১৯ নভেম্বর২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

চট্টগ্রামে দু’দিন ব্যাপী শিশু উৎসব উদ্বোধন

Friday, 20/03/2015 @ 1:34 pm

pathsala-(1)-20.03.15নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অফিস: শিশুদের সুন্দর স্বপ্নের উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের সমৃদ্ধির বাংলাদেশপ্রানের উচ্ছাসে পুরো ডিসি হিল জুড়ে যেন বসেছে শিশুদের প্রাণের মেলা। চৈত্রের ভরা দুপুর উপেক্ষা করে শত শত শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ডিসি হিল। শিশুদের সাথে বর্ণিল আনন্দে মাতোয়ারা আগত অভিভাবক ও শিক্ষকরা। সূর্যের মত আলো ছড়াচ্ছিল কচিকচি মুখগুলো। তিল ধারণের ঠাঁই ছিলনা কোথাও। বাবা-মায়ের সাথে ঝলমলে পোশাক পরা ঝাঁকে, ঝাঁকে সম্ভবনাময় শিশুরা উপস্থিত হয় শিশু উৎসবে। দুই দিন ব্যাপী শিশু উৎসবে আগত শিশুদের মাঝে এমন আনন্দ উচ্ছাস দেখা গেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ডিসি হিল প্রাঙ্গনে শুক্রবার মেধা বিকাশ কেন্দ্র ‘শিশুদের পাঠশালার’ আয়োজনে বিগত ১৫ বছরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই শিশু উৎসবে রং বেরঙের বেলুন উঠিয়ে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো.মেজবাহ উদ্দিন। উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের সুন্দর স্বপ্নের উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের দেশ গড়ার দায়িত্ব গ্রহন করবে। শিশুদের বড় বড় স্বপ্ন দেখাতে হবে। তাদের এমন স্বপ্ন দেখাতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে উন্নতির মশাল জ্বালাতে পারে। তিনি বলেন, আজকে এই ডিসি হিল প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগতরা অনেক কষ্টে অনুষ্ঠান উপলব্দি করে থাকেন।এই কষ্ট আর বেশী দিন থাকবেনা। এই ডিসি হিলের আধুনিকায়নের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত করতে হবে। শিশুদের সবার আগে শেখাতে হবে দেশ প্রেম। এদের এমন সঠিক শিক্ষা দিতে হবে তারা যেন ভবিষ্যতে মৌলবাদ জঙ্গিবাদ হতে না পারে। সঠিক ভাবে সঠিক সময়ে শিশুদের পরিচর্যা ও তাদের প্রতি যতœশীল হলে তারাই একদিন গৌরবের সুনাম বয়ে আনবে। উদ্যাপন পরিষদের চেয়রাম্যান নিয়াজ মোর্শেদ এলিট এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুক, মুখ্য আলোচক ছিলেন দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক একে এম জহুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, শিশু উৎসব উদ্যাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান ও এলবিয়ন গ্র“পের চেয়ারম্যান রাইসুল উদ্দিন সৈকত, সানোয়ারা গ্রপের পরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জাহেদুল ইসলাম, উদ্যাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান লায়ন এম এ সোহেল আহমেদ মৃধা, উদ্যাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, ফুলকলি গ্র“প অব কোম্পানীর হেড অব মার্কেটিং মো জামাল উদ্দিন রাসেল, আবদুল মতিন, আবুল বশর।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক একে এম জহুরুল ইসলাম বলেন, শিশু সন্তানদের আজকের এই মেধা বৃত্তি প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করিয়ে অভিভাবকরা যে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবার জন্য যে প্রতিভার প্রয়োজন এসব শিশুদের সেভাবেই সঠিক তদারকির মাধ্যমে প্রতিভাবান করে গড়ে তুলতে তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ জানান।অনুষ্ঠানে স্বগত বক্তব্য রাখেন উদ্যাপন পরিষদের মহাসচিব আবু তালেব সিদ্দিকী ও শিশুদের পাঠশালার পরিচালক সাংবাদিক শুকলাল দাশ। স্বগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুকলাল দাশ বলেন, বুনা স্বপ্ন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পাঠশালা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের মাঝে লুকায়িত প্রতিভা বিকশিত করতে পাঠাশালার এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। এর আগে একই মঞ্চে শিশু সাহিত্যিকদের সংবর্ধনা প্রদানpathsala -(2)-20.03.15 করা হয়। সুখময় চৌধুরী বাবু’র সভাপতিত্বে সংবর্ধনা পর্বে মূখ্য আলোচক ছিলেন শিশু সাহিত্যক, কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। সংবর্ধিত শিশু সাহিত্যিকরা হলেন কবি বিপুল বড়–য়া, দীপক বড়–য়া, উৎপল কান্তি বড়–য়া, জসীম মেহবুব, অরুণ শীল। শিশু সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘শিশুদের পাঠশালা’র মনোগ্রাম খচিত ক্রেষ্ট দিয়ে এদের সংবর্ধিত করা হয়। উপস্থাপিকা দিলরুবা খানম ও মোহাম্মদ সেলিম আকতার পিয়ালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ফেরদৌস সিপন, পাঠশালার সদস্য সচিব এড.যীশু কৃষ্ণ রক্ষিত, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল, পাঠশালা কর্মকর্তা দেবাশীষ দত্ত ক্রেডিট, সজল দাশ, সুরঞ্জিত শীল, সাংবাদিক এ এইচ এম কাউছার, লোকমান হোসেন, নোবেল সিকদার তাপস, গোলাম সরোয়ার, উজ্জল দত্ত, বোকারী আজম, মিন্টু সিকদার, রুবেল দাশ প্রিন্স, সুমন চৌধুরী, জাবেদ রকি, শিবলি সাদিক কফিল, তপন দাশ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে এক ঝাঁক শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ, গান আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠের নিত্য পরিবেশনা, বোধন আবৃত্তি পরিষদের বৃন্দাআবৃত্তিসহ বিভিন্ন দলের পরিবেশনায় দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। এছাড়া শিশু চিকিৎসক ডা. রানা চৌধুরীর তত্বাবধানে ফি চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রায় ৬শ’ শিশু শিক্ষার্থীদের সনদপত্র, ক্রেষ্ট, প্রাইজবন্ড, স্কুল ব্যাগ প্রদান করা হয়। এছাড়া শিশুদের জ্ঞান অন্বেষণে বইয়ের স্টল এবং তাদের ক্ষুধা নিবারণে ফ্রি কপি হাউজ, ফুল কলির টিফিন কেক ও পানি, হামদর্দের শরবত, ইস্পাহানীর সিপস, আইসক্রীমবারসহ বিভিন্ন ফাস্টফুডের খাদ্যের স্টল রয়েছে।
শনিবারের অনুষ্ঠান : ২১ মার্চ শনিবার শিশু উৎসবের দ্বিতীয় দিন উপস্থিত থাকবেন দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি,কবি ও সাংবাদিক। এদিন অনুষ্ঠানে ছড়া পাঠ করবেন খ্যাতনামা ছড়াকাররা। থাকবে র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ।