১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

গুটিয়েছে রাউজানের নেশার বাজার, চালু আছে বিভিন্নস্থানে জুয়ার আসর

Wednesday, 28/01/2015 @ 11:04 am

juwa pic 1মোরশেদ হোসেন চৌধুরী,চট্টগ্রাম: রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী মদ জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে উপজেলার বিভিন্নস্থান থেকে নেশার বাজার গুটিয়ে ফেলেছে ব্যবসায়ীরা। তবে এলাকার মানুষের অভিযোগ উপজেলার বিভিন্নস্থানে চলছে এখনো জুয়া খেলার আসর। স্থানীয়রা বলেছে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা জুয়ার আড্ডায় গিয়ে একাজে আবার আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ছয় মাস থেকে এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নিদ্দেশনা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে শায়েস্তা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। সাংসদের এই নিদ্দেশনা পেয়ে এলাকা ভিত্তিক জনপ্রতিনিধিরা ও আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ ও এই অভিযানে আন্তরিকা নিয়ে মাঠে থেকে মাদকের মারণছোবল থেকে রাউজানকে এক রকম রক্ষা করেছে। বিগত ছয় মাসে রাউজান থেকে কমপক্ষে ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আটক হয়ে আদালতে চালান হয়েছে। তারা অনেকেই এখন হাজতবাসে রয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায়, সাংসদের কঠোর মনোভাব দেখে পুলিশ এই ব্যবসায় জড়িতদের ছাড় না দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছে। যারা আগে কতিপয় পুলিশকে ম্যানেজ করে মাসিক চাঁদায় ব্যবসা করতো তারা এখন আর থানার সাথে যোগাযোগ করছে না। তবে এলাকার জনসাধারণ অভিযোগ আছে রাউজানের মানুষ মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলেও জুয়াড়ীদের তৎপরতায় এখনো রয়েছে শংকিত। বিভিন্নস্থানে খেলায় মেলায় ও এলাকার নিরিবিলিস্থানে জুয়ার আসর চালু রয়েছে। ওসব আসরের দিকে উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনায় অনেক অভিভাবক তাদের ভবিষৎ নিয়ে ভাবনায় পড়েছে। জুয়ার আড্ডার বর্ণণা দিতে গিয়ে এলাকার সূত্র সমূহ জানিয়েছে বিশেষ করে কিছু কিছু মৌসুমী খেলা মেলায় ও জনকোলাহলপূর্ণ বাস,টেক্সি ষ্ট্যাণ্ড, হাটবাজারের পার্শ্ববর্তী নিরিবিলি জায়গা ও চা দোকানের পিছনে বসে জুয়াড়ীরা খেলার আসর বসায়। এসব স্থানে জুয়ার আসর চলে রাতদিন সমান তালে। জুয়ায় যারা বসে তাদের বেশির ভাগ দিন মজুর শ্রেণীর। মাঝে মধ্যে দেখা যায় উঠতি বয়সী ছেলেদের অড্ডায়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে প্রতি অড্ডায় দৈনিক লাখ টাকার পর্যন্ত খেলা চলে। এই খেলা হয় বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাস খেলার আদলে। ২৫শে জানুয়ারী রবিবার বিকাল ৩টায় জুয়া খেলায় আসক্তদের দেখা রাউজান পৌরসদর এম জে স্কোয়ার এর পিছনে। এসময় জয়াড়ীরা খেলায় এমন ভাবে মগ্ন থাকে তাদের পাশে গিয়ে ছবি উঠালেও কারো হুস ছিল না। কথা বলতে চাইলে মিলেনি কারো সাড়া। জুয়ার এরকম অড্ডা বসে পৌর এলাকার জলিলনগর বাস ষ্ট্র্যাণ্ড, শ্বরৎ এর দোকান, কুণ্ডেশ্বরী গেইটের পূর্ব পার্শ্বে, বিনাজুরীর কাগতিয়াহাট, রাউজানের ইউনিয়নের বটতল, নতোয়ান বাগিছা, হলদিয়ার আমীরহাট, জাইল্যা টিলা, ডাবুয়ার বাইন্যাহাট, পূর্বগুজরার নতুন বাজার, নোয়াজিশপুরের নতুন হাট পাহাড়তলীর গৌরীসংঙ্করহাট, বাগোয়ান লাম্বুরহাট, নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট এলাকায়। এলাকার জনসাধারণ এলাকার শান্তিপূর্ণ ও সন্দর পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে রাউজান থেকে মাদকের মত জুয়ার আসরও ভেঙ্গে দিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।