১৯ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৪ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

আজ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

Thursday, 10/05/2018 @ 5:49 pm

আজ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

নিউজ ডেস্ক; যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের অত্যাধুনিক মডেল ‘ব্লক ফাইভ’ এ চড়ে, আজ বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১২ মিনিটে) মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

আর এর মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে যোগ হতে যাচ্ছে সাফল্যের আরেকটি পালক।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত বাংলাদেশি এখন অরল্যান্ডোমুখী। তারা সাক্ষী হতে চান সেই ইতিহাসের, যা তাদের কাছে ছিল শুধুই স্বপ্নের মতো।

৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ কক্ষপথের দিকে ছুটবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে। এই লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকেই ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১।

স্পেসএক্স এবারই প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে তাদের ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ফাইভ মডেল ব্যবহার করতে যাচ্ছে। ব্লক ফাইভ স্পেসএক্সের একটি অনন্য রকেট, যা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।

স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষের মতে, এই রকেট উৎক্ষেপণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি আবারও উড়তে সক্ষম। এমনকি এটি ১০ বার পর্যন্ত বহন কাজে সক্ষম। মূলত মহাকাশে একই রকেটের মাধ্যমে একাধিকবার নভোচারী বহনের উপযোগী হিসেবেই ব্লক ফাইভ রকেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নাসার নিয়ম অনুযায়ী, নভোচারী বহনের আগে এটিকে ৭ বার মানুষবিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে আজ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে প্রথমবারের মতো উড়তে যাচ্ছে ব্লক লাইভ রকেট।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন লাগবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। সরকার আশা করছে, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সেই অর্থ সাশ্রয় হবে।

এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট সুবিধাসহ ৪০টি সেবা পাওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, সেই সাথে অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটানের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর আয় হবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্যাটেলাইটের আয়ু হবে ১৫ বছর।