১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী

Thursday, 16/08/2018 @ 5:56 pm

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ী। দীর্ঘ অসুস্থতার পরে ৯৩ বছরে আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। অনেক দিন ধরেই বাজপেয়ীর একটি কিডনি অচল ছিল। গত কয়েক বছর ধরে ঠিক মতো সচল ছিল না তার স্মৃতিশক্তি। অসামান্য বাগ্মীতার জন্য খ্যাতি ছিল যার, সেই অটলবিহারী বাজপেয়ী গত কয়েক বছর ধরে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন অনেকটাই। কিডনি, মূত্রনালী ও বুকে সংক্রমণ নিয়ে গত ১১ জুন থেকে টানা হাসপাতালেই ছিলেন তিনি।

শানিত যুক্তি এবং অসামান্য কথনের জন্য দলমত নির্বিশেষে প্রশংসিত ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। কিন্তু ২০০৯ সালে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করে। সেই থেকেই কথা বলার শক্তিও হারাতে থাকেন বাজপেয়ী। গত তিন দিনে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আর জীবনে ফেরানো গেল না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে।

বুধবার দুপুর থেকেই অটলবিহারী বাজপেয়ীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হতে শুরু করে। বুধবার দুপুরে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যান কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়ালও। গত কয়েক মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দেশের হেভিওয়েটদের ভিড় নিয়মিত লেগে থাকত এইমসে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী-সহ অনেকেই গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছিলেন তার শারীরিক অবস্থার।

১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯— তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। প্রথম দফায় তেরো দিন, দ্বিতীয় দফায় তেরো মাস আর তৃতীয় দফায় পূর্ণ সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্বভার সামলেছেন তিনি। ২০১৪ সালে মোদীর সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বাজপেয়ীকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়া দেশ বাজপেয়ীকে মনে রাখবে এক দুর্দান্ত সাংসদ, কবি, বাগ্মী ও গণতন্ত্রের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবেও। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজধর্ম বরাবরই তার কাছে ছিল প্রথম প্রাধান্যের বিষয়। ২০০২ সালে গুজরাতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা চলাকালীন সে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রাজধর্ম পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন এই বাজপেয়ীই। ভারত যদি ধর্মনিরপেক্ষ না হয়, তা হলে ভারত ভারতই নয়— এমন মন্তব্যও শোনা গিয়েছিলেন তাঁর মুখে।

১৯২৪ সালে গ্বালিয়রে জন্ম বাজপেয়ীর। বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী কবি ছিলেন। দীর্ঘ এবং ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের ফাঁকে অবসর খুঁজে নিয়ে অটলবিহারীও কাব্যচর্চা করতেন নিয়মিত। গ্বালিয়রেই আর্যসমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অটল। তখন ছাত্রাবস্থা। তার পরে যোগ দেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন পরবর্তী কালে। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি সরকারে মন্ত্রী হন তিনি। কিন্তু পরে সঙ্ঘ-পন্থী অন্য নেতাদের সঙ্গে বাজপেয়ীও জনতা পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, গঠিত হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সভাপতিও হন বাজপেয়ী। তার ১৬ বছর পরে প্রথম বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র হার হয়। পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে প্রধান বিরোধী দলনেতার পদ নিতে অস্বীকার করেন তিনি। ক্রমশ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেও সরিয়ে নেন নিজেকে। এ বার জীবন থেকেই বিদায় নিয়ে নিলেন বাজপেয়ী।