১১ ডিসেম্বর২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

শাকিলার দেয়া তথ্যতে ‘ওসমান আমিনকে’নিয়ে সন্দিহান র‌্যাব

Sunday, 30/08/2015 @ 10:54 am

শাকিলার দেয়া তথ্যতে ‘ওসমান আমিনকে’নিয়ে সন্দিহান র‌্যাব

শাকিলার দেয়া তথ্যতে ‘ওসমান আমিনকে’নিয়ে সন্দিহান র‌্যাব

এ,এইচ,এম সুমন চেৌধুরী চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের একটি আদালতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২৩ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ওসমান আমিনের বিষয়ে তথ্য দেন। মূলত এই জবানবন্দির পরই র‌্যাব প্রথমবারের মতো ওসমান আমিনের নাম জানতে পারে। এর আগ পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সঙ্গে ওসমান আমিন নামে কারও সম্পৃক্ততার তথ্য র‌্যাবের কাছে ছিলনা। আদৌ ওসমান আমিন নামে কেউ আছেন কিনা-তা নিয়েও সন্দেহে আছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এছাড়া ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ‘সানজিদা এন্টারপ্রাইজ’ নামে যে প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়েছে অনুসন্ধানে তারও কোন অস্তিত্ব পায়নি র‌্যাব । শুধুমাত্র সানজিদা এন্টারপ্রাইজের নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স র‌্যাব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট
সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন ‍আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ওসমান আমিনের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। এ পর্যন্ত এই নামে কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওসমান আমিনের বিষয়ে জবানবন্দিতে শাকিলা ফারজানা জানান, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকায় চেম্বারে শাকিলার সঙ্গে দু’জন দেখা
করেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছেন বলে জানান শাকিলা। এদের একজন ওসমান আমিন, আরেকজন মাসুম। ওসমান আমিন তার বাসা খুলশী এবং তার আমদানি-রপ্তানি ও শিপিং ব্যবসা আছে বলে জানায়।

ওসমান আমিনের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, কথাবার্তা মার্জিত এবং তার দামী গাড়িও আছে বলে জবানবন্দিতে শাকিলা জানান।

র‌্যাব-৭ এর পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, খুলশীর বাসা, শিপিং ব্যবসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে আমরা আদৌ এ নামে কাউকে
পাচ্ছিনা। শাকিলা তার সম্পর্কে খুব অল্প তথ্য দিয়েছেন।

র‌্যাব পরিচালক মিফতা আরো বলেন, ‘হয়তো ওসমান আমিন নিজের পরিচয় গোপন করে ব্যারিস্টার শাকিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অথবা শাকিলা নিজেই ওসমান
আমিনের পরিচয় গোপন রাখছেন কিংবা জেনেবুঝে শাকিলা জবানবন্দিতে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। ’ ।

জবানবন্দিতে শাকিলা জানান, ওসমান আমিন তাকে মুফতি হারুন ইজাহারের মামলা, লালখানবাজার বিস্ফোরণের মামলাসহ হেফাজত ইসলামের ৩০০ থেকে ৩৫০ মামলা
পরিচালনার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন।মামলার প্রয়োজনে তার সঙ্গে হারুন ইজাহারের পরিবারের লোকজন কথা বলবেন বলেও
শাকিলাকে জানান ওসমান আমিন।

মুফতি হারুন ইজাহার হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির ও লালখানবাজার মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি ইজাহারুল ইসলামের ছেলে। জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে
জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত হারুন হেফাজতের সঙ্গেও জড়িত আছেন।

র‌্যাব সূত্রমতে, শাকিলার জবানবন্দির তথ্য সঠিক ধরে ওসমান আমিনের বিষয়ে মুফতি ইজাহারের পরিবার এবং হেফাজত নেতাদের কাছে গিয়েও তথ্য যাচাইবাছাই
করেছে র‌্যাব।

শিপিং ব্যবসার তথ্য পেয়ে এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও ওসমান আমিনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে কার্যত কোন তথ্যই উদ্ধার করতে পারেনি সংস্থাটি।

জবানবন্দিতে শাকিলা জানান, ওসমান আমিন চার ধাপে তাকে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। পরে মামলা পরিচালনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে শাকিলা
১২ লক্ষ টাকা রেখে এক কোটি আট লক্ষ টাকা ফেরত দেন। ওসমান আমিনের দেয়া সানজিদা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডাচ বাংলা ব্যাংকের হিসাব নম্বরে শাকিলা ও তার দুই জুনিয়র টাকাগুলো ফেরত দিয়েছিলেন।

র‌্যাব পরিচালক মিফতাহ বলেন, যে সানজিদা এন্টারপ্রাইজের কথা ব্যারিস্টার শাকিলা বলেছেন সেই নামে কোন প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। তবে ওই নামে ট্রেড
লাইসেন্স পাওয়া গেছে।
মিফতাহ বলেন, আমাদের চেষ্টা থেমে নেই।তবে অমাদের সকল চেষ্টার বিনিময়ে আমরা সব তথ্য উদঘাটন করে আপনাদের সামনে আনবো। ’

তবে শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে নতুন কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আপাতত কোন পরিকল্পনা র‌্যাবের নেই বলে মিফতাহ জানান।