২০ মার্চ২০১৯, ৬ চৈত্র১৪২৫
1024x90-ad-apnar

ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব ইমরান খানের

Wednesday, 27/02/2019 @ 5:42 pm

ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব ইমরান খানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার পাল্টা প্রত্যাঘাতের পর আরও কোণঠাসা পাকিস্তান। বুধবার আরও সুর নরম করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের কাছে তার আর্জি যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উভয় দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। সুতরাং আমাদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। সংঘাত যদি শুরু হয়, তাহলে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও যেমন থাকবে না, তেমনই নরেন্দ্র মোদির হাতেও থাকবে না।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, আমি ভারতকে বলতে চাই, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বোধশক্তি এবং প্রজ্ঞার সমন্বয়ে কাজ করি। যতগুলো বড় যুদ্ধ হয়েছে তার পেছনে ছিল ভুল হিসাব-নিকেশ। হিটলার কখনো ভাবেন নাই যে যুদ্ধ এত বছর ধরে চলবে। আমেরিকানরা কখনো কল্পনা করেন নাই যে, ভিয়েতনাম এবং আফগানিস্তান যুদ্ধ দশকের পর দশক ধরে চলবে।

ইমরান খান বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দুই দেশের অনুকূলে থাকা অস্ত্র নিয়ে কী আমরা একটি ভুল হিসেব-নিকেশ করতে পারি? আমরা যদি এই ভুল করি, তাহলে এটির নিয়ন্ত্রণ যেমন আমার হাতে থাকবে না তেমনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতেও থাকবে না। আমাদের একসঙ্গে বসা এবং আলোচনা করা উচিত।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা হয়েছিল। হামলায় শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। আহত হয়েছেন অনেকে। জইশ-ই-মহম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে নেয়। মাসুদ আজহারের এই জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানের মদতপুষ্ট হওয়ায় ভারতের সব রোষ গিয়ে পড়ে পাকিস্তানের উপর। পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয় মোদী সরকার।

সেই পরিস্থিতিতে ভারতকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিল হুঁশিয়ারি। ভারত আক্রমণ করলে জবাব দেবে পাকিস্তান, একথাও সেদিন বলেন তিনি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল মঙ্গলবার ভোররাতে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে জইশের সবচেয়ে বড় জঙ্গিঘাঁটি ভেঙে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তার পর বুধবার সকালে বিমান নিয়ে ভারতের দিকে তেড়ে এসেছিল পাকিস্তান।

কিন্তু ৬টি মিগ-২১ সেই প্রক্রিয়া বানচাল করে দেয়। ভারতের একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করে দেয়। তার পর নানা ভুয়ো দাবি করার পর শেষপর্যন্ত ভোল বদলাতে বাধ্য হল পাকিস্তান।