১৮ অক্টোবর২০১৭, ৩ কার্তিক১৪২৪
1024x90-ad-apnar

ছবির মানুষ কমল দাশ : সুন্দরের সাথে যার নিত্য বসবাস

Thursday, 12/11/2015 @ 5:31 pm

ছবির মানুষ কমল দাশ : সুন্দরের সাথে যার নিত্য বসবাস
ছবির মানুষ কমল দাশ : সুন্দরের সাথে যার নিত্য বসবাস

।। প্রান্ত সাইদুল ।। প্রতিদিনের অদেখাগুলোকে পরম ধৈর্যে খুঁজে বের করার চেষ্টা। শিল্পীও এখানেই থাকেন। তিনি নিজেও এ বিচিত্র যাপনের ভেতরকার একজন। সেই ভেতর থেকে বের হয়ে তৃতীয় এক চোখে তিনি তুলে এনেছেন বাংলাদেশের মস্তিষ্কে ক্রমশ সরু হয়ে আসা স্মৃতিগলির ছায়াছবি। এখানে অতিবাহিত হয় যে জীবন আমরা একান্তই তাকে চিনি।কমল দাশের ছবিগুলো দেখতে দেখতে আমাদের বিস্মিত হতে হয় . প্রকৃতি থেকে জীবন যাপন আর ফ্যাশন কোনো কিছুই তার ক্যামেরায় বাদ যায় নাই . ক্রমশ তিনি হয়ে উঠেছেন সকলের প্রিয় . তার ছবি পেয়েছে দেশ বিদেশে খ্যাতি . পরিচয় ঘটেছে পৃথিবীর খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পিদের  সাথে ।ফটোগ্রাফিতে পেয়েছেন দেশ বিদেশে অনেক পুরস্কার । পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো মধ্যে সুবর্ণরেখা , চাইল্ডহুড লাইফ , মা , আনচিন বাংলাদেশ , অস্তাচল, সম্পর্ক ,সংগ্রাম , জালবন্ধি , নিবাক অন্যতম । পাশাপাশি নির্মাণ করছেন বেশকিছু ডকুমেন্টরি ।বাংলাদেশের সব পএিকায় তার ছবি ছাপা হয়েছে । শুনুন এই খ্যাতিমান তরুণের আলোকচিত্র শিল্পি হয়ে উঠার গল্প …

Kamol Das Photography  (118)প্রথমেই কমল বলেন , আমার বেশির ভাগ আলোকচিত্রই সমব্যথী , ভদ্র এবং ব্যক্তিগত । তারা দর্শককে নিজেকে দেখতে দিতে চেষ্টা করে ।তারা কোনো উপদেশ না দিতে চেষ্টা করে । এবং শিল্পের ভান না করতে চেষ্টা করে…………..আমি সত্যি জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ ।

প্রশ্ন: আপনি ফটোগ্রাফিতে কিভাবে জড়িত হলেন …

কমল দাশ : ফটোগ্রাফি এক ধরনের নেশা। অনেক আগে থকেই এ নেশায় আমি আক্রান্ত। কিন্তু এ নেশা কখনোই পেশা হিসেবে নেইনি। যার কারনে ফটোগ্রাফিতে প্রচুর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আমার ভাল/দামী কোন ক্যামেরা নেই বা নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি। যখনই কোন ক্যামেরা হাতে পেয়েছি (তা সেটা ফিল্ম ক্যামেরাই হোক আর মোবাইল ক্যামেরা কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরাই হোক) ফটো তুলেছি।
প্রশ্ন: আপনি একজন শৈখিন ফটোগ্রাফারও ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফার, পরে পেশাদার ফটোসাংবাদিকতায় আসলেন অথচ আপনাকে বাণিজ্যিক কাজের ব্যাপারেও অনুৎসাহী বলে মনে হয় না।

