১৮ অক্টোবর২০১৭, ৩ কার্তিক১৪২৪
1024x90-ad-apnar

রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত

Saturday, 21/05/2016 @ 9:55 pm

রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত

রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে বাঁশখালী-সীতাকুণ্ড-আনোয়ারায় জলোচ্ছ্বাস: ১২ জন নিহত

চট্টগ্রাম অফিস : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রামের দুটি উপজেলা ও নগরীতে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ৭ জন, সীতাকুণ্ডে ২ জন ও নগরীতে ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া একজনের মৃতদেহ এখনও নিখোঁজ আছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ৮০ থেকে ৮৮ কিমি বাতাসের গতিবেগ নিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের উপকূল। শনিবার (২১ মে) পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। তবে এরই মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় ঘটে গেছে দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শনিবার রাত সাড়ে সাতটায় নগরীর সার্কিট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক বলেন, রোয়ানু’র প্রভাবে বাঁশখালীতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ৭ জন পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। এছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলায় দু জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নগরীর হালিশহর এলাকায় চিংড়ির ঘেরে কাজ করতে গিয়ে পানিতে ভেসে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। অন্যদিকে নগরীর শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরে ঝড়ে গাছের চাপায় ঘরের চাল ভেঙে মা-ছেলে ও ষোলশহরে এক পথশিশু নিহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাতের মধ্যে শনিবার সকালে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়ের নাম কাজল বেগম (৪৮)। ছেলের নাম মো. বেলাল হোসেন (১০)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কেউ যায়নি।

চট্টগ্রামের ষোলশহরে এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবা0র সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচলাইশে চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের কাছে একটি বাসার ছাদ থেকে আসা ইঁটের আঘাতে রাকিব (১১) নামে ওই শিশু গুরুতর আহত হয়।

তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তৃত ঘোষণা করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক জাহাঙ্গীর আলম।

বাঁশখালী উপজেলায় সাতজনের মৃত্যু :

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে খানখানাবাদ ইউনিয়নে ৬ জন এবং ছনুয়া ইউনিয়নে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন।

নিহতরা হলেন, তাহেরা বেগম (৩৫), বুলু আক্তার (৩৫), জালাল (৩), আবু সীদ্দিক (৬০), মোঃ হোসেন (৭), সাহেদা আক্তার (৩) , নব জাতাক ৪৫ দিন।

তিনি জানিয়েছেন, রোয়ানু আঘাত হানার পর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সাগরের পানি ঢুকে গেছে খানখানাবাদ ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরে ঘরে পানি ঢুকে গেছে। জোয়ারের পানিতে গবাদি পশু, আসবাবপত্র ভেসে গেছে।

ওসি জানান, জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়নে দুটি বাচ্চা, এক নারী ও এক বৃদ্ধসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা একই পরিবারের নন বলে ওসি জানান।

এছাড়া ছনুয়া ইউনিয়নে জোয়ারের পানিতে ভেসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

এদিকে আনোয়ারা উপজেলায় ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মনিরুল হক। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকজনকে গুরুতর আহতবস্থায় চমেকে এনে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সোনা ধর (২০), এনামুল হক (৪০), আজাদ (২৫), আব্দর রহিম (৪৫), ঝুমু রুদ্র (২৩)।
0 (26)এদিকে জেলা প্রশাসক বলেন, মারা যাওয়া সবার পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা শাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।তাদের পরিবারের সাহায্য যদি আরও লাগে তাও দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘রোয়ানু’র প্রভাবে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষ পানি বন্ধী হয়ে আছে।চারটি উপজেলায় মোট আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও ১০০ কোটি টাকার গবাদি পশু ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৫ হাজার গবাদি পশু ভেসে গেছে।

জেলার ৪৭৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘তাদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে রাতে থাকতে হলে রাতের খাবারও তাদের দেওয়া হবে।’