১৭ ডিসেম্বর২০১৭, ৩ পৌষ১৪২৪
1024x90-ad-apnar

ইনিংস ও ২৫৪ রানের হার টাইগারদের

Sunday, 08/10/2017 @ 6:04 pm

ইনিংস ও ২৫৪ রানের হার টাইগারদের

ক্রীড়া ডেস্ক: ব্লুমফন্টেইনে টেস্টের তৃতীয় দিনেই ইনিংস এবং ২৫৪ রানের ব্যবধানে হারতে হলো বাংলাদেশকে। দুইবার ব্যাটিং করেও ঢাকতে পারল হারের লজ্জা। ফলে দুই ম্যাচ টেস্টে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হল বাংলাদেশ।

রানের হিসেবে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার এটাই সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০০১ সালে কেপটাউন টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২৯ রানে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে দুই দলের ১২ বারের দেখায় ৮ বারই ইনিংস ব্যবধানে হারল লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা।

বাংলাদেশের সব আশা একাই ধুলিস্যাৎ করে দেন কাগিসো রাবাদা। সুইং, ইয়র্কার আর কাটারে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন ২২ বছরের এই তরুণ পেসার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া রাবাদা, এই ইনিংসেও তুলে নেন ৫টি উইকেট। তার সাথে প্রোটিয়া বোলার পেহলুকাইয়ো নেন ৩ উইকেট। ওয়েইন পারনেল ও অলিভিয়ের নেয় ১টি করে উইকেট।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৫৭৩ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৭ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলো অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে সৌম্য-ইমরুলরা।

তৃতীয় দিন সকালে যখন বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামে, তখন তাদের হাতে ছিল ১০ উইকেট আর পিছিয়ে ছিল ৪১৯ রানে। দিনের শুরুতেই মাত্র ৩ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। রাবাদার বলটি সৌম্য সামনের পা এগিয়ে খেলতে গেলে ব্যাটের কোনায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। তবে দু প্লেসিস ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি লুফে নেন।

ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বলটি বাউন্স দেন রাবাদা। যেটিকে জাগিয়ে খেলতে গেলে ডিপ স্কয়ার লেগ অঞ্চলে দাঁড়ানো কেশব মহারাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মুমিনুল। ফলে মাত্র ১১ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় এই টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানকে।

দিনের শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখন এক পাশ আগলে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস। তবে তাকে বেশিদূর এগোতে দেননি ওলিভিয়ের। এই বোলারের বল ছেড়ে দিয়ে অনেকটা ব্যাট দিয়ে খোঁচা মারতে গিয়ে ডি ককের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। ৩২ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশকে ধরে রাখলেন মুশফিকুর রহিম। প্রোটিয়া পেসারদের একের পর এক বাউন্সারে কুপোকাত হতে হচ্ছিল বাংলাদেশকে। একবার তো অলিভিয়েরের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়েছেন মুশফিক। যে কারণে তাকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হলো। উইকেট যাওয়ার ধারাবাহিকতায় লাঞ্চের আগেই শেষ সংযোজন ছিল মুশফিকুর রহিম।

পারনেলের ওভারের পঞ্চম বলটি মুশফিক ছেড়ে দিলেও সামান্য প্যাডে লেগে উইকেট রক্ষকের হাতে যায়। সাথে সাথে আবেদন করেন পারনেল। আবেদনে সাড়াও দেন আম্পায়ার। তারপরও রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। তবে রিভিউ নেয়ায় ফল হয়নি। রিভিউতে স্পষ্টই দেখা গেছে তিনি এলবির ফাঁদে পড়েছেন। ফলে ২৬ রান নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগার দলপতিকে।

লিটন কুমার দাস ১৮ রান করে পেহলুকাইয়োর বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এর পরের ওভারেই রাবাদার বলে এলগারের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ ছিল ৪৩। বাংলাদেশের ইনিংসে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ সংগ্রাহক।

সাব্বির রহমান ১২ বল খেলে করলেন মাত্র ৪ রান। পেহলুকাইয়োর বলে দু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ দিযে ফিরলেন তিনি। পরে যারা ব্যাট করতে নেমেছিলেন, তারা শুধুই নিয়মরক্ষা করতে মাঠে নেমেছিলেন। তাইজুল, রুবেল, সুভাশিস এবং মোস্তাফিজরা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন। শেষে তো ১০ বল খেলে শুভাশিস করলেন ১২ রান। বাউন্ডারিই মেরেছেন তিনি ৩টি। কোনো সিঙ্গেলস নেই। মোস্তাফিজ করেছেন ৭ রান। একটি মেরেছেন বিশাল ছক্কা।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৭৩ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে গতকাল ১৪৭ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এক লিটন দাস ছাড়া বাকিরা ব্যস্ত ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের জন্য যেটা ব্যাটিং স্বর্গ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য সেটাই যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১২০ ওভারে ৫৭৩ ডি.(এলগার ১১৩, মারক্রাম ১৪৩, আমলা ১৩২, বাভুমা ৭, ডু প্লেসি ১৩৫*, ডি কক ২৮*; মোস্তাফিজ ০/১১৩, শুভাশিস ৩/১১৮, রুবেল ১/১১৩, সৌম্য ০/২১, তাইজুল ০/১৪৫, মাহমুদউল্লাহ ০/৩৫, মুমিনুল ০/৬, সাব্বির ০/১৬)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২.৫ ওভারে ১৪৭ (ইমরুল ২৬, সৌম্য ৯, মুমিনুল ৪, মুশফিক ৭, মাহমুদউল্লাহ ৪, লিটন ৭০, সাব্বির ০, তাইজুল ১২, রুবেল ১০, মোস্তাফিজ ০, শুভাশিস ২*; রাবাদা ৫/৩৩, অলিভিয়ার ৩/৪০,পারনেল ১/৩৬, মহারাজ ১/৭, পেহলুকওয়ে ০/২৮)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস (ফলোঅন): ৪২.৪ ওভারে ১৭২ (ইমরুল কায়েস ৩২, সৌম্য সরকার ৩,মুমিনুল ১১, মুশফিক ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৪৩, লিটন ১৮, সাব্বির ৪, তাইজুল ২, রুবেল ৭, শুভাশিস ১২, মোস্তাফিজ ৭; রাবাদা ৫/৩০, অলিভিয়ার ১/৩৯, পেহলুকওয়ে ৩/৩৬)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ২৫৪ রানে জয়ী।