২৩ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৮ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর নগরীর শপিংমল

Thursday, 22/06/2017 @ 1:13 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের মতোই রয়েছে। সবগুলো মার্কেট শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় সরগরম। ঈদ ঘনিয়ে আসায় নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার সমাগম, বিক্রি নিয়েও সন্তুষ্ট দোকানিরা। ক্রেতাদের বেশি আকর্ষণ নিউ মার্কেটের দিকে। এ মার্কেটে ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন পোশাক ও অলংকার থরে থরে সাজানো হয়েছে। বর্ণিল আলোক সজ্জায় বিপণিবিতানটি সাজানো হয়েছে নতুনরূপে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে দেদার। নারী ক্রেতাদের আগ্রহ ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যতে। মার্কেটে প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম এখনও কম থাকায় খুশি তারা। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত নিউ মার্কেট। এ সময় তরুণ-তরুণীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। ফ্যাশন সচেতন রুচিশীল ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ছুটছেন সমানতালে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।

পাবনা শাড়িজের স্বত্ব¡াধিকারী মাহফুজ জানান, গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা বেশ ভালো। তিনি বলেন, প্রতি বছর ক্রেতাদের পছন্দের ধরন পাল্টাচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে চাহিদার হিসাব-নিকাশ। এবার লিনেন, সুতি, জর্জেট, কাতান, জামদানি, কটন, টাঙ্গাইল, প্রিন্টেড, বেনারসি কাপড়ের প্রতি বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। ৫০০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি দোকানে তোলা হয়েছে। এবার বাজারে আসা নতুন ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে বাহুবলী ক্রেজ, লেহেঙ্গা ও সারারা।

ওই দোকানের বিক্রয়কর্মী ইকবাল জানান, শহরের মানুষ সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠান আর ঈদের মৌসুমে শাড়ি কেনেন। তাই ঈদকে লাভের বড় একটা উপলক্ষ মনে করেন তারা। ক’দিন ধরে বেচাবিক্রি বেশ ভালো। অতিবৃষ্টি না হলে আরও ক্রেতা আসবেন। বিশেষ করে শুক্রবার ছুটির দিনে।

নগরীর চকবাজার উর্দুগলি থেকে পরিবার নিয়ে আসা মাসুদ রানা ও লাকী আক্তার বলেন, ঈদে সবার জন্যই কিছু না কিছু কেনাকাটা করতে হয়। বড় মার্কেটে দাম একটু বেশি হলেও উন্নতমানের কাপড় পাওয়া যায়। দাম এখনও ক্রেতাদের হাতের নাগালে রয়েছে। তাই নিউ মার্কেটে আসা। ঈদে বাচ্চাদের জন্য বেশি কেনা হয়। ক্রাস্ট ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী পারভেজ জানান, তরুণ-তরুণীদের পছন্দের সব কাপড় এখানে রয়েছে। এবার বাহুবলী থ্রিপিসের চাহিদা বেশি হলেও অন্যান্য থ্রিপিস, শর্টকামিজের বেচাকেনাও পুরোদমে চলছে।

তরুণদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা বিক্রির শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। তরুণদের এসব পোশাক ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তরুণীদের ৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকা দামের থ্রিপিস দোকানে বিক্রি হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে দম ফেলার সুযোগ নেই। বিপণিবিতান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ সাগির জানান, চারতলাবিশিষ্ট মার্কেটের ৫০৭টি দোকানের নিরাপত্তায় ২৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ২৫ জন নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।