১৮ জুন২০১৮, ৪ আষাঢ়১৪২৫
1024x90-ad-apnar

পিলখানা হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

Monday, 27/11/2017 @ 5:26 pm

পিলখানা হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিউজ ডেস্ক: পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে সেনা সদস্য হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামিকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একজন মারা গেছেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রয়েছে। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দু’জন আগেই মারা গেছেন। আর অন্য ১২ জন খালাস পেয়েছেন।

সোমবার বিকেলে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

বিচারিক আদালতে ৩ থেকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫৬ আসামির মধ্যে ১২৮ আসামিকে ১০ বছর, আটজনকে ৭ বছর, চারজনকে ৩ বছর এবং দুজনকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৯ জন খালাস পেয়েছেন। ২৮ জন আপিল করেনি। তিনজন মারা গেছেন।

এদিকে বিচারিক আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীন এবং চারজনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৪ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। সব মিলিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন ১৮৫ জন।

দুই দিন ধরে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীগণ, বিজিবির (সাবেক বিডিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আদালত চত্বরে আসামিদের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে হামলায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল এরপর আসে হাই কোর্টে। শুনানি শেষ হওয়ার সাত মাস পর হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রোববার রায় দেওয়া শুরু করে।