১৭ নভেম্বর২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

Tuesday, 23/10/2018 @ 5:48 pm

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

চট্টগ্রাম অফিস: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন আজ। তিনি বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ভাগে দুই বাংলায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত। তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।

শাসসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরনো ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে।

ষাটের দশকের গোড়ার দিকেই কবি প্রতিভার বিচ্ছুরণে আলোকিত করেন বাংলা সাহিত্যের ভুবন। বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তার কলম ছিল সোচ্চার। তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক, গীতিকার ও কলামিস্ট। দীর্ঘ ছয় দশকের লেখালেখিতে তিনি বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

তিনি আবার আসাদের শহীদানের পর লিখেছেন, ‘আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা’। তেমনি নূর হোসেনের মৃত্যুর পর লিখেছেন, ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’। একইভাবে তাকে আবার পাওয়া যায় প্রেম, প্রকৃতি বন্দনায়।

তারঁ প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান ‘দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (১৯৫৯)। এখানে তার ভাবনার মূলে রয়েছে ঢাকার বস্তি-গ্রাম-নগরের মিশ্র জনপদ। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, ব্যর্থতা, শোভাহীনতা, নিঃসঙ্গতাকে ধারণ করেছেন এই কাব্যগ্রন্থের অনেক স্তবকে।

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘রৌদ্র করোটিতে’। এ কাব্যগ্রন্থেও ঢাকা ও ঢাকার পারিপার্শ্বিক জগৎকেই খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি স্বতন্ত্র এক কাব্যমেজাজ এবং কাব্যভঙ্গি আয়ত্ত করেছিলেন।

‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিরালোকে বসতি’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দি শিবির থেকে’, ‘মাতাল ঋতিক’সহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে কবির ৬০টি কবিতার বই। এ ছাড়া শিশুতোষ, গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস- ‘অক্টোপাস’ ও ‘অদ্ভুত আঁধার’, নাটক ও কবিতাগ্রসহ অনুবাদগ্রন্থ, নির্বাচিত কলাম, নির্বাচিত কবিতার চারখন্ডসহ কবির বিভিন্ন বিষয়ে শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য শামসুর রাহমান স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি জাপানের মিৎসুবিশি পুরস্কার পান। ১৯৯৪ সালে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা তাকে আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত করে। ওই বছর তাকে সাম্মানিক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৬ সালে সাম্মানিক ডি লিট উপাধি দেয় কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

মৃত্যুর ৭ বছর আগে ১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি দুর্বৃত্ত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন কবি। রাজধানীর শ্যামলীর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে একদল দুর্বৃত্ত। অবশ্য গুরুতর জখম হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৭ আগস্ট তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

কবির ইচ্ছানুযায়ী ঢাকাস্থ বনানী কবরস্থানে, নিজ মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। কবির গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাহাড়তলী গ্রামে। তিনি নগরকে ভালবেসে আজীবন, এমন কী মৃত্যুর পরেও রাজধানীতেই থেকে যান।

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আজ বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে রয়েছে আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করবেন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বনানী কবরস্থানে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান।