২২ সেপ্টেম্বর২০১৮, ৭ আশ্বিন১৪২৫
1024x90-ad-apnar

অব্যবস্থাপনার আরেক নাম ম্যাক্স হসপিটাল

Monday, 09/07/2018 @ 10:53 am

নিউজ ডেস্ক  ::     অভিযানে এসে নগরের বিতর্কিত ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার এমন করুণ দৃশ্যই দেখলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম তিনি বলেন মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে চলছে রোগ নির্ণয়। ডিপ্লোমা সনদহীন নার্সরাই দিচ্ছেন সেবা। নেই দক্ষ প্যাথলজিস্ট। অপারেশন থিয়েটারে অনুমোদনহীন ওষুধ। ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স নেই। এককথায় হাসপাতালজুড়েই অবস্থাপনার সৃষ্টি।

রোববার (০৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি ডা. দেওয়ান মো. মেহেদি হাসান, ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান প্রমুখ।
প্রায় চারঘণ্টা ব্যাপী এ অভিযান চালিয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন সারওয়ার আলম। তিনি জানান, এসব অনিয়ম বিবেচনা করে হাসপাতালটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও আগামী ‍১৫ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলো পরিপূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে রোগ নির্ণয়: সারওয়ার আলম জানান, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে। এসবের মধ্যে দক্ষ প্যাথলজিস্ট ও জনবল নেই, কোনো মাইক্রোবায়োলজিস্ট নেই এবং যারা রোগ নির্ণয়ের জন্য কাজ করেন তাদের ডিপ্লোমা সনদ নেই। এমনকি যে রি-এজেন্ট দিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয় সেটিরও মেয়াদ নেই!

তিনি জানান, রোগীদের বেশিরভাগ পরীক্ষার রিপোর্ট পপুলার, এপিকসহ বাইরের ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে করে আনা। তারা বাইর থেকে রোগ নির্ণয় করে আনলেও তাদের নিজের নামে চালিয়ে দিতো। এমনকি যে ডাক্তার রিপোর্টটি তৈরি করতো তার সই না দিয়ে অন্য ডাক্তারের সই থাকতো।

কিছু কিছু রিপোর্টের স্যাম্পল তারা বিদেশেও পাঠিয়েছেন। সাধারণত কোনো স্যাম্পল বিদেশে পাঠাতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। এক্ষেত্রে তারা অনুমতি নেয়নি। যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ম্যাক্স হাসপাতাল টেস্ট বাণিজ্যে জড়িত উল্লেখ করে সারওয়ার আলম বলেন, আমরা বিভিন্ন টেস্ট রিপোর্ট দেখেছি। তারা বাইরে থেকে রোগীর টেস্ট করে এনে অর্ধেকেরও বেশি টাকা লাভ করতো। একজন রোগীর টেস্টে ৫০০ টাকা ফি আসলেও এক হাজার টাকা নিয়ে নিতো। ৫০০ টাকা ম্যাক্স হাসপাতাল রেখে বাকি ৫০০ টাকা বাইরের ডায়গনস্টিক সেন্টারকে দিয়ে দিতো।

ফার্মেসির লাইসেন্স নেই: ম্যাক্স হাসপাতালের অষ্টম তলায় নিজস্ব ফার্মেসির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এরপর থেকে লাইসেন্সবিহীন চলছিল। এ ছাড়া ফার্মেসিতে অনুমোদিত ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নেই বলে জানান সারওয়ার আলম ।

অপারেশন থিয়েটারে অনুমোদনহীন ওষুধ: অপারেশন থিয়েটার খুবই সেনসিটিভ। কিন্তু ম্যাক্স হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে পাওয়া গেছে অনুমোদনহীন ওষুধ। যেগুলোর সোর্স অথেনটিক নয়। এ ছাড়া কিছু ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ পেয়েছেন বলে জানান সারওয়ার আলম।

তিনি বলেন, আমরা চাই না কোনো রোগী বিদেশে চিকিৎসাসেবা নিতে যাক। কোনো রোগী বিনা চিকিৎসা বা হয়রানির শিকার হোক। ভালো চিকিৎসাসেবা পাওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা চাই দেশের চিকিৎসাসেবা উন্নতমানের হোক। সেজন্য নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমাদের এ অভিযান।

অভিযান চলবে: অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ রাখার ব্যাপারে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। প্রত্যেককে আইন মানতে হবে। কোনো রোগীকে যদি কেউ সেবা না দিতে চায়, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এটি অপরাধ। কারণ একজন ব্যক্তির চিকিৎসাসেবা পাওয়া তার মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার। যারা এ কাজ ব্যাহত করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসাসেবার কিছু ভুল ত্রুটির কারণে বৃহৎ একটি শ্রেণি দেশের বাইরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। দেশের চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। তাই ভুল ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে এ অভিযান।

বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করার কারণে অভিযানে প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অভিযান চলমান থাকবে। তারা যদি চিকিৎসাসেবা বন্ধ করেও দেয় কোনো সমস্যা নেই। সরকারি হাসপাতাল আছে, সেখানে রোগীরা চিকিৎসাসেবা নেবে। আমাদের সরকারি হাসপাতালই সেবা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা অব্যবস্থাপনার সমাধান না করলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্তা করে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামনিউজ/এসএ

বাংলা ক্যালেন্ডার