থাকতে হলে তাবু নিয়ে যাওয়ায় শ্রেয়। রান্না করার সবকিছু সাথেই নিয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেএে পরেরদিন ভোরে হাঁটা দিলে ঐ দিনে বান্দরবান পৌঁছে যেতে পারবে। এই ভ্রমণে পাথর, পাহাড়, কুম, ঝর্ণা ও বনফুলের সৌরভ আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে এক অসাধারণ অনুভূতির গল্প।
লেখা ও ছবি – কমল দাশ ।