১৭ ডিসেম্বর২০১৮, ৩ পৌষ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

বীর প্রতীক তারামন বিবি আর নেই

Saturday, 01/12/2018 @ 4:50 pm

বীর প্রতীক তারামন বিবি আর নেই

নিউজ ডেস্ক: একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বীরকন্যা ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাতে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়ায় নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মরহুমার ছেলে আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১ সপ্তাহ আগে তাকে রাজিবপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বাড়িতেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পরে রাত দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাষ ত্যাগ করেন।

তারামন বিবির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর প্রতীক তারামন বিবিকে দাফন করা হবে বলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানিয়েছেন। এর আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

বীর প্রতীক তারামন বিবির বাড়ি কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে। বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মা কুলসুম বিবি। তার স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন তিনি। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরী তারামন বিবিকে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিলেন রান্নার কাজে সহযোগিতার জন্য। পরে সেখানে তিনি অস্ত্র চালনা শেখেন।

একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে সেখানে হানা দেয়। তারামন বিবিও সেদিন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে লড়াই করেন এই বীর নারী। দুর্ধর্ষ সেই কিশোরীর অসীম সাহসিকতার জন্য বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তা তুলে দিতে ২২ বছর লেগে যায়।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন। নারী সংগঠনগুলো তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই বছর ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।