১১ ডিসেম্বর২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ১৪২৫
1024x90-ad-apnar

ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

Wednesday, 07/03/2018 @ 5:25 pm

ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রমাণ করে ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তখন ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কোনও অধিকার ছিল না। যেখানেই বাজানো হতো সেখানেই বাধা দেওয়া হতো। কিন্তু শত নির্যাতন-বাধার পরও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ ভাষণ বাজিয়েছিলেন। শত চেষ্টার পরেও এই ভাষণ কেউ মুছে ফেলতে পারেনি।

বুধবার বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একটা ভাষাভিত্তিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করিয়েছিল জাতির পিতা। এদেশের মানুষ ছিল শোষিত-বঞ্চিত, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, রাজনৈতিক মুক্তির জন্যই আন্দোলন করেছিলেন তিনি। কিন্তু এর ফরে তিনি গ্রেফতার, নির্যাতিত হয়েছেন, বারবার বন্দি হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ান নি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর হাতে সময় পেয়েছিল জাতির পিতা। এ অল্প সময়ে একটা দেশকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জাতির পিতা সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে (১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট) চরম আঘাত আসে, কি অন্যায় তিনি করেছিলেন। দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে সে দেশের উন্নয়ন কিভাবে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ যেখানে শিশুপার্ক ঠিক সেখানে সেদিনের মঞ্চ ছিল। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে উপস্থিত থাকার। জাতির পিতা সেখানে দাঁড়িয়েই ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। তার সে ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। সত্যি প্রতিটি ঘর দুর্গ গড়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। পাকিস্তানিরা যখন গণহত্যা শুরু করলো তখন বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়ারলেস ব্যবহার করে স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলে, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। উন্নয়নের সুফল গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে। মানবতার কথা চিন্তা করে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা বুঝি তাদের কষ্ট। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু যারা মানবতাবিরোধী কাজ করছে আপনাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে।’