১৭ অক্টোবর২০১৭, ২ কার্তিক১৪২৪
1024x90-ad-apnar

নিজেকে আর কোরবানী দিবনা, এবার অবশ্যই মেয়র নির্বাচন করব : সোলায়মান শেঠ

Thursday, 08/01/2015 @ 8:15 am

shatনজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অফিস: মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে বারবার দলের চেয়ারম্যানসহ সরকারি দলের অনুরোধে সরে আসলেও এবার আর নিজেকে কোরবানী দিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নিউজ ডটকমকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ। মেয়র নির্বাচন নিয়ে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বারবার নিজেকে কোরবানী দেব না, এবার দলের সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ থেকে মেয়র নির্বাচন করবো। আপনি তো এর আগে আরো দুইবার মেয়র নির্বাচন করবেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেননি। এবার করবেন তো? এমন প্রশ্নের জবাবে সোলায়মান আলম শেঠ চট্টগ্রাম নিউজকে জানান, আমি নির্বাচন করার পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে ভালো কোন সম্মানজনক স্থানে বসান তাহলে আমি মেয়র নির্বাচন করবো না। তখন পার্টিসহ (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ) বসবেন। আমিও চিন্তা করবো। তখন আমি নির্বাচন করবো না। আপনার তো নাকি দলের প্রাথমিক সদস্য পদও নেই তাহলে দল থেকে কিভাবে নির্বাচন করবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সোলায়মান আলম শেঠ নিজেকে এখানো দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য দাবি করে তা প্রমাণ করতে গত ২৩ ডিসেম্বর পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য উল্লেখ করে যে চিঠি দিয়েছেন তা এই প্রতিবেদককে দেখান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সোলায়মান আলম শেঠ, প্রেসিডিয়াম সদস্য। চিঠিটি গত ১ জানুয়ারি ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্র থেকে পাঠানো হয়েছে। এতে পার্টির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর রয়েছে। নিজে মেয়র নির্বাচন করলে জয়-পরাজয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোলয়মান আলম শেঠ বলেন, আমি নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। ওয়ার্ড ও থানা আমার আগে থেকেই গোছানো আছে। আমাকে তেমন বেগ পেতে হবেনা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বড় দুটি দলের মাঝখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কিভাবে মেয়র নির্বাচিত হবেন তা জানতে চাইলে সোলাইমান আলম শেঠ জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেশি, তাদের মধ্যে গ্রুপিংও বেশি। এদিকে বিএনপির মধ্যেও অনেক প্রার্থী-অনেক কোন্দল। জাতীয় পার্টিতে আমি ছাড়া আর কেউ প্রার্থী নেই। এই জন্য আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বেশি। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেশি-কোন্দলও, সেই কারণে শেষ মুহূর্তে আমাকেই সমর্থন দিবে সবাই। সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, গতবার মেয়র নির্বাচনের সময় আমি প্রার্থী হয়ে ছিলাম-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে নিয়ে নির্বাচন না করার জন্য বলেছেন। আমাকে উনার সফর সঙ্গী করে জার্মান-অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছিলেন। এর আগের বার আমার দলের চেয়ারম্যান স্যার (হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) আমাকে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন। সেই কারণে আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। এবার ছেড়ে দেয়ার কোন প্রশ্ন আসছে না। কথা প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির এই নেতা আরো জানান, গত ১২ অক্টোবর আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশান এরশাদ এমপি আমাকে সিডিএ চেয়ারম্যান অথবা তিন পার্বত্য জেলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। মহানগর জাতীয় পার্টির মধ্যে তো বিরোধ-তারপরও কেমন করে আপনি মেয়র নির্বাচন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন-দল থেকে যাকে মনোনয়ন দিবে তারপক্ষে দলের স্বার্থে সবাই কাজ করবে। এটাইতো দলের নিয়ম। আমি তো কারো কাজে বিরোধীতা করছিনা। আর মহানগর জাতীয় পার্টি তো আমার হাতেই গোছানো। প্রতিটি থানা এবং ওয়ার্ড আমি আগে থেকেই গুছিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমি আমাদের দলীয় মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সাহেবকে হাসপাতালে দেখতে গেছি। উনার সাথে আমার কথা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরাও আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আমি মনে করি এবার একটি সুযোগ এসেছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।