১৭ নভেম্বর২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

বিশ্বের উচ্চতম ভাস্কর্য উদ্বোধন করলো ভারত

Wednesday, 31/10/2018 @ 6:04 pm

বিশ্বের উচ্চতম ভাস্কর্য উদ্বোধন করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ নামে বিশ্বের উচ্চতম ভাস্কর্য উদ্বোধন করলো ভারত। স্ট্যাচুটির উচ্চতা ৫৯৭ ফুট (১৮২ মিটার)।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার এ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন। বল্লভ ভাই প্যাটেলের ১৪৩তম জন্মদিবসে স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র উদ্বোধন করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা জেলায় সর্দার সরোবর ড্যামের কাছে সাধু বেট আইলেটে পাঁচ বছরের চেষ্টায় ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সরদার বল্লবভাই প্যাটেলের এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ২০ হাজার বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছে। এটিকে ঘিরে রয়েছে ১২ কিলোমিটার একটি কৃত্রিম হ্রদ। মূর্তিটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে ২,৯৮৯ কোটি রুপি। ভাস্কর্যটির নকশা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত ভাস্কর রাম ভি সুতার।

সরদার বল্লবভাই প্যাটেল ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়ণ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যকে নিয়ে একটি দেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এজন্য তার ভাস্কর্যের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’।

এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য ছিল গৌতম বুদ্ধের সম্মানে তৈরি চীনের ‘স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ’, যার উচ্চতা ৪২০ ফুট (১২৮) মিটার। এছাড়া স্ট্যাচু অব ইউনিটি উচ্চতায় নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির দ্বিগুণ।

‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ মূর্তি ছাড়াও প্যাটেল মেমোরিয়াল প্রজেক্টের আওতায় সেখানে একটি তিন তারকা হোটেল, একটি জাদুঘর ও একটি গবেষণা কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করে বলেন, ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ ভারতে অন্যতম পর্যটক স্থান হিসেবে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এটি ভারতের একাগ্রতা ও দৃঢ়তার প্রতীক।’

তবে অনেক ভারতীয়র মত হলো, এই ভাস্কর্য জনগণের অর্থের ব্যাপক অপচয়। এই অর্থ দিয়ে ভালো কিছু করা যেত, যা জনগণের উপকারে আসত। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই মূর্তি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এ কারণে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বুধবার ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের সময় অর্থ অপচয়ের প্রতিবাদে গুজরাট জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। অনেক জায়গায় প্রতিবাদকারীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন এবং নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি নেতাদের কুশপুতুল দাহ করেন। প্রতিবাদ ঠেকাতো হাজারো পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ প্রতিবাদকালে বেশ কয়েকজন কৃষক ও উপজাতি মানবাধিকার কর্মীকে আটক করেছে।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এ অঞ্চলের লোকজন কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেখানে সেচের সংকট রয়েছে। হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদের জন্য মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করেন। দীর্ঘ খরার কারণে পানির জন্য হাহাকার চলে। অথচ কৃষিকাজের জন্য পানি সেচের ব্যবস্থা না করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মূর্তি নির্মাণ অযৌক্তিক।