১৭ ডিসেম্বর২০১৭, ৩ পৌষ১৪২৪
1024x90-ad-apnar

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় বেকায়দায় নির্বাচন কমিশন

Saturday, 28/11/2015 @ 5:46 am

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় বেকায়দায় নির্বাচন কমিশন

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় বেকায়দায় নির্বাচন কমিশন

ঢাকা অফিস :
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়নি। পৌরসভা নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সজ্ঞায়-প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বুঝিয়েছে ইসি। এসব সুবিধাভোগীরা নির্বাচনটির প্রচারণায় যেতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে শুধু ভোট দিতে পারবেন।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল এ বিধি পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। ফলে ব্যাপক অসুবিধায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিধানটির জন্য অন্য দলগুলোর মতো সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও ইসির প্রতি বিরাগভাজন হয়েছেন। গণমাধ্যমে এরই মধ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে-আওয়ামী লীগ থেকে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। শিগগিরই সে চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ওয়াকার্স পার্টি এবং বিএনপিও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটগ্রহণ পেছানোর দাবি তুলেছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এ অবস্থায় ব্যাপক অসুবিধায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। কেননা, তফসিল ঘোষণার পর বিধিমালা পরিবর্তন প্রথা বিরোধী। এছাড়া প্রচারণায় সুবিধাভোগীদের সুযোগ রেখেই খসড়া বিধিমালা আইন-মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলো ইসি। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ই সে বিষয়টি বাদ দেওয়ার পক্ষ নিয়েছিলো।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় সুবিধাভোগীদের সুবিধা বাদ রেখে খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করতে পাঠালে মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন দেয় গত ২২ নভেম্বর সোমবার। ২৩ নভেম্বর রাতেই বিজি প্রেস থেকে বিধিমালার গেজেট ছাপায় ইসি। পরদিন ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার, দেশের ২৩৬ পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তফসিল ঘোষণা করে সংস্থাটি। এরপরই দলগুলোর ভেতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ অবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বেকায়দায় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা বা আচরণ বিধিমালা পরিবর্তনেরও সুযোগ নেই।
শুনেছি এমপিরা ইসির সঙ্গে দেখা করবেন। যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করেন, তবে তো আলোচনায় বসতেই হবে কমিশনকে-যোগ করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, যা কিছু হোক বা না হোক, রোববারের আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পৌরসভা নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে যত লুকোচুরি, রাখঢাক আর তোড়জোর হয়েছে, ইতিহাসের আর কোনো সময় এমনটি হয়নি বলে মন্তব্য ইসির অনেক কর্মকর্তার।