১১ ডিসেম্বর২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

মন্ত্রিসভায় শ্রম আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

Monday, 08/10/2018 @ 5:54 pm

মন্ত্রিসভায় শ্রম আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক: ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শিশু শ্রম নিষিদ্ধ করা ছাড়াও কারখানা-শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকের সমর্থন হার ও ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের কমানো হয়েছে সংশোধিত শ্রম আইনে।

সোমবার প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যপদ হ্রাস করা হয়েছে। এতদিন ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন না পেলে ট্রেড ইউনিয়ন করা যেত না। সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন ২০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন মিললে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে।

তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহনে নিয়োজিত পাইলট, প্রকৌশলী ও কেবিন ক্রুরা স্বীকৃতি স্ব স্ব আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্ধীকরণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার ৫৫ দিনের মধ্যে সরকারকে নিবন্ধন দিতে হবে। আগে এ সময় ছিল ৬০ দিন। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করা যাবে।

শফিউল আলম বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপানশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালের শ্রম আইন করে সরকার। ২০১৩ সালে এ আইনের ব্যাপক সংশোধন করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) চাহিদা অনুযায়ী শ্রমবান্ধব নীতি সব জায়গায় কার্যকর করতে শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে কারখানার শ্রমিকদের উৎসব ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নারী শ্রমিকরা প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসবের পরে আট সপ্তাহ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই ছুটি তার মূল ছুটি থেকে কাটা যাবে না।’

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মালিক ও শ্রমিকদের অসদাচরণ বা বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। আগে শাস্তি ছিল দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

শফিউল আলম বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক শব্দটি শ্রম আইন থেকে বাদ দিয়ে সেখানে ‘কিশোর’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আগে ১২ বছর বয়সের শিশুরা কারখানায় হালকা কাজের সুযোগ পেত। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে।

কোনো শ্রমিককে উৎসব ছুটির দিনে কাজ করতে বলা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এজন্য তাকে একদিনের বিকল্প ছুটি এবং দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি দিতে হবে।

সচিব বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী, শ্রমিকরা কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে এক লাখ টাকার পরিবর্তে দুই লাখ টাকা পাবেন। আর স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সোয়া এক লাখ টাকা পরিবর্তে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন।

শ্রম আইন পাস হলে খাবার ও বিশ্রামের সময় বাদে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি কোনো শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো যাবে না বলে জানান তিনি।