লৈঙ্গিক সমতায় এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশের ২য় বাংলাদেশ, নাম নেই ভারত, পাকিস্তানের!

নিউজ ডেস্ক  ::    মানবাধিকার নিশ্চিতকরনের ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশই লিঙ্গ বৈষম্য দুরীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। সম্প্রতি ডব্লিউইএফ (ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম) বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য সূচক-২০১৮ প্রকাশ করেছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, লৈঙ্গিক সমতায় এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারত ও পাকিস্তান, এমন কি জাপানও কাঙ্ক্ষিত বৈষম্য দূরীকরণে সফল না হওয়ায় শীর্ষ তালিকায় স্থান পায় নি।

সূচকে লিঙ্গ সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়। এই চারটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতি।বাংলাদেশের সংসদই বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা চার জনই নারী।

বিমান চালনা, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাষ্ট্রদূতের মতো উচ্চ পদগুলোতে বাংলাদেশের নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।বাংলাদেশের নারীরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে করা, এভারেস্ট জয় ও দেশে-বিদেশে খেলাধুলাতে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের ত্যাগ ও সংগ্রাম এবং যুদ্ধবিধ্ধস্ত বাংলাদেশ গঠনে নারীর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নারী শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া নানা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা, ২৮ লাখের বেশি শিশুর জন্য স্কুল খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিনামূলে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা, ২৩ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি দেয়া।

বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও গ্রামের নারীদের জীবন-মান উন্নয়নে নারী শিক্ষা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পারিবারিক নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা কমে গেছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্য বিবাহ কমাতেও ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের শতভাগ শিশু স্কুলে যায়, যাদের মধ্যে মেয়ে বেশি।

বর্তমানে স্কুলে মেয়ে ছেলে অনুপাত ৫৩:৪৭, যা ২০০৯ সালে ছিল ৩৫:৬৫। গত নয় বছরে সাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশ হয়েছে।দেশের প্রাথমিক শিক্ষক পদের ৬০ ভাগ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় তথ্য-প্রযুক্তিসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে।

সংসদ ও স্থানীয় সরকারে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে। এছাড়া নারীর উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ঋণসহ নানা সুবিধা রয়েছে বাংলাদেশে যা বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার নিশ্চিত করেছে। দুই কোটি নারী কৃষি কাজে এবং পোশাক শিল্পে ৪৫ লাখ চাকুরিজীবির ৮৫ শতাংশই নারী।
চট্টগ্রামনিউজ/এসএ