১৫ নভেম্বর২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে-ড্যান মজিনা

Wednesday, 01/10/2014 @ 1:14 pm

index
চট্টগ্রাম অফিস॥ পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা (জিএসপি) নিয়ে আশবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা।
বুধবার নগরীর অভিজাত হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মজিনা বলেন, রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার পর জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে পোশাক খাত নিয়ে সরকারকে একটি রোডম্যাপ দেয়া হয়েছিল। রোডম্যাপে দেয়া শর্তের বাস্তবায়নের উপরই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, অক্টোবরে জিএসপি সুবিধা নিয়ে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে নেওয়া কর্মপরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গোল টেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের পোশাকখাতের ভূয়সী প্রশংসা করেন মজিনা। তিনি বলেন, পোশাক খাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশই হবে সেরা রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে পরবর্তী ‘এশিয়ান টাইগার’ উল্লেখ করে এর জন্য দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মজিনা।তিনি বলেন, এশিয়ান টাইগারে পরিণত হওয়ার জন্য প্রথমত একটি শিক্ষা বিপ্লব দরকার। ১৬০ মিলিয়ন মানুষকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে তারাই এশিয়ান টাইগার গড়ে নেবে।এসময় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এছাড়াও মহাসড়ক, রেলপথ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কূটিনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট উন্নতি করেছে। মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিরসন নিঃসন্দেহে একটা বড় অর্জন। কিন্তু কয়েকবছর আগেও আমি দেখেছি, এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি রকম কিছু হয়েছে। এসএসএ (মার্কিন কোম্পানি) যখন চট্টগ্রামে বেসরকারি টার্মিনাল নির্মাণের চেষ্টা করেছিল তখন সকলেই রাজি ছিল, কেবল চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি ছাড়া। ফলে তা আর হয়নি। আমি বলবো, এটা কুটনৈতিক পরাজয়। অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজন ও পদক্ষেপ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারাদেশের উন্নয়ন। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দৃঢ় করতে মিরসরাই ও আনোয়ারায় পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন অনিবার্য।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আট লেন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৈঠকে আমেরিকান চেম্বার অব বাংলাদেশ’র প্রেসিডেন্ট আফতাবুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম এখন নামে মাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী। এক সময় দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রধান অফিস এখানে থাকলেও এখন তা নানামুখী সমস্যায় রাজধানীতে স্থানান্তরের হিড়িক শুরু হয়েছে।এ কে খান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন কাশেম খান বলেন, কেবল মাত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিকেন্দ্রীকরণের কারণে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাস মিস করেছি। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা লজ্জাজনক। দুঃখের বিষয় হচ্ছে সরকারী দল বা বিরোধী দলের কোন সদস্য কখনো এ নগরীকে নিয়ে সংসদে কথা বলেনি।তিনি বলেন, আমাদের মতো ছোট দেশের বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামালে চলবে না। আমরা চীন ও ভারতের মতো কেউ নয়। আমাদের কারো স্বার্থ হাসিলের পুতুলও হলে চলবে না।বৈঠকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার সহ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, আমেরিকান চেম্বার ইন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ গফুর, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি মির্জা আবু মনসুর, আমির হুমায়ুন চৌধুরী প্রমুখ।