১৯ নভেম্বর২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে তরুণদের

Thursday, 05/07/2018 @ 6:22 pm

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে তরুণদের

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বর্তমান সরকারের একটি প্রত্যয় ও স্বপ্ন। রূপকল্প ২০২১-এর একটি অন্যতম লক্ষ্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই পদক্ষেপ হিসেবে মাত্র ২ মাসের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে দক্ষ মোবাইল গেমস ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

আট হাজার ৭৫০ জন ডেভেলপার তৈরি এবং এক হাজার ৫০টি ভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস তৈরির জন্য ২ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ০১ জুলাই ২০১৮ তারিখে সারাদেশের সাথে চট্রগ্রামে শুরু হয়েছে মোবাইল এপস ইউজার ইন্টারফেস ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণটি ০১ জুলাই হতে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত চলবে।

চট্রগ্রামে মোট ৪টি ব্যাচে ১৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী মোবাইল এপস ইউজার ইন্টারফেস ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সপ্তাহে ৩ দিন প্রতিদিন সকাল ০৯টা থেকে দুপুর ০১টা এবং বিকাল ০৫টা থেকে রাত ০৯টা পর্যন্ত নগরীর চকবাজার থানাধীন ওরাকল আইটি সল্যুশন নামক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ চলছে। চট্রগ্রামে প্রকল্প সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ এস এম সাকলায়েন। তিনি ইতিপূর্বে সরকারের লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং আধুনিক ও সম্মানজনক পেশার স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বাধীনভাবে কাজ করে আয়ের একটি অন্যতম পেশা এটি। এর মাধ্যমে ঘরে বসে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ভাল অঙ্কের টাকা আয় করছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আইসিটিতে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

ভারত, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের ব্যাপক আগ্রহের সঙ্গে কাজ করছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে তারা এখন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পথ হাঁটছে।

তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তরুণরাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা এখন তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠছে। আগামী দিনে এ তরুণরাই দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশে উন্নয়ন ঘটবে। এ খাতে এ বছর ৪০০ কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেন দেশের অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারগণ। বাংলাদেশের আউটসোর্সিং কর্মীদের দক্ষতা অন্য যে কোন দেশের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ বছর ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫৪তম অবস্থানে রয়েছে।

২০২১ সালের মধ্যে এ খাতটিতে ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বছরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে সরকার। আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেয়নিয়ার প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২য় এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের অবস্থান ১ম ও পাকিস্তানের অবস্থান ৪র্থ। বিশ্বের ফ্রিল্যান্সিং বাজারের ১৬% আছে বাংলাদেশের দখলে। সরকারের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বেকারত্ব হতে মুক্তি পাবে এবং বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে।