‘চট্টগ্রামবাসীর সব সমস্যা সমাধান করা হবে’

‘চট্টগ্রামবাসীর সব সমস্যা সমাধান করা হবে’

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামকে অর্থনীতির ‘গেটওয়ে’ ও ‘দ্বিতীয় রাজধানী’ উল্লেখ করে করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামবাসীর সব সমস্যা সমাধান করা হবে। কোনো সমস্যার কারণে বা কোনো মতগত পার্থক্যের কারণে আর পিছিয়ে থাকা যাবে না। চট্টগ্রামের স্বার্থে যেসব কাজ করা দরকার তা চিহ্নিত করতে হবে।

শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে।

এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে অবহেলিত রেখে, চট্টগ্রামে সমস্যা বিদ্যমান রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন না। প্রধানমন্ত্রী সবসময় চট্টগ্রামবাসীর পাশে আছেন। এ কারণে চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রকল্প তিনি পাশ করিয়ে দেন। চট্টগ্রামের একটি উন্নয়ন প্রকল্পও তিনি বাদ দেননি। গত একনেকের সভায়ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে চট্টগ্রাম দ্রুত এগিয়ে যাবে। দেশেরও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দিয়েই বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের কারণেই আমরা স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্ন পূরণে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। তাই মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরেই এখানে এসেছি। সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের আযোজন করেছি। আমরা এখানে চট্টগ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করবো। সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় করবো। সমাধানের পথ খুঁজে নেবো।

মন্ত্রী বলেন, আগামী বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় এবং জনজীবনে কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি না হয় সে জন্য সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে। আশা করে যাচ্ছে আগের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে। বাস্তবায়ন শেষে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম করবে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে তাদের সক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।

সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত ৪০টি খালের মুখে জলকপাট (স্লুইচগেট) নির্মাণ করতে হবে। আবার প্রকল্প টেকসই করতে হলে বাস্তবায়ন শেষে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রতিবছর ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য করপোরেশনকে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে মাথায় রাখতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এসএম গোলাম ফারুক, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন এবং সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।