২৩ ফেব্রুয়ারি২০১৯, ১১ ফাল্গুন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

চবি ছাত্রলীগের বিবাদ মেটাতে শনিবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় বৈঠক

Friday, 14/11/2014 @ 8:07 pm

 

chittagong_banglanews24_849160095চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের চলমান দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অচিরেই এই অবস্থার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার একদিনের সফরে চট্টগ্রাম আসলে ঐ সময় চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিবাদ মেটানোর জন্য নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিনকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর আজ শনিবার বৈঠকে বসছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। সভায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিবাদমান গ্রুপের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া দরকার। প্রশাসন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
ছাত্রলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিরসনের জন্য শনিবার নগর আওয়ামী লীগের সভাপতির বৈঠকে বসার কথা জানান চবি ছাত্রলীগের নেতারা। আশা করছি এ বিষয়ে একটি কল্যাণকর সুরাহা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুটি অংশের নেতাদের মধ্যে কোন্দল দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে আরিফুল ইসলাম সমর্থিত অংশটি ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও অমিত বসু ও সুমন মামুন সমর্থিত গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ভিএক্স পক্ষের কয়েকজনের হাতে সিএফসি পক্ষের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সুমন মামুন আহত হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ভিএক্স পক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির হায়দার বাবুল। নাসির হায়দারের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারিদের শাস্তির দাবিতে গত ৭ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ক্যাম্পাস অবরোধ করে রাখে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষ। এতে টানা সাত দিন অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়এ ছাড়া দুটি পক্ষের ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর ১৬ দিন অচল ছিল। নানা বিতর্ক ও দফায় দফায় সংঘর্ষের জের ধরে চলতি বছরের ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বেড়াতে যায়। সর্বশেষ গত ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন সিএফসি গ্রুপের অনুসারী কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মিঠুন চৌধুরী। এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রলীগের গ্রুপটির প্রতিরোধে দুইদিন বন্ধ থাকে শাটল ট্রেন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাস চলাচল। ছাত্রলীগের এ ধরণের কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও ক্ষুব্ধ হন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে প্রধানমন্ত্রীর বুধবারের চট্টগ্রাম সফরে। এসময় বিরোধ মেটাতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের কেউ যদি শৃঙ্খলা না মানে এবং অনৈতিক কাজে জড়িয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তবে তাদেরকে সংগঠন থেকে বের করে দেন। নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভার্সিটিতে কেন গন্ডগোল হচ্ছে? ক্যাম্পাসকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ছাত্রলীগের যারা সিদ্ধান্ত মানবে না, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকবে-সেই ছাত্রলীগ আমার দরকার নেই। ক্যাম্পাসের পরিবেশ কোনোভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এক মুহূর্তের জন্য শিক্ষাজীবন নষ্ট করা যাবে না। ক্যাম্পাস খোলা রাখতে হবে। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ জানান, কোন্দলটি যেহেতু একটি সংগঠনের, সুতারাং এটি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। বৈঠকের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি অমিত কুমার বসু জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা মেনে নেব, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে শিবিরকে মোকাবেলা করতে চাই।