১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

Wednesday, 20/06/2018 @ 5:03 pm

বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক: নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, লেখক বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১১ সালের এই দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

কবি সুফিয়া কামালের পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল বারী। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও মা সাবেরা বেগমের কাছেই বাংলা পড়তে শেখেন এই মহিয়সী নারী। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। এসবের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ ৫০টির বেশি পুরস্কার।

শৈশবেই তার লেখালেখি শুরু। ১৯২৬ সালে সওগাত পত্রিকায় প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে সুফিয়া কামালের কাব্য প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। তাঁর রচিত সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে কবিতা, গল্প ও ভ্রমণ কাহিনী। তাঁর লেখা ‘একাত্তরের ডায়েরি’ সে সময়ে এ দেশের বাঙালী জীবনের অকথিত চিত্র ফুটে উঠেছে।

তাঁর প্রথম গ্রন্থ ছোটগল্পের বই ‘কেয়ার কান্তা’ প্রকাশ পায় ১৯৩৭ সালে এবং প্রথম কবিতার বই ‘সাঝের মায়া’ প্রকাশ পায় ১৯৩৮ সালে। ‘সাঝের মায়া’ গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের প্রশংসা করেন। লেখালেখির বিভিন্ন সময়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়’র সাহচার্য পান।

পিতা সৈয়দ আবদুল বারী ও মায়ের নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। সেই আমলে মেয়েদের পড়ালেখা ও ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করার খুব একটা সুযোগ ছিল না। সুফিয়া কামাল তার মায়ের কাছে বাড়িতেই পড়াশোনা করে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। তার কর্ম জীবনের প্রথম দিকে দেশভাগ পর্যন্ত প্রায় তিন দশক কলকাতায় বসবাস করেন।

কর্মজীবনে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কবি ‘কলকাতা কর্পোরেশন স্কুল’ এ শিক্ষকতা করেন। পরে ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এসেই নারী আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

বেগম সুফিয়া কামালের এরপরের জীবনও বর্ণাঢ্য। ১৯৫৬ সালে ‘কচিকাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬১ সালে ‘ছায়ানট’-এর সভাপতি, ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি, ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠন এবং এই সময়ে অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকীতে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে বাণী দিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার জীবন ও আদর্শ এবং অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।’

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে কবি সুফিয়া কামালের ছিল দিপ্ত পদচারণা। তার সৃজনশীলতা অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত করে।’

সাহিত্য ও নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কবি সুফিয়া কামাল প্রায় ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেন। এ সবের মধ্যে রয়েছে, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), লেনিন পদক (১৯৭০, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে), একুশে পদক (১৯৭৬), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (১৯৯৫),স্বাধীনতা দিবস পদক। তিনি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘তমসা-ই-ইমতিয়াজ’ পুরস্কার প্রত্যাখান করেন।