Kamol Das Photography  (152)কমল দাশ : একেবারেই না! ফটোগ্রাফি আসলেই একটা বাণিজ্যিক কাজ। এমনকি হাই আর্ট ফটোগ্রাফিও এইটার বাইরে না, তারাও প্রিন্ট বিক্রি করতে চায়! আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, এখন যদি আপনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফটোগ্রাফারের কথা ভাবেন, দেখবেন যে সেইটা ফ্যাশন ফটোগ্রাফার স্টিভেন মিজেল না, আন্দ্রে[?  গার্স্কি, যিনি কিন্তু এখন আর্ট মার্কেটে সবার উপরে আছেন। মজার ব্যাপার হল যে আর্ট মার্কেটকে অর্থনৈতিক ভাবে অধিকাংশ সময়েই, বাণিজ্যের দরিদ্র ভাই হিশাবে দেখা হয়, সেটাই এখন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকেও অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে! আপনি যে কোন ফটোগ্রাফারকে জিজ্ঞেস করে দেখেন সে কি করতে চায়, দেখবেন তারা হয়ত বলবেঃ আমি আমার নিজের মত কাজ করতে চাই, আমি আমার কাজ প্রিন্ট হিশাবে বেচতে চাই। আলটিমেটলি, এইটা কিন্তু একটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যই। সুতরাং, আমরা কখন্ওই এই বাণিজ্যিক ব্যাপার স্যাপার থেকে দূরে থাকতে পারব না।

Kamol Das Photography  (36)(1)প্রশ্ন: আপনি দেশবিশের অনেক খ্যতিমান মানুষের পোট্রেট ছবি তুলেছেন , আমরা যেটা নাসির আলী মামুন কে তুলতে বেশি দেখি , এইটা আপনার মধ্যে কিভাবে কাজ করেছে?

কমল দাশ : সত্যি কথা বলতে নাসির আলী মামুন ভাইয়ের ছবি তোলা দেখেই আমার আগ্রহ এইটার প্রতি . বলতে পারেন আমি তার ভাবশিষ্য .

প্রশ্ন: দেশবিদেশে আলোকচিত্রশিল্পীদের কার কার আলোকচিত্র আপনার ভালো লাগে ?
কমল দাশ : আমার কাছের দিয়ে শুরু করি আমার বন্ধু রাজেশ , অনুরুপ টিটু ,  জসীম সালাম , এরপর বলতে পারি পাভেল রহমান , তাপস সোম , শোয়েব ফারুকী , নাসির আলী মামুন , হাসান চন্দন ,শহীদুল আলম আবীর , শাহাদাত পারভেজ , মুনেফ ওয়াসিফ , আর দেশের বাইরে বলা যায় আমি যাদের ভাবশিষ্য নবুয়্যোশি আরাকি, রঘু রাই , স্টীভ , ডেবিট লাজার রবার্ট ফ্রাঙ্ক, ল্যারি ক্লার্ক এবং উইলিয়াম ক্লেইন আরো অনেকই আছে ।

Kamol Das Photography  (133)প্রশ্ন:আপনি সবসময়ই এমন বল কেন যে ফটোগ্রাফির নিজরেই একটা মৃত্যু গন্ধ আছে?
কমল দাশ : গতি জড়তা কী, তা তৈরি করাটা এক ধরনের মৃত্যু। ক্যামেরা নিজে, ফটোগ্রাফ নিজে, মৃত্যুর ডাক দিয়ে যায়। এছাড়াও, যখন আমি ফটোগ্রাফি করি তখন আমি মৃত্যুর কথা ভাবতে থাকি, যেটা ফটোগ্রাফির প্রিন্টের মধ্য দিয়া বাইর হয়ে আসে। হয়তো বা সেটা প্রাচ্যের, গৌতম বুদ্ধের ভাব ধারণা থেকে আসা। আমার কাছে ফটোগ্রাফি একটা ক্রিয়া, যেটা সাবজেক্টের ভেতর দিয়ে আমার নিজ সত্ত্বাকে বের করে নিয়ে আসে। মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার গন্তব্যে যায় ফটোগ্রাফি। বাস্তবতা রংয়ের মধ্যে অবস্থান করে, কিন্তু ফটোগ্রাফির শুরুতে বাস্তবতাকে সবসময় রংহীন করে ফেলে, এবং সেটা সাদা-কালোয় রূপ নেয়। রং জীবন আর সাদা-কালো মৃত্যু। ফটোগ্রাফির আবিষ্কারের মধ্যেই একটা ভুত লুকায়া ছিল।

প্রশ্ন: আপনার এখন সব শেষ আচ্ছন্নতা কী ? :

