১৯ নভেম্বর২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

‘তাঁত-জামদানীর আঁচলে মোড়ানো যেন চট্টগ্রাম’

Saturday, 21/07/2018 @ 5:15 pm

শাওন আজহার :  বিদেশী বস্ত্রের স্পর্শে বিলুপ্ত হতে বসেছে দেশীয় বস্ত্র পরিধানের রুচিবোধ। দেশীয় বস্ত্র , দেশীয় ঐতিহ্য বহনকারী উপাদানসমূহ দিনকে দিন বিলুপ্তির পথে।তাঁত শিল্প এবং জামদানী শাড়ি বহন করে দেশীয় ঐতিহ্য। যান্ত্রিক সময়ে নানারকম ভিনদেশীয় বস্ত্র শিল্পের ভিড়ে তাঁত শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িও বিলুপ্তির পথে।

তাঁত শিল্প এবং জামদানী শাড়ি বিক্রয় প্রদর্শনী মেলা ’১৮ শুক্রবার ২০ জুলাই মাসব্যাপী চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে। চসিক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন মেলাটির শুভ উদ্বোধন করেন। তাঁত-বস্ত্র শিল্প এবং জামদানী শাড়ির ঐতিহ্যকে চট্টগ্রাম বাসীর নিকট তুলে ধরার নিমিত্তে দ্বিতীয় বারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে চট্টগ্রাম নিউজকে জানান মেলা আয়োজনকারী কমিটির সমন্বয়কারী সরওয়ার মুনীর।

তিনি চট্টগ্রাম নিউজকে আরো বলেন ‘ তাঁত-বস্ত্র শিল্প এবং জামদানী শাড়ির প্রতি চট্টগ্রামবাসীর আকর্ষণ রয়েছে এবং এ মেলাটি আয়োজন করা হয় মূলত দেশীয় শিল্পের প্রতি ঐতিহ্যের ধারাকে ফুটিয়ে তোলার নিমিত্তে।’বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ জামদানী ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয় এবং মাসব্যাপি শতাধিক দোকানে তাঁত-বস্ত্র এবং জামদানী শাড়ির পাশাপাশি নানারকম পণ্যের উপস্থিতিতে এ মেলাটি চলবে বলে জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি বেসরকারি সিকিউরিটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মেলা প্রাঙ্গনে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মেলার উদ্বোধন হয়ে গেলেও দোকান গোছানো নিয়ে ব্যস্ত নারায়ণঞ্জ,সোনারগাঁও সহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তাঁত শিল্প এবং জামদানী শাড়ির ব্যবসায়ীরা।

সোনারগাঁও থেকে আসা নৌসিন জামদানীতে দায়িত্বরত বিক্রেতা মোহাম্মদ রানা চট্টগ্রাম নিউজকে বলেন ‘ চট্টগ্রামে আমরা বেশ ভালো সাড়া পায় , তাছাড়া চট্টগ্রামে তাঁত-বস্ত্র ও জামদানী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন ‘ পুরো চট্টগ্রামে বছরে ছয় মাস আমরা ব্যবসা করে থাকি।’

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘ তাঁত বস্ত্র ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা দরে আমরা বিক্রি করে থাকি এবং জামদানী শাড়ির ক্ষেত্রে দাম পড়ে নূন্যতম ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা।’নৌসিন জামদানীর সোনারগাঁওতে নিজস্ব শাড়ির কারখানা রয়েছে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে তিশা জামদানীর বিক্রেতা মোহাম্মদ মোমিন চট্টগ্রাম নিউজকে বলেন ‘দামে কোন তারতম্য নেয় , নির্ধারিত দাম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেলাটির আয়োজন করা হয় বিধায় আমরা চট্টগ্রামবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বস্ত্র বিক্রয় করে থাকি। ’ নারায়ণগঞ্জে তাদের নিজস্ব জামদানী শাড়ির কারখানা রয়েছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রামে তাঁত এবং জামদানী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বারে বারে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসে চট্টগ্রামে। দূর প্রান্তের ব্যবসায়ীরা মনে করেন ‘তাঁত-জামদানীর আঁচলে মোড়ানো যেন এ চট্টগ্রাম।’

চট্টগ্রামনিউজ/এসএ