১০ ডিসেম্বর২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

মাদক ও জঙ্গি নির্মূল করতে পারিনি: আইজিপি

Saturday, 06/01/2018 @ 4:48 pm

মাদক ও জঙ্গি নির্মূল করতে পারিনি: আইজিপি

নিউজ ডেস্ক: মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও জঙ্গি দমনে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হলেও মাদক ও জঙ্গি নির্মূলে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

শনিবার রাজধানীর পুলিশ সদর দফতরে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ কথা জানান।

পাঁচ বছর বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্বে থাকা এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে পারিনি, জঙ্গিও নির্মূল করতে পারিনি। কারণ দুটোই আসক্তি।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা ইয়াবা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার এলাকায় এতো বড় সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা প্রবেশ করে যা বন্ধ করা কঠিন। তারপরও ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতে যথেষ্ট সফলতা রয়েছে। গত এক বছরে মাদক সংক্রান্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৪টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার আছে কয়েক হাজার।’

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে পুলিশ দিয়ে মাদক ঠেকানো সম্ভব নয়। মাদক নির্মূলে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্নমুখী কৌশল নিয়ে সামনে এগুচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য যেন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজরদারি রয়েছে। কেউ জড়িত হলে সাধারণ মানুষের মতোই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কী পরিমান পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে পরিসংখ্যানটা এ মূহুর্তে মনে নেই, তবে সেই সংখ্যাটা খুবই কম।

গত এক বছরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভাল উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, ২০১৭ সালে পুলিশের অভিযানের সময় ৫৭ জন জঙ্গি সুইসাইডাল ভেস্টে আত্মাহুতি দিয়েছে। একশর বেশি জঙ্গি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক বছরে সারা দেশে ৩৫টি জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জঙ্গি দমনে পুলিশের অর্জন শুধু দেশেই নয় বিশ্বেও প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য ট্রেডিশনাল অপরাধ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, ২০১৭ সালে সেই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫২৯টিতে। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের হার বেড়ে যাওয়ায় মামলার পরিমাণ বেড়েছে। পুলিশের সক্ষমতা ও কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে এসব উদ্ধার বেড়েছে। উদ্ধারের পরিমাণ বাদ দিলে ট্রেডিশনাল ক্রাইম তুলনামূলক কমেছে।