কমল দাশ : আমার একটা আচ্ছন্ন করা সাবজেক্ট হল, মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে যাত্রা। ডায়রির মতো এ কাজটা করে যাচ্ছি। একটা সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে সব ছবি তুলেছি। ফটোগ্রাফি হল ক্যামেরার সহযোগিতায় একটা কাজ। প্রত্যেক ক্যামেরাই আলাদা। আমাদের সময়কে কেবল একটা ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: অনেক শিল্পীই ইদানিং ফটোগ্রাফিকে একটা কনসেপচুয়াল মিডিয়াম হিশাবে ব্যবহার করেনঃ বোঝাই যায় যে, তারা ছবিটার ব্যাপারে আগ্রহী এবং সেই ছবির প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। কিন্তু তারা সেই ছবির গঠন কিংবা কৌশলগত বিষয়ে খুব দৃঢ়ভাবে আগ্রহী হননা, এমনকি ফটোগ্রাফির ইতিহাস এবং সেখানে তাদের অবস্থানের ব্যাপারেও না। একটু আগেই আপনি বললেন, ছবি তোলাটা এখন খুব সহজ, সেটাও একটা কারণ। আপনি কি খেয়াল করেছেন, কিংবা ভেবেছেন যখন ফটোগ্রাফি শিল্প জগতের সাথে মিশে গেছে, তখনই কিছু একটা পরিবর্তন ঘটেছে?
কমল দাশ : নিশ্চিতভাবে। এখন যেভাবে আপনারা ফটোগ্রাফিকে দেখেন, তাতে একটা বিশাল পরিবর্তন ঘটে গেছে। দশ বছর আগেও টেট গ্যালারি ফটোগ্রাফ কিনত না, যদি না সেটা একজন শিল্পীর করা হত, কিন্তু এখন তারা অন্যান্য লোকজনের কাছ থেকে ছবি কেনে এমনকি আমার মত লোকের কাছ থেকেও। এইটা তাদের পরিচালনা নীতির বিশাল পরিবর্তন। এখন যদি আপনি একটা আর্ট ফেয়ারে যান, এক তৃতীয়াংশ ছবিই হল ফটোগ্রাফি।

প্রশ্ন: আপনার ছবি নিয়ে মানুষের ভাবনা কি বলেন?

কমল দাশ : ক্যামেরায় চোখ রেখে জীবনের গল্প………….আমি যখন ছবি তোলা বিষয়কে একজন ক্যামেরা শ্রমিক ( ফটোসাংবাদিক ) হিসেবে নিলাম . বিষয়টা কিছু মানুষ প্রতিপক্ষ হিসেবে নিল । পত্রিকার নিদিষ্ট ছবি বাইরে নানা বিষয়ে ছবি তুলছি অনেক বছর হল । এই ফটোগ্রাফি আমাকে এতো পরিচিত করে তুলবে ভাবি নাই । এই শহরের আনাচে – কানাচে কোনো না কোনোভাবে কেউ একজন বলে ভাইয়া আপনি ফটোগ্রাফার কমল দাশ না । এই ফেইসবুকের কল্যাণে আজ পরিচিত আমি । আমার এতো প্রতিপক্ষ আর নিন্দুক থাকার পরও সবকিছু ছাপিয়ে অনেক অনেক মানুষের ভালোবাসা আর সহযোগিতা পেয়েছি অবলীলায় ……। আমি প্রতিপক্ষ বড়ই ভালোবাসি… তারা আমার একধরণের প্রেরণা ও কাজ করবার খিদেটা  বাড়িয়ে দিয়েছে… আমি কৃতজ্ঞ এই প্রতিপক্ষ ও নিন্দুকের কাছে । যদিও ভালোবাসার মানুষের তুলনায় এরা খুবই নগন্য । তবুও তাদের সালাম আমার আমাকে দাঁড়াতে শেখাচ্ছে ।

Kamol Das Photography  (4)প্রশ্ন: আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন , আপনাকে ফটোগ্রাফির অনুপ্ররণা কে দিয়েছিলেন …
কমল দাশ : অবশ্যই আমার বাবা । যিনি আমার ইহজীবনের স্বপ্ন পুরুষ । আধুনিক মানুষ বলতে যা বোঝায় ।আমার ভালোলাগা সব কিছু যিনি অবলীলায় সমথন দিয়েছে ।আমি সত্যি জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ ।