১৭ ডিসেম্বর২০১৮, ৩ পৌষ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

নজরুল পদক পাচ্ছেন ড. মাহবুবুল হক

Thursday, 26/05/2016 @ 9:59 pm

নজরুল পদক পাচ্ছেন ড. মাহবুবুল হক

         নজরুল পদক পাচ্ছেন ড. মাহবুবুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নজরুল-গবেষণার জন্য এ বছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নজরুল পদক পাচ্ছেন ড. মাহবুবুল হক। ২৭ মে শুক্রবার কবির স্মৃতিধন্য ত্রিশালে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১৭ তম নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে এ পদক তুলে দেয়া হবে। এবছর ড. মাহবুবুল হক ছাড়াও গবেষণায় ভারতের নজরুল গবেষক আজহার উদ্দিন খান ও নজরুল সংগীতে অবদানের জন্য খায়রুল আনাম শাকিলকে নজরুল পদকে ভূষিত করা হচ্ছে।
ড. মাহবুবুল হকের এক দশকের গবেষণার ফসল ‘নজরুল তারিখ অভিধান’। এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। লেখালেখি ও গবেষণার জন্য এর আগে তিনি ফিলিপস পুরস্কার, মুক্তিযুদ্ধ পদক, মধুসূদন পদক, চট্টগ্রাম একাডেমি পুরস্কার, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, রশীদ আল ফারুকী সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
উল্লেখ্য, ড. মাহবুবুল হক গবেষক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৩রা নভেম্বর। পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার মধুখালিতে। ছোটকাল থেকে জীবন কেটেছে চট্টগ্রামে। ১৯৬৯-এ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বি. এ. সম্মান এবং ১৯৭০-এ প্রথম শ্রেণি পেয়ে এম. এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১-এ অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে পি-এইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পদে বর্তমানে তিনি অবসর ছুটিতে আছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রবন্ধ রচনা, ফোকলোর চর্চা, গবেষণা, অনুবাদ, সম্পাদনা ও পাঠ্য বই রচনা করে তিনি দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর চল্লিশটিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে। তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি বাংলা পাঠ্য বইয়েরও রচয়িতা। নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০১২ ও ২০১৩ শিক্ষাবর্ষের বাংলা শিক্ষাক্রম ও বাংলা পাঠ্যবই প্রণয়নে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন আহ্বায়ক হিসেবে।
ড. মাহবুবুল হক বানান বিষয়ক একাধিক বই লিখে গুণিজনের প্রশংসা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাতৃভাষা’ অনুষ্ঠানে নিয়মিত বানান নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। বাংলা বানানের সমতা বিধানে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কাজে ছিল তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। তিনি বাংলা একাডেমির বানান অভিধান ও প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়নের কাজ ছাড়াও একাডেমি প্রকাশিত ‘প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ গ্রন্থের সহযোগী সম্পাদক ও লেখক হিসেবে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের তিনি অন্যতম সম্পাদক।
ড. মাহবুবুল হক ভারতের কলকাতা, যাদবপুর, বিশ্বভারতী, কল্যাণী, পাতিয়ালা, গৌড়বঙ্গ ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ত্রিপুরায় ও কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস ও ফোকলোর বিষয়ে সম্মেলন ও সেমিনারে অংশ নিয়ে গবেষণা-প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ২০০৭-এ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক ফোকলোর উৎসবে তিনি অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : ‘বাংলা বানানের নিয়ম’, ‘রবীন্দ্র সাহিত্য রবীন্দ্র ভাবনা’, ‘তিনজন আধুনিক কবি’, ‘ইতিহাস ও সাহিত্য’, ‘সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতি’, ‘বইয়ের জগৎ : দৃষ্টিপাত ও অলোকপাত’, বাংলা কবিতা : রঙে ও রেখায়’, ‘ভাষার লড়াই থেকে মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ, ফোকলোর ও অন্যান্য’, ‘বাংলার লোকসাহিত্য : সমাজ ও সংস্কৃতি’, ‘বাংলা ভাষা : কয়েকটি প্রসঙ্গ’, ‘রবীন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ’, ‘বাংলা সাহিত্যের দিক-বিদিক’, ‘কৃতীজন কৃতিকথা’, ‘মাক্সিম গোর্কির মা’, ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন বহু শিশুতোষ গ্রন্থ ।