১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

Tuesday, 24/11/2015 @ 10:59 am

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

চট্টগ্রাম নিউজ ডেস্ক:
বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণের অপূর্ব সমাহার পর্যটকদের কাছে টানে। বিশাল বিশাল ভবন আর নির্মাণশৈলী জমিদার আমলে জমিদারদের বিত্তবৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঝড়-বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।
প্রায় দুশ’ বছরের ইতহাস-ঐতিহ্য বুকে লালন করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটির জমিদার বাড়ি। সে সময়কার মানুষের জীবন-জীবিকা, চাল-চলন, আনন্দ-বিনোদন আর শৌখিনতার পরিচয় পাওয়া যায় এ জমিদার বাড়িটিকে দেখলে। মানুষের মেধা আর পরিশ্রমকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নতির শীর্ষে আরোহণ করা যেমন কঠিন নয়, এই জমিদার বাড়ির মানুষগুলোই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কেননা একটি নিুবিত্ত পরিবার থেকে এ জমিদার বাড়ির কর্তারা তাদের মেধা মননশীলতা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে জমিদারি হাল-হকিকতে নিজেদের নাম লেখাতে পেরেছেন। উন্নতির শীর্ষে নিজেদের অবস্থানকে ধরে রেখেছেন যুগ থেকে যুগান্তরে।

বালিযাটি প্রাসাদ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত মানিকগঞ্জ জেলার সদর থেকে আনুমানিক আট কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে পয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত।
এটি বাংলাদেশের ১৯ শতকে নির্মিত অন্যতম প্রাসাদ। একে বালিযাটি জমিদার বাড়ী বলে ডাকা হয। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বা প্রাসাদটির সবগুলো ভবন একসাথে স্থাপিত হয়নি। এই প্রাসাদের অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হযেছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি যাদুঘর। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত।

জমিদার বাড়ির প্রবেশ দরজার দু’পাশে উপরের দিকে রয়েছে দুটি তেজী সিংহের পাথরের মূর্তি। দেখলে মনে হবে এই বুঝি তেড়ে আসছে। সুতরাং প্রবেশদ্বারকে সিংহদ্বার বলতেই হয়। এ সিংহদ্বার পেরুলেই নজরে আসবে প্রশস্ত আঙিনাটি। যেখানে বর্তমানে রয়েছে ফুলের বাগান। বাড়ির পেছনের অন্দর মহল পেরুলেই চোখে পড়বে বিশালাকার পুকুর। পুকুরের একপাশে রয়েছে শৌচাগার। পুকুরের চারপাশে রয়েছে চারটি শান বাঁধানো ঘাট। সম্ভবত চার জমিদার আনন্দ রাম, দধিরাম, পণ্ডিত রাম ও গোপাল রামের জন্যই চারটি আলাদা আলাদা ঘাট বাঁধানো হয়েছে। বর্তমানে পুকুরটি পানিশূন্য রয়েছে। ১৭৯০ সালে ওই চার ভাইয়ের মাধ্যমেই বালিয়াটি জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন হয